গাজীপুরে রকিব সরকারসহ ৫৭ জনের নামে হত্যা মামলা

পলাশ মল্লিক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর: গাজীপুরে ডিশ ব্যবসায়ীর সহযোগী আমির হামজাকে (২৬) হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক রকিব সরকারসহ ৫৭ জনের নামে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে জয়দেবপুর থানায় মামলাটি (নং ৭১) করেন নিহতের স্ত্রী মমতাজ বেগম।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বগুড়া শহরের সারুলী পশ্চিমপাড়া এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে আমির হামজা মহানগরের তেলিপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতো। পাশাপাশি স্থানীয় মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে রনি সরকারের মালিকানাধীন ‘সরকার ক্যাবল ভিশন’ নামক ডিস ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিল। স্থানীয় রকিব সরকার ও রনি সরকারের সাথে ডিস ও ঝুট ব্যবসাসহ এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে জয়দেবপুর থানায় ৭(৪)১৭, ১৩৬(৮), ও ১১১(৯)১৭ নং মামলা হয়। দুই পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে ভোগড়া (সরকার বাড়ি) এলাকার মৃত শামসুদ্দিন সরকারের ছেলে মো. রকিব সরকারের (৩২) নেতৃত্বে আমির হামজাকে হত্যা করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেন বাদী। এ মামলায় আরো ৫৬ জনকে আসামি করা হয়।

জয়দেবপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, ১৪৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২ ও ১১৪ দ-বিধিতে মামলাটি দায়ের হয়েছে।

জানা গেছে, ডিশ ব্যবসা নিয়ে রনি সরকারের সঙ্গে অনেক দিন ধরেই স্থানীয় রকিব সরকারের বিরোধ চলছিল। ওই পক্ষটি রনির ব্যবসা দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। শনিবার রাতে রনির তেলিপাড়ার নির্মাণাধীন বাসা থেকে পুলিশ দুটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। পরে রনিসহ পাঁচজনকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাড়িতেই রনির ডিশ ব্যবসার অফিস।

ওই ঘটনার কিছুক্ষণ পর কয়েকজন দুর্বৃত্ত ডিশ অফিসে গিয়ে আমির হামজাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে সার্ডি এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে যায়। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে রাত ৩টায় আমির হামজার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. ইরশাদুল্লাহ জানিয়ে ছিলেন, নিহতের ডান বাহু, বাঁ কনুই ও হাতে ধারালো অস্ত্রের চারটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠির আঘাতের কালচে দাগ রয়েছে। একটি হাত ও পা ভাঙা। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

জয়দেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের স্ত্রী থানায় এজাহার দাখিল করেছে। মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে, তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনার সাথে কারা জড়িত, প্রকৃত খুনি কারা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রকৃত খুনিদের নাম বেরিয়ে আসবে।