আজ কবি শাহ আজিজুর রহমানের ১০৩ তম জন্মবার্ষিকী

এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: আধুনিক বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম দিকপাল কবি ও গীতিকার শাহ আজিজুর রহমান কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। আজ তার ১০৩তম জন্মবার্ষিকী।

সাহিত্য চর্চা শুরু করার আগে এই মহান শিল্পী নাটকে অভিনয়ের কাজ শুরু করেন। পুরানো অভিনেতাদের নিয়ে গড়ে তোলেন নাটকের দল। অভিনয় করতেন শিলাইদহে ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়। এই অভিনয়-কর্মের ফলে কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার বেশ সুনাম হয়। সেকালের বিশিষ্ট অভিনেতা ধীরেন দত্ত, উপেন ঠাকুররাও অংশ নিতেন নাট্যাভিনয়ে।

আজিজুর রহমান মুসলিম বীরদের জীবন ভিত্তিক নাটক মঞ্চায়নে বেশী উৎসাহ বোধ করতেন। কামাল পাশা, টিপু সুলতান, সিরাজউদ্দৌলা নাটকের মঞ্চায়ন তার সাংগঠনিক ক্ষমতার পরিচায়ক। তিনি এই তিনটি নাটকের অভিনয়ের মাধ্যমে মুসলিম শৌর্য-বীর্যের প্রতি দর্শকের নজর ফেরাতে চেয়েছিলেন। পরাধীন ভারতে মুসলমানদের পুনর্জাগরণের স্বপ্ন দেখাতেন কবি আজিজুর রহমান। তিনি এবং তার জ্ঞাতি ভ্রাতা সমবয়সী হাসান ফয়েজ তাদের অঞ্চলে সর্বপ্রথম পায়জামা ও শেরোয়ানী পরিধান করেন। এ জন্য তাদেরকে অনেক পরিহাস বাক্য শুনতে হয়েছিলো।

তিনি দেশসেবা করার উদ্দেশে কংগেসে যোগদান করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান অবিভক্ত বাংলার প্রাক্তণ মন্ত্রী শামসুদ্দীন আহমদের বড় ভাই মওলানা আনসার উদ্দিনের অনুপ্রেরণায় মুসলিম লীগে যোগদান করেন। রাজনীতিতে তিনি যতটা সক্রিয় ছিলেন তার চেয়ে বেশী ছিলেন সমাজ সেবায়। মুসলমানদেরদৈন্য দশায় তিনি খুব পীড়িত বোধ করতেন এবং তাদের গৌরবময় অতীত ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মতৎপরতায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। মুসলিম যুব সমাজকে গঠনমূলক কাজের প্রতি উৎসাহী করে তোলার উদ্দেশে ১৯৩৪ সালে ‘তরুণ জামাত’ নামে একটি সংগঠন তার প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংগঠনটির সদস্যরা বিভিন্ন জনহিতকর কাজে আত্মনিয়োগ করে। এরা নিয়মিত শরীরচর্চা ও কুচকাওয়াজ করতো। ব্যায়াম ও শরীর চর্চার প্রতি আজিজুর রহমানের বরাবর উৎসাহ ছিলো।

জীবনের শেষ দিকে নয় বছর ডায়াবেটিকে ভূগে শরীর ভেঙে না পড়া পর্যন্ত তিনি ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন। পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি উচ্চতার এই মানুষটির শরীর দেখলে বুঝা যেত একদা তিনি নিয়মিত শরীর চর্চা করতেন। কিশোর বয়সে প্রায়ই তিনি সূর্যোদয়ের সময় গড়াই নদীর কাদামাটি শরীরে মেখে নদীর তীরে বসে থাকতেন। তাকে এই অবস্থায় দেখে দুই একজন প্রাতঃভ্রমণকারীভয়ও পেতেন। তার পিতাময়ের নামে তিনি ১৯৩৪ সালে ‘চাঁদ স্মৃতি পাঠাগার’ স্থাপন করেন। এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ পাঠাগার হিসাবে ঐ অঞ্চলে প্রসিদ্ধি লাভ করে। দূর দূরান্ত থেকে বই পুস্তকের খোঁজে পাঠকগণ এই গ্রন্থাগারে আসতেন।