রাজধানীতে সাংবাদিকের ওপর চড়াও সার্জেন্ট মুস্তাইন

পলাশ মল্লিক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট- বিকাল আনুমানিক ৫টা। রাজধানীর মৎস্য ভবনের বিপরীত দিকের পুলিশ বক্সের সামনের রাস্তায় একটি মটর সাইকেল রাস্তায় পড়ে আছে। পাশেই একজন লোককে পুলিশ তার টি-শার্ট ধরে টানাটানি করছে।

একপর্যায়ে সে যুবকটিকে রাস্তার পাশের ফুলের বাগানের ভিতর পড়ে যেতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের কাছে যেতেই বুঝতে পারি তিনি সাংবাদিক। তার হাত থেকে ক্যামেরা কেড়ে নেয়া হয়েছে। এবং শরীরের জোড় দিয়ে তাকে টেনে হিচড়ে পুলিশ বক্সের ভিতরে নেয়ার চেষ্টা করছেন পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু ওই সাংবাদিক বার বার বলছিলেন আমাকে হাপ্পর মারলেন কেন? কথা শুনে বুঝতে পারলাম সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলা হয়েছে। সাংবাদিককে মারধর করেছেন মুস্তাইন নামে ট্রাফিক পুলিশের এই সার্জেন্ট।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বিকাল আনুমানিক ৫টার সময় মৎস ভবনের বিপরীতে পুলিশ বক্সের সামনে। পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে এ দৃশ্যটি চোখে পড়ে “সময়ের কন্ঠস্বর”এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট পলাশ মল্লিকের চোখে।

জানতে পারি, ওই ফটো সাংবাদিকের নাম নাসির উদ্দিন। তিনি মানবজমিন পত্রিকায় কাজ করেন। প্রেস ক্লাব থেকে অফিসে যাওয়ার পথে মৎস্য ভবনের সামনে তাকে আটকে গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চান সার্জেন্ট মুস্তাইন। কাগজপত্র ঠিক থাকলেও তার সঙ্গে হেলমেট না থাকায় একটি মামলা দিতে চান সার্জেন্ট। মামলা না দেয়ার অনুরোধ করলেও তিনি শোনেননি এবং মামলা দেন।

এ সময় নাসির ব্যাগ থেকে ক্যামেরা বের করার সঙ্গে সঙ্গে তার পরিহিত টিশার্ট ধরে চড়-থাপ্পড় মেরে পুলিশ বক্সে নিয়ে যান ওই সার্জেন্ট। নাসির জানান, ‘আমি সার্জেন্টকে জানাই তিন-চারদিন আগে আমার হেলমেট চুরি হয়েছে। বেতন পেলে কিনব। কিন্তু তিনি কোনো কথা না শুনেই আমাকে মামলা দেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক-দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) রিফাত রহমান শামীম গনমাধ্যমকে বলেন, আমার নির্দেশনায় ট্রাফিক-দক্ষিণের সহকারী কমিশনার (এসি) ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য যান। প্রাথমিক তদন্তে সার্জেন্ট মুস্তাইনের ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’ পাওয়া গেছে। এজন্য তাকে ক্লোজ করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি