বিদ্যালয় সংস্কারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার হাজীগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় সংস্কারের টাকা আত্মসাতসহ নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল হাশেম এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ স্থানীয় সংসদ ও সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বরাবরে দায়ের করেছেন। যার অনুলিপি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানাগেছে, আদিতমারী উপজেলার হাজীগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ক্ষুদ্র মেরামত বাবদ ১ লক্ষ ৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ টাকা উত্তোলন করে প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ মাত্র ২০ হাজার টাকা খরচ করে ছোট দুটি কক্ষে রংয়ের কাজ করেন। আর বাকি সমুদয় টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও তিনি অত্র প্রতিষ্ঠানে ১১ মার্চ যোগদানের পর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গায় পার্শ্ববর্তী স্কুল এন্ড কলেজকে ঘর করার অনুমতি প্রদান করেন। শুধু তাই নয়, টাকার বিনিময়ে তিনি স্কুলের জায়গায় দোকানঘর করারও অনুমতি দিয়েছেন।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীও জানান এলাকাবাসী।

এদিকে বিভার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে সরকারী গাছ কেটে বিক্রিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে। এ সংক্রান্ত একাধিক প্রতিবেদন কয়েক অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশ হয়। পরে এসব অভিযোগের সত্যতায় প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদকে হাজীগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী করা হয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল হাশেম বলেন, প্রধান শিক্ষক অত্র প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকে নানা ধরনের অনিয়ম করেই চলেছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়া হয়। তাই নিরুপায় হয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কমিটির লোকজন টাকা মারতে না পেরে আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ দিয়েছে। এর বাইরে আর কোন কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

আদিতমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার চাঁন মিয়া অভিযোগের অনুলিপি পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগটির তদন্ত চলছে।