ঝালকাঠিতে নিষেধাজ্ঞায়ও চলছে ইলিশ নিধন: অসাধু জেলেরা নানা কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছে ইলিশ আহরণ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: সরকারি নিশেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও আদেশ অমান্য করে জাল ফেলছে ঝালকাঠির বিষখালি নদী পাড়ের জেলেরা। চলছে মা ইলিশ নিধন।

জেলা প্রশাসন ইলিশ ধরা প্রতিরোধে পাহারা দিয়েও থামাতে পাড়ছেনা। একশ্রেণির অসাধু জেলেরা বিভিন্ন কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছে ইালশ আহরণ। ঝালকাঠি জেলার ৫ নদীর মোহনায় ২৪ ঘন্টাই চলছে ইলিশ ধরার মহোৎসব।

দেশের নদ-নদীগুলোতে ইলিশের বংশ বৃদ্ধি করতে ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ইলিশ ধারার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এই সময়ে মা ইলিশ ডিম ছাড়তে নদীতে আসে। ঝালকাঠি জেলার ৫ নদীর মোহনায় ইলিশের অবাধ বিচরণ থাকায় এর আশে পাশে গড়ে উঠেছে একাধিক জেলে পাড়া। ঝালকাঠির রাজাপুর, কাঠালিয়া, নলছিটি ও বাকেরগঞ্জ উপজেলার নেয়ামতি এবং বরগুনা জেলার বেতাগি উপজেলার নৌ সীমানা নিয়ে এই ইলিশ জোন গঠিত।

গত ৭ অক্টোবর সেখানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় অবাধেই চলছে ইলিশ ধরার পালা। ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় কলা গাছের ভেলা সহ বিভিন্ন কৌশলে তারা জাল ফেলছে নদীতে। ট্রলারযোগে নদীর ভিতরে যাবার পর ক্যামেরা দেখে পালাতে শুরু করে জেলেদের কেউ কেউ। এ সময় কয়েক জেলে জানান, ইলিশ ধরা ঠিক না হলেও সরকারি ভাবে কোন সাহায্য না পেয়ে পেটের দায়ে ইলিশ ধরতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

একদিকে সংসারের অভাব অপরদিকে বিভিন্ন এনজিওর কাছ থেকে নেয়া লোন ও দাদনের টাকার বোঝা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কাটাছে এখানকার অনেকগুলো জেলে পরিবার। তাই জেল জরিমানার ঝুকি থাকলেও এখানে ইলিশ আহরণ চলছে।

স্থানীয় জেলে ও জেলে পরিবার এবং এলাকাবাসী জনানয়, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রীতিষ কুমার মল্লিক জানান, এক তারিখ থেকে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, মৎস্য অধিদপ্তর সন্বনিত ভাবে নদীতে এবং বাজারে দিনে ও রাতে অভিযান এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

এর ভেতরেও কিছু অসাধু জেলে প্রশাসনের চোঁখকে ফাঁকি দিয়ে নদীতে নেমে মাছ ধরছে তবে প্রশাসন এবং মৎস্য বিভাগ সচেতন আছে। মা ইলিশ রক্ষায় আমাদের টিম রাত দিন সচেস্ট আছি। ইতোমধ্যেই সাত জন জেলেকে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। ২৮ হাজার ৯শ’ মিটার কারেন্ট জাল আটক করে ধ্বংশ করা হয়েছে এবং ১শ’ আট কেজি ইলিশ আটক করে বিভিন্ন এতিম খানায় বিতরণ করা হয়েছে। নিষিদ্ধকালীন সময়ে জেলেদেরকে প্রনোদনা দেয়ার ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কোনো বরাদ্ধ পাওয়া যায়নি। তবে আশা করা যাচ্ছে খুব তারাতারি জেলেদের জন্য কিছু চাল অথবা প্রনোদনা দেয়ার ব্যবস্থা হবে।

এদিকে প্রশাসন বলছে, জেলেদের সচেতন করতে ব্যপক প্রচার প্রচারনার চালানো হয়েছে। সাধ্যমত সহযোগিতাও করা হয়েছে। তবে এতকিছুর পরও এক শ্রেণির অসাধু জেলেরা ইলিশ ধরতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। নদীর এসব স্থানে মৎস বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন গ্রাফি ও এ্যঙ্কর দিয়ে জেলেদের জাল আটক করতে সক্ষম হচ্ছে। ইলিশ নিধন বন্ধে জেল জরিমানার পাশাপাশি জেলেদের জন্য প্রয়োজন পুন:র্বাসন। তা না হলে ইলিশ আহরণ বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে জেলেদের দাবী।

নজরুল ইসলাম/রবি