‘ফুটবলের কাছে বিশ্বকাপটা মেসির পাওনা’

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- হরহামেশাই অভিযোগ করা হয়, মেসি শুধু তার ক্লাবের জন্য খেলে থাকেন। জাতীয় দলের জন্য তার অবদান মোটেই উল্লেখ করার মতো কিছু নয়।

কিন্তু লিওনেল মেসি যে শুধু ক্লাব ফুটবলার নন, তা আবারও প্রমাণ করলেন। আগের ম্যাচে পেরুর সঙ্গে সতীর্থদের অসংখ্য গোলের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতায় জয়ের মুখ দেখতে পারেননি মেসিরা।

তাই এবার বাঁচামরার লড়াইয়ে ইকুয়েডরকে হারানোর কোনো ভালো বিকল্প ছিল না লাতিন আমেরিকার দেশটির। এবার আর সতীর্থদের ওপর নির্ভর করেননি এই ভিনগ্রহের খেলোয়াড়। পিছিয়ে থেকেও একে একে ইকুয়েডরের জালে বল জড়িয়েছেন তিনবার। সেই মেসির কাছে পুরো ফুটবল বিশ্বকে ‘ঋণী’ বলে মনে করেন আর্জেন্টিনার কোচ হোর্হে সাম্পাওলি।

ইকুয়েডরের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয়ের পর মেসিকে এভাবেই স্তুতিতে ভাসিয়েছেন কোচ, “আমি দলকে বলেছিলাম, মেসির কাছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ পাওনা নেই; উল্টো ফুটবলের কাছে বিশ্বকাপ পাওনা আছে মেসির।”

“নতুন একটা বিশ্বকাপে খেলতে পারার জন্য আমাদের উচিত তাকে সাহায্য করা। সে ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। তার কাছাকাছি থাকতে পারায় আমি ভীষণ শিহরিত।”

গত দুইবারের কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেও শিরোপা জেতা হয়নি মেসির আর্জেন্টিনার। গত বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ফাইনালে হেরে ভাঙে শিরোপা স্বপ্ন। সাম্পাওলি মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন, ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে মেসি যেন আরেকটি সুযোগ পাক। মেসি ছাড়া বিশ্বকাপের আসর অপূর্ণ বলে মনে করেন সাম্পাওলি।

তিনি বলেন, “বিশ্বকাপ মেসি ছাড়া হতে পারে না। আমাদের সেটা মাথায় রেখে খেলতে হবে। সেই পরিস্থিতির চাপে আমরা এখন শক্তিশালী। ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে এই বাছাইপর্ব আমাদের আরও শক্তিশালী করবে।”

টানা তিন ড্রয়ে শেষ রাউন্ডের আগে ষষ্ঠ স্থানে থাকা আর্জেন্টিনা ছিল ভীষণ শঙ্কায়। ম্যাচটি আবার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৮৫০ মিটার উঁচুতে কিটোয়ে যেখানে ২০০১ সালের পর জেতেনি আর্জেন্টিনা। অসাধ্য সাধনের ভার ছিল অধিনায়ক আর দলের সেরা খেলোয়াড় মেসির কাঁধেই। বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ডও দেখালেন কেন তাকে বলা হয় বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি