নরসিংদীর বেলাবতে কলেজ ছাত্রের গলাকাটা লাশ উদ্ধার, স্বজনদের অভিযোগ পরিকল্পিতভাবে হত্যা!

মো. হৃদয় খান, স্টাফ রিপোর্টার: নরসিংদীর বেলাবতে কলেজ ছাত্রের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে জেলার বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কুকুরমারা গ্রামের একটি পেঁপে বাগান থেকে সোহরাব হোসেন মুছা (১৯) নামে এক ব্যাক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, গ্রামে প্রভাবশালীদের যাত্রা আয়োজনে বাধা দেয় গ্রামের তরুনরা । আর এই যাত্রা আয়োজনে বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে মুছাকে।

নিহত সোহরাব হোসেন মুছা রায়পুরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র। সে নারায়ণপুর ইউনিয়নের খামারচর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের লোকজন জানায়, কলেজছাত্র সোহরাব হোসেন মুছা প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও খামারচর গ্রামের বাড়িতে নিজের কক্ষে ঘুমিয়ে

থাকেন। সঙ্গে ছিলেন চাচাতো ভাই বাচ্চু। সকালে কক্ষে বাচ্চু ঘুমিয়ে থাকলেও কলেজছাত্র মুছাকে পাওয়া যায়নি। স্বজনরা বাচ্চুর কাছে মুছার কথা জানতে চাইলে সে জানায়, রাতে বাইরে গিয়ে আর ফিরে আসেনি।

পরদিন পার্শ্ববর্তী গ্রাম কুকুরমারার একটি পেঁপে বাগানে তাঁর গলাকাটা লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে লাশটি মুছার বলে শনাক্ত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

স্বজনরা জানায়, মুছার কক্ষে থাকা দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই বাচ্চু মাদকসেবী। এক সপ্তাহ আগে সে মাদক মামলায় জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসে। সকালে সে জানায়, রাতে তারা দুজনে ঘর থেকে বের হয়। কিন্তু মুছাকে বাইরে রেখে সে কিভাবে ঘরে ঘুমিয়েছে জানতে চাইলে সে কোনো সদুত্তর দিতে পারছে না।

তার কথা ও আচরণ সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চাচাতো ভাই বাচ্চুকে আটক করে থানায় নিয়েছে। বেলাব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব মিয়া বলেন, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের চাচাতো ভাই বাচ্চুকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকান্ডে একাধিক ইস্যু থাকতে পারে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।