লালমোহনের ফুলবাগিচা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীদের সিমাহীন দুর্ভোগ

হাসান পিন্টু, লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:

ভোলার লালমোহন উপজেলার আর কয়েকটি বিদ্যালয়ের মতই নাম করা ফুলবাগিচা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। তবে বাকি বিদ্যালয়গুলোর থেকেও এখানকার শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগটা সিমাহীন। বিদ্যালয়ে নেই টিউবয়েল। নেই ছাত্রদের টয়লেটের কোন সুবিধা। তবুও এ ব্যাপরে উদাসিন বিদ্যালয়টির কর্তাব্যক্তিরা। নিজেদের মনের মত পরিকল্পনায় চলে তাদের বিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও মাসিক বেতন আদায় করছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সে অনুযায়ী তেমন কোন সেবা পাচ্ছে না এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। টিউবয়েল না থাকার কারণে বাজারে গিয়ে পানি পান করতে হয় তাদের।

দুর্ভোগের মাত্রাটা তীব্র রুপ ধারণ করে তখনই যখন বিশেষ করে ছাত্রদের প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে হয়। বিদ্যালয়টিতে টয়লেট না থাকার কারণে ছাত্রদের যেতে হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টয়লেট অথবা বাজারের অন্য কোন টয়লেটে। এনিয়ে ছাত্রদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র অভিযোগ করে বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে টয়লেট থাকা শর্তেও বিদ্যালয়ের শিক্ষদের কারণে আমরা তা ব্যবহার করতে পারছি না। একইভাবে বিদ্যালয়ের ২ টি টিউবয়েল রয়েছে তাও র্দীঘ দিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। যার কারণে আমাদের বাজারে গিয়ে বিভিন্ন দোকানে পানি খেতে হয়। এ কারণে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। তাই আমরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এবিষয়ে সুদৃষ্টি কামনা করছি।

বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোসলেহ উদ্দিন মিলন জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের টয়লেটটির মেরামতের কাজ চলছে। আর টিউবয়েলগুলোকে খুব দ্রুত মেরামত করা হবে।

লালমোহনে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

 

ভোলার লালমোহনে ১৭ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার ৬ অক্টোবর উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সৈয়দাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, স্থানীয় একটি মহল এ ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ধর্ষকের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময় ধর্ষককে কোন প্রকার শাস্তি বা আইনের আওতায় না দিয়ে ছেড়ে দেয়।

ধর্ষিতার বাবা জাফর অভিযোগ করে বলে, সৈয়দাবাদ এলাকার হোসেনের ছেলে রাসেল (১৯) বিভিন্ন সময় ওই কিশোরীকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছে। গত শুক্রবার ৬ অক্টোবর তার মা-বাবা বাড়ীতে না থাকায় বৃদ্ধ দাদীকে নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে পরে। এই সুযোগে রাসেল সন্ধ্যা থেকে ওৎ পেতে থাকে। রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে রাসেল জাফরের ঘরে ডুকে তার মেয়েকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় তার ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে রাসেলকে ওই ঘরের ভিতর থেকে আটক করে।

তিনি আরো বলেন, পরের দিন সকালে স্থানীয় কথিত জেলে সর্দার মোবারক মাঝি ঘটনার মিমাংস করার নামে ধর্ষকের পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। রাসেলের বর্তমান বাড়ি চরফ্যাসনের ওমরপুর ইউনিয়নের পূর্ব চৌমহনি এলাকায়। নদীতে মাছ ধরার সুবাধে সে সৈয়দাবাদের তার দাদার বাড়িতে থাকতো।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রাসেল মোবাইল ফোনে তার বক্তব্যে বলেন, ওই মেয়ের সাথে আমার কোন প্রেমের সম্পর্ক নেই। তবে আমি এমনিতেই ওদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। পরে তারা আমাকে আটকে রাখে।

এ ঘটনায় স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার শাহাদাতের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি তবে ছেলে-মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত না হওয়ায় আমরা বিবাহ পড়াতে পারিনি। আমি মেয়ের পরিবারকে চেয়ারম্যান সাহেবকে ঘটনাটি জানানোর জন্য বলেছি।

চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিয়া বলেন, আমি ঘটনাটি একটু ভিন্ন রকম শুনেছি। মোবারক মাঝি আর করিম মাঝি তাদের আটক করে জোরপূর্বক টাকা আদায় করে।

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ূন কবীর বলেন, এ ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। যদি অভিযোগ দায়ের করা হয় তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।