নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে কক্সবাজারের ভূগর্ভস্থ পানি দূষণের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত করণীয় বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সজীব আহমেদ, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়নমেন্টাল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আয়োজনে কক্সবাজারের ভূগর্ভস্থ পানি দূষণের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত করণীয় বিষয়ক দিন ব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার এনভায়নমেন্টাল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন হলে দিন ব্যাপী এ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য (দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এ এম এম শামসুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. মোঃ হুমায়ুন কবীর, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন বিভাগ ড. মোঃ আনিসুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক, বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক মোঃ শামসুল আলম, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম সহ উক্ত কর্মশালায় কক্সবাজারের পানি ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, শীর্ষ কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও অন্যান্য গণ্য-মান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ গ্রহন করেন।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ সরকার এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কোয়াটারনারী রির্চাস (ইনকোয়া) এর আর্থিক সহায়তায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে কক্সবাজারের ভূগর্ভস্থ পানি দূষণের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত করণীয় নির্ধারনের জন্য “Understanding of paleoclimate change and pathways to increasing resilience in a changing climate among urban communities of Cox’s Bazar municipality and its adjacent area, Bangladesh” শিরোনামে জানুয়ারী ২০১৭ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত ৩ বছর মেয়াদী একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটি কক্সবাজার তথা বাংলাদেশের সকল উপকূলীয় এলাকার জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজার শহর ও হোটেল জোনসহ পার্শবর্তী এলাকার ভগর্ভস্থ পানির টেকসই উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন নীতিমালা প্রণয়ণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।

উক্ত কর্মশালায় প্রকল্পের প্রধান গবেষক ও সভাপতি ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকী তার গবেষণার প্রাথমিক প্রাপ্ত ফলাফল উপস্থাপন করেন, যা সকলের দৃষ্টিগোচর হয় এবং পানীয় জলের দূষণের মাত্রা কিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় সে ব্যাপারে অংশগ্রহনকারীসহ সকলের মাঝে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ড. সিদ্দিকী বলেন, কক্সবাজারে আগত পর্যটক ও স্থানীয় জনগণের চাহিদা মিটানোর জন্য কোন রকম বৈজ্ঞানিক তথ্য- উপাত্ত ছাড়াই নতুন নতুন বহুতল আবাসিক হোটেল নির্মাণের সাথে সাথে পানীয় জলের জন্য হোটেলগুলোতে ভূগর্ভস্ত পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে কক্সবাজার শহর ও হোটেল জোনসহ পার্শবর্তী এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের ভারসাম্যতা নষ্ট হচ্ছে। ফলে স্থানটি সমুদ্রের খুব কাছে হওয়ায় সমুদ্রের লবনাক্ত পানি হোটেল জোনসহ পার্শ্ববর্র্তী এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির আধারে প্রবেশ করে পানযোগ্য সুপেয় পানিকে ইতিমধ্যেই দূষিত করছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, হোটেল জোনের ভূপৃষ্ঠে এবং ভূগর্ভের বালিতে তেজস্ক্রিয় পদার্থ থোরিয়াম, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ মোনাজাইট এবং জিরকন নামক খনিজ পদার্থ বিদ্যমান। মাত্রাতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের প্রভাবে বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় পদার্থ থোরিয়াম, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ মোনাজাইট এবং জিরকন নামক খনিজ পদার্থগুলো ভূগর্ভস্থ পানিতে মিশে যেতে পারে। ফলে দূষিত পানি পানের কারণে স্থানীয় জনগণসহ আগত পর্যটকদের ক্যান্সারসহ অন্যান্য মারাত্বক রোগের প্রাদুর্ভাবের আশংকা করা হচ্ছে, যা বর্তমানে আমরা সচেতন না হলে কক্সবাজারে বিকাশমান পর্যটন শিল্পের জন্য একটি হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে।

কক্সবাজার অঞ্চলের জন্য জনস্বাস্থ্য সর্ম্পকিত সমস্যার গভীরতা ও এর করণীয় সর্ম্পকে সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ ও প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করে কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।