দুঃসংবাদের রেশ না কাটতেই সুচির জন্য আসছে আরো দুঃসংবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: একের পর এক দুঃসংবাদ মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির জন্য। তাকে দেয়া আন্তর্জাতিক অনেক সম্মাননা কেড়ে নেয়া হচ্ছে। তাকে দেয়া বিশেষ সম্মাননা ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব অক্সফোর্ড’ কেড়ে নেয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল। এ বিষয়ে চূড়ান্ত ভোট হবে ২৭ শে নভেম্বর। এর রেশ কাটতে না কাটতেই সুচিকে দুঃসংবাদ দিচ্ছে সিটি অব লন্ডন। তারা সবেমাত্র গত মে মাসে ‘অনারারি ফ্রিডম’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে। কিন্তু মিয়ানমারের ভিতরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যে নৃশংসতা চালানো হচ্ছে এবং সে বিষয়ে তিনি কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় তার সেই পদকও কেড়ে নিতে পারে সিটি অব লন্ডনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

এ জন্য ডিবেট বা বিতর্কে অংশ নিতে এর সদস্যদের আহ্বান জানিয়ে ইমেইল পাঠানো হয়েছে। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য গার্ডিয়ান। এতে বলা হয়, সুচিকে সম্মান জানিয়ে ওই পুরস্কার দিয়েছিল সিটি ক্লাব লন্ডন। কিন্তু তার দেশে যে অবস্থা বিরাজ করছে তার প্রেক্ষিতে পুরস্কারটি কেড়ে নিয়ে বিতর্কে বসছে কর্তৃপক্ষ দ্য স্কয়ার মাইল। এর কিছু কাউন্সিলর সুচির আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছেন। সহকর্মীদের এমন চাপ ও মিয়ানমারের ভিতরে ক্রমাগত নৃশংসতার রিপোর্ট বেরিয়ে আসায় সিটি অব লন্ডন করপোরেশনের নেতারা ওই বিতর্কের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই বিতর্কে সিদ্ধান্ত হবে সুচির পুরস্কার কেড়ে নেয়া হবে কিনা।

এর পলিসি ও রিসোর্স কমিটির চেয়ার এবং আইনজীবী ক্যাথেরিন ম্যাকগিনেস এরই মধ্যে সব কাউন্সিলরের কাছে ওই বিতর্কের আমন্ত্রণ জানিয়ে ইমেইল করেছেন। তাতে তিনি মিয়ানমারে ভয়াবহ অবস্থা এবং সেনাবাহিনীর চালানো নৃশংসতার বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। মুনসুর আলী নামে একজন সদস্য একটি ইমেইল পাঠিয়েছিলেন ক্যাথেরিনকে। তাতে তিনি বলেছিলেন, তিনি একটি প্রস্তাব আনবেন সুচির নিন্দা জানিয়ে। তাতে তার দেশের সেনাবাহিনীর চালানো নৃশংসতাকে চ্যালেঞ্জ করা হবে এবং কমিটি তাকে দেয়া সম্মাননা পুরস্কার কেড়ে নেবে কিনা তা নির্ধরণ করতে। তিনি ওই ইমেইলে আরো বলেছেন, অন্য অনেকের মতো আমিও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

একজন লন্ডনার হিসেবে স্বাধীনতা ও সমতার অধিকার ভোগ করি এবং তা বিশ্ববাসীকে জানাতে চাই। তার চেয়েও বড় কথা হলো আমি বাঙালি হেরিটেজের একজন মানুষ। এ নিয়ে মুনসুর আলী আলোচনা করেছেন আরেক সদস্য থমাস অ্যান্ডারসনের সঙ্গে। তিনিও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত সপ্তাহেই খবর বের হয় যে, সুচিকে দেয়া সম্মানসুচক ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব অক্সফোর্ড’ পদক কেড়ে নিতে যাচ্ছে অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল। তারা গত সপ্তাহেই এ বিষয়ে সর্বসম্মত ভোট দিয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও পরিষদের সদস্যরা ২৭ শে নভেম্বর স্পেশাল মিটিংয়ে বসবেন। সেই বৈঠকেই কেড়ে নেয়া হতে পারে সুচির পদক। এই কাউন্সিলের নেতা বব প্রাইস পদক কেড়ে নেয়ার এ প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি রোহিঙ্গা সংখ্যাগরিষ্ঠদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার পক্ষ নেয়ার জন্য মিয়ানমারের নেত্রী, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সুচি আন্তর্জাতিক তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছেন।

এ কারণে তাকে দেয়া বৃটেনের বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের দেয়া সম্মাননা কেড়ে নেয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে তার আলামত দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, অং সান সুচির স্বামী অরিস একজন বৃটিশ। এ জন্য সুচি যখন মিয়ানমারে গৃহবন্দি অবস্থায় কাটান ১৫ বছর, তখন তার প্রতি বৃটিশদের সহানুভূতি ছিল বেশি। তাই তারা তাকে সম্মানে ভূষিত করে। তা ছাড়া সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের জন্য তিনি লড়াই করছিলেন। মাথা নত করেন নি তাদের রক্তচক্ষুকে। তাই তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দিয়েছে নোবেল শান্তি কমিটি। কিন্তু তিনি মুক্তি পাওয়ার পর নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সেই সামরিক জান্তাদের সঙ্গে সরকার গঠন করেছেন ভাগাভাগির ভিত্তিতে।

এখন সেনাবাহিনী যে সুরে কথা বলছে, সুচিও সেই একই সুরে কথা বলছেন। তিনি রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নৃশংসতার নিন্দা জানান নি। ১৯ শে সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, ৫ই সেপ্টেম্বর থেকে সেনা অভিযান বন্ধ রয়েছে রাখাইনে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে তার উল্টো। এখনও সেখানে নৃশংসতা অব্যাহত আছে। তাই এখনও কমপক্ষে এক লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আসতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মাধ্যম। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে আপোসহীন লড়াইয়ের কারণে তাই তাকে যারা সম্মানিত করেছিল, পদক দিয়েছিল তারাই এখন তা কেড়ে নিতে চাইছে।