আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চাই না: সেতুমন্ত্রী

সময়ের কণ্ঠস্বর: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চাই না। আমরা চাই বিএনপি নির্বাচনে আসুক। সবদলের অংশগ্রহণেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আমাদের কাম্য। কিন্তু তারা নির্বাচনে না আসলে কী আমরা জোর করে আনতে পারবো?’

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘এবার নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপি অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়তে পারে। ফলে তাদের উচিত নির্বাচনে এসে অন্তত নিজেদের অস্তিত্বটুকু রক্ষা করা।’

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্তর্জাতিক চাপে মায়ানমার সুর নরম করলেও এটা তাদের আসল রূপ নয়। ফলে তিনি জাতিসংঘের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা মায়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করুন। এখানে যারা এসেছে, এদেরকে আপাতত অন্যান্য দেশে স্থানান্তরিত করুন। এই বোঝা আমরা আর বইতে পারছি না। আমাদের পক্ষে অসাধ্য হয়ে গেছে।’

সেতুমন্ত্রী এও বলেন, ‘এখনো স্রোত আসছে, অপ্রতিরোধ্য স্রোত রোহিঙ্গাদের। আমরা কোথায় রাখব। আমাদের এখানে সামাজিক বিপর্যয়, রাজনৈতিক বিপর্যয়, অস্ত্র আসছে। কে না জানে এখানে রোহিঙ্গা স্রোতের সঙ্গে ইয়াবা স্রোত আসছে। কাজেই এটা আমাদের সামাজিক জীবনে সাংঘাতিক একটা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। আমাদের জনজীবনের প্রভাব অত্যন্ত ডেনজারাস (বিপজ্জনক)।’

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করেনি। মায়ানমারে বসনিয়া ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।

বিএনপির সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘যদি কূটনীতি উদ্যোগ ব্যর্থ হত তাহলে মায়ানমারের সুর নরম হল কীভাবে? মায়ানমার রোহিঙ্গাদের বিতাড়ণ, নির্যাতন করে এটা চরম পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে, তাদের অবস্থান অনড় সেটা বুঝিয়ে দিয়েছিল। এখন তো মায়ানমারের মন্ত্রী আসার পর একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের সুর যদি নরম না হতো অবস্থানের যদি পরিবর্তন না হতো তাহলে মায়ানমারের মন্ত্রী কীভাবে বাংলাদেশে আসে আলোচনা করে? জয়েন্ট ওয়ার্কিং করে? আমাদের সব কিছুর জন্য ধৈর্য্য ধরতে হবে। ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হবে। আমরা যদি তাদের ফাঁদে পা দেই তাহলে গোটা অঞ্চলের ক্ষতি হবে।’

মায়ানমার কয়েকবার সীমানা লঙ্ঘনের ব্যাপারে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা কয়েকবার সীমানা লঙ্ঘন করেছে। কিন্তু সবার চাপে এটা এখন আর করছে না।’