‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নোবেল পুরস্কারের খবরটি কিসের ভিত্তিতে তা তদন্ত করে দেখা উচিত’

সময়ের কণ্ঠস্বর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, বাংলাদেশে সরকার ঘনিষ্ঠ একশ্রেণীর সংবাদ মাধ্যম ছড়ালো যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় নিশ্চিতভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন। কিসের ভিত্তিতে এবং কি উদ্দেশ্যে তারা এই কাজটি করলো তা সরকারের এবং সৎ সাংবাদিকদের তদন্ত করে দেখা উচিত।

নিজের ফেসবুক পেইজে এক স্ট্যাটাসে তিনি এই দাবি করেন। তার স্ট্যাটাসটি সময়ের কণ্ঠস্বরের পাঠকদের জন্য নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলো:-

‘বিদেশী যেসব সংবাদ মাধ্যম দেখতাম সেখানে নোবেল শান্তি পুরস্কার যারা পেতে পারেন তাদের মধ্যে পোপ ফ্রান্সিস, এঙ্গলা মার্কেল, হোয়াইট হেলমেট, বা ইরানের পারমানবিক মুল চুক্তির আলোচকদের নাম দেখতাম।’

‘অথচ বাংলাদেশে সরকার ঘনিষ্ঠ একশ্রেনীর সংবাদ মাধ্যম ছড়ালো যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় নিশ্চিতভাবে এই পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন।’

‘কিসের ভিত্তিতে এবং কি উদ্দেশ্যে তারা এই কাজটি করলো তা সরকারের এবং সৎ সাংবাদিকদের তদন্ত করে দেখা উচিত।’

সরকার ঘনিষ্ঠ সংবাদ মাধ্যম বলে পরিচিত সৈয়দ বোরহান কবীর সম্পাদিত বাংলা ইনসাইডারে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলো-

নোবেল শান্তির সংক্ষিপ্ত তালিকায় শেখ হাসিনা

নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০১৭ এর জন্য মনোনীত ১০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ৬ অক্টোবর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করবে। ওই দিনই নোবেল কমিটি এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ৩১৮ টি নাম আসে। এটি নোবেল শান্তি পুরস্কারের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নাম। গত বছর ৩৭৬ জনের নাম এসেছিল। নোবেল কমিটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে মনোনয়ন প্রস্তাব গ্রহণ করে। ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখের মধ্যে তারা তাদের প্রস্তাব জমা দেন। নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০১৭ এর জন্য মনোনীতদের মধ্যে ২১৫ জন ব্যক্তি এবং ১০৩ প্রতিষ্ঠান। মার্চে এই তালিকা থেকে যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে তা প্রেরণ করা হয় উপদেষ্টা মূল্যায়নের জন্য। জুলাই মাসে উপদেষ্টা মূল্যায়ন চূড়ান্ত হয়। উপদেষ্টা মূল্যায়নের ভিত্তিতে সংক্ষিপ্ত একটি তালিকা উপস্থাপিত হয় কমিটির কাছে। কমিটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে পুরস্কার প্রদান করেন।

নোবেল কমিটি কখনো নামের তালিকা বা সংক্ষিপ্ত তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনা। তবে, যারা মনোনয়ন দেন এবং বিভিন্ন সূত্রে সংক্ষিপ্ত তালিকা বেরিয়ে আসে।

এবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় নাম আছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাঁর জিরো টলারেন্স এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে তিনি শান্তির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। সংক্ষিপ্ত তালিকায় সিরিয়ার শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের নামও রয়েছে। এছাড়াও সিরিয়ার শরণার্থীদের উদ্ধার কাজে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপ হোয়াইট হেলমেটও আছে সংক্ষিপ্ত তালিকায়।

আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন এর নেতা সুসান এন হারম্যানের নামও সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছে।

মার্কিন পিস গ্রুপ কোড পিঙ্ক এবং ‘গ্লোবাল এক্সচেঞ্জ’ মানবাধিকার গ্রুপ এর সহ প্রতিষ্ঠাতা মেডা বেঞ্জামিনও নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন।

নরওয়ের শান্তি শিক্ষাবিদ জন গ্যালটাঙ্গের নাম সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকে। তিনি শান্তিবাদী তরুণ সমাজ বিনির্মাণের আন্দোলনের একজন প্রবক্তা।

এছাড়াও শান্তি সংগঠন ‘ওয়ান বিলিয়ন অ্যাক্ট অব পিস’, পোপ ফ্যান্সিসের নাম সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।