ভুরুঙ্গামারীতে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীর ভুয়া নামে টাকা তোলার অভিযোগ

ফয়সাল শামীম, নিজস্ব প্রতিবেদক-  ভুরুঙ্গামারীতে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুয়া ছাত্র-ছাত্রীর তালিকা দেখিয়ে উপবৃত্তি, বই ও বিস্কুট তুলে আন্তসাৎ করার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন সরকারী দফতরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

এলাকাবাসী ও অভিযোগ সুত্রে জানা যায় , উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১নং পরশুরামেরকুটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাটি পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্তির পর থেকে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক নওসাদ আলী সরকারী নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে নিজ ইচ্ছামত মাদ্রাসাটির পরিচালনা করায় মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙ্গে পরেছে। মাদ্রাসাটিতে নিয়মিত ক্লাস হয় না।

নাম মাত্র সকাল ৯ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত খোলা রেখে দু‘একটি ক্লাস নিয়ে ছুটি দেয়া হয়। এতে শির্ক্ষাথীদের পড়াশোনার চরম ব্যাঘাত ঘটছে। শুধু তাই নয় মাদ্রাসায় ৪০-৫০ জন ছাত্র ছাত্রী মাদ্রাসায় এলেও ঠিকমত পড়াশোনা হচ্ছে না। অথচ ২৫০ থেকে ৩০০ জন ছাত্র ছাত্রীর ভুয়া তালিকা করে তাদের নামে লক্ষ লক্ষ উপবৃত্তির টাকা ও সরকারী বই এবং বিস্কুট উত্তোলন করে প্রধান শিক্ষক আত্মসাত করে আসছে।

এলাকার কয়েকজন অভিভাবক এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে কিছু বলতে গেলে প্রধান শিক্ষক তাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে বলেন, ‘সরকার আমাদের কোন বেতন ভাতা দেয়না তাই আমরা ঠিকমত ক্লাস নিতে পারিনা। কেউ কিছু বলে বা অভিযোগ করে লাভ নেই’।

পরে এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক অভিভাবক প্রধান শিক্ষক নওসাদ আলীর বিরুদ্ধে উপবৃত্তি, বিস্কুট ও বই বিক্রির অভিযোগে গত ৮ আগষ্ট২০১৭ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সহ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলেও আজও সরেজমিন তদন্ত বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জ্যোতির্ময় সরকারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি অফিসের বাইরে আছি পরে জানাবো।

অভিযোগকারী নজরুল ইসলাম, শমসের আলী, ও আব্দুল বাতেন সরেজমিন তদন্তের দাবী জানান।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি