কালিয়াকৈরে কোটি টাকা নিয়ে উধাও ভুয়া সমবায় সমিতি

আলমগীর হোসেন, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বিনিময় শ্রমজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড নামের একটি ভুয়া সমিতির কর্মকর্তারা কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ওই সমিতির ভুক্তভোগী সদস্যরা সমিতি অফিসে এসে কাউকে না পেয়ে বিক্ষোভে ফেটে পরে। অনেকেই সমিতিতে জমানো টাকার জন্য কান্নায় ভেঙ্গে পরেন।

সরজমিনে ওই সমিতি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার প্রিয়া প্রিন্ট সুপার মাকের্টের তয় তলায় শত শত লোকের ভীড়। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত একটি বিশ্বস্ত সমবায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিনিময় শ্রমজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড। যার রেজি নং লেখা হয়েছে ৩৮৪। কালিয়াকৈর উপজেলা সমবায় কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জানা যায় ওই নাম্বারটি ভুয়া। সংস্থার চেয়ারম্যান মোঃ ফারুকুল ইসলাম ফারুক ও এমডি মোঃ মিজানুর রহমান শুভ তালুকদার এমডি বলে অফিসে ভিজিটিং কার্ডে লেখা পাওয়া গেছে। গত ২/৩ মাস আগে ওই ভবনটি ওই সমিতির নামে ভাড়া নিয়ে সমিতির কার্যক্রম চালু করা হয়।

তারা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রতারনা করে অল্প সুদে ঋণ দিবে ও সঞ্চয়ের লাভ দিবে বলে টাকা আদায় করতে থাকে। এ সময় প্রায় ১৫/২০ জন কর্মচারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর টাকা কালেকশন করতে থাকে। দুটি কক্ষ ২০ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে ব্যাংকের মত কাজ চালাতে থাকে। আজ মঙ্গলবার সদস্যদের সঞ্চয় ফেরত ও ঋণ বিতরন করবে বলে সদস্যদের অফিসে আসতে বলে। সদস্যরা সকালে অফিসে গেলে ম্যানেজার সদস্যদের কাছ থেকে টাকা তুলে বিকেলে ঋণ প্রদান ও সঞ্চয় ফেরত দিবে বলে তাদের বসিয়ে রেখে কর্মকর্তারা পালিয়ে যায়।

দীর্ঘক্ষন অপেক্ষা করে তাদের দেখা না পেয়ে সদস্যরা বিক্ষোভে ফেটে পরে। এ সময় সদস্যরা হতাশায় পরে যায়। দুটি কক্ষে চেয়ার টেবিল আসবাবপত্র ও কিছু কাগজপত্র রয়েছে। পরে স্থানীয়রা থানা পুলিশে খবর দিলে দুপুরে পুলিশ এসে সদস্যদের বুঝিয়ে শান্ত করে দুটি রুমে তালা দিয়ে দেয়। সদস্যরা ওই সমিতিতে এক হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত জমা রেখেছে।

প্রাথমিকভাকে গ্রাহকের টাকার পরিমান প্রায় কোটি টাকা হবে বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে তাৎক্ষনিক আতাউর নামের এক সদস্যের ৫০ হাজার, আলাল নামে ২৭ হাজার, জাহাঙ্গীর ২১ হাজার, সুমন ৩০ হাজার, ফরিদ ৫০ হাজার, রাসেল ২০ হাজার, শহিদুল ৩০ হাজার, সুমন ৩০ হাজার, খাদেমুল ৭০ হাজার, সুজন ১২ হাজার, মাহবুব ৮ হাজার, আব্দুল মজিদ ৫০ হাজার টাকার পাশ বই নিয়ে অপেক্ষায় বসে রয়েছে। এদের প্রত্যেককেই প্রতি ১০ হাজার টাকা সঞ্চয়ের জন্য ১ লক্ষ টাকা ঋন দেওয়ার কথা ছিল।

গ্রাহক ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন জানান, ওই সমিতিতে ৪৫ হাজার টাকা জমা করেছি। ৫ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা। কিন্তু দুপুরে অফিসে এসে দেখি কেউ নেই সবাই পালিয়েছে। এমন শত শত লোককে টাকা দিবে বলে আসতে বলেছে। এখন আমরা কি করবো ওই সমিতির কর্মকর্তারা প্রায় কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে।

গ্রাহক আব্দুল মজিদ জানান, আমি একটি ঘর করবো। আমাকে তারা বলে ৫০ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা দেন আমরা আপনাকে ৫ লক্ষ টাকা দিব। সেই মতে গতকাল সন্ধ্যায় অনেক কষ্ট করে ৫০ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা দিয়েছি। আজ আমাকে ৫ লক্ষ টাকা ঋন দেওয়ার কথা। সকালে অফিসে এসে জানতে পারি তারা সবার টাকা নিয়ে পালিয়েছে।

এ বিষয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) ওসমান গনি বলেন, বিনিময় শ্রমজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড কর্মকর্তারা গ্রাহকের সাথে প্রতারনা করে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পালিয়েছে। ওই অফিসে কিছু আসবাবপত্র ছাড়া কিছুই নেই। গ্রাহকরা সকাল থেকে ঘুরছে কাউকে পাচ্ছেনা। অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।