নাগেশ্বরীতে পেট্রোল পাম্পের ২০ গজ দুরে তৈরী হচ্ছে ইটভাটা

ফয়সাল শামীম, নিজস্ব প্রতিবেদক: কুড়িগ্রামে সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে লাইসেন্স ছাড়াই একটি পেট্রোল পাম্পের ২০ গজ দুরে আবাদী জমিতে তৈরী করা হচ্ছে ইটভাটা।

ভাটার আগুনে পাম্পের ক্ষতির আশঙ্কায় বন ও পরিবেশ দপ্তরসহ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই পেট্রোল পাম্প মালিক।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের আলেপের তেপথি নামক স্থানে প্রায় ছয় বছর আগে ‘মেসার্স সততা ফিলিং স্টেশন নামের ডিজেল ও পেট্রোল পাম্প স্থাপন করেন আবু হানিফ। ওই পাম্প সংলগ্ন কয়েক গজ দুরে ‘ডিএ ব্রিকস্’ নামের ইটভাটা স্থাপন করছেন নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। ইট ভাটায় ইট পোড়ানোর সময় সব সময় আগুন থাকবে। কাছাকাছি পেট্রোল ও ডিজেল থাকলে বড় ধরণের দুর্ঘনার আশঙ্কায় পেট্রোল পাম্পের মালিক বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন সততা ফিলিং স্টেশনের মালিক আবুু হানিফ। আবু হানিফ অভিযোগ করেন, নীতি বহির্ভূতভাবে পাম্প সংলগ্ন জমিতে ইটভাটা দিচ্ছে। ইট পোড়ানো শুরু হলে যেকোন সময় আমার পেট্রোল পাম্পে আগুন লাগতে পারে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রশাসনের অনুমোদন না নিয়েই ইটভাটার কাজ প্রায় শেষ করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স নেননি নজরুল ইসলাম। সরকারি নিয়ম না মেনে জনবসতিপূর্ন এলাকার মাঝে তিন ফসলি জমিতে ভাটা স্থাপন করায় চারদিকের বাড়ি ও রয়েছে শত শত গাছপালার বাগান নষ্টের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। এলাকাবাসী জয়নাল, মতিন ও কাশেম আলী জানান, কিছু জমির মালিককে লাভের আশা দেখিয়ে লিজ নিয়ে ভাটা তৈরী হচ্ছে। কিন্তু পাশে আমাদের শত একর জমির আবাদ নষ্ট হবে।

এ বিষয়ে ডিএ ব্রিকসের মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, কাজ গত বছর শুরু করেছি। এ বছর এসে তার সমস্যা হলো। এটা ব্যবসায়িক শত্রুতা। লাইসেন্স ও ছাড়পত্রের বিষয়ে বলেন, লাইসেন্স জন্য আবেদন করেছি। এখনো পাইনি।

বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নাগেশ্বরী উপজেলা কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম শাহিন জানান, বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (স্বার্বিক) স্যার আমাকে বলেছেন। তার নির্দেশ মত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুড়িগ্রাম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (স্বার্বিক) রফিকুল ইসলাম সেলিম বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দেখবো।