তানোরে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৫২ প্রাথমিক বিদ্যালয়

অসীম কুমার সরকার, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

রাজশাহীর তানোর উপজেলার ৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এছাড়া ১০টি বিদ্যালয়েও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে প্রধান শিক্ষকের কাজ। সহকারী শিক্ষকদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব তাদের কাঁধে এসে পড়ায় দাফতরিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা বাড়তি চাপে পড়ছেন। এদিকে, অভিভাবকরা বলছেন, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ খালি থাকায় বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ১২৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৫২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। আর সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে তানোর পৌরসভায় ২জন, মুন্ডমালা পৌরসভায় ৫জন, পাঁচন্দর ইউনিয়নে ১৪জন, সরনজাই ইউনিয়নে ২জন, তালন্দ ইউনিয়নে ৩জন, চাঁন্দুড়িয়া ইউনিয়নে ১জন, কলমা ইউনিয়নে ১৪জন, বাধাইড় ইউনিয়নে ৫জন, কামারগাঁ ইউনিয়নে ৬জন।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকেরা অবসরে যাওয়ায় এসব বিদ্যালয়ে প্রধানের পদ শূন্য হয় যায়। এখন পর্যন্ত নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হয়নি। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে এই প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। তবে, প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য বেশি রয়েছে পাঁচন্দর ও কলমা ইউনিয়নে। এই দুই ইউনিয়নে প্রধান শিক্ষক ২৮জন না থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

অভিভাবকরা জানান, শিক্ষার্থীদের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা কম। এতে শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়। সেজন্য শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে তেমন মনোযোগ দিতে পারেন না। তাই কমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ভিতটা দুর্বল হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়গুলোর শূন্যপদ পূরণ করে পাঠদান কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনার দাবি জানান এসব অভিভাবকরা।

উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সইমুদ্দিন বলেন, প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সভা, প্রতিবেদন তৈরি ও দাফতরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। সহকারী শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিয়ে থাকেন। প্রধান শিক্ষক না থাকলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ করতে হয় সহকারী শিক্ষকদের। তাই তাদের পক্ষে সঠিকভাবে পাঠদান করানো কঠিন হয়ে পড়ে। এতে করে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে তানোর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শামীম আহম্মেদ খান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, সব বিদ্যালয়ে দাফতরিক কার্যক্রম প্রধান শিক্ষক নিয়ন্ত্রণ করেন। এ কারণে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে নানা সঙ্কট। শিক্ষক সঙ্কটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে। এ সংক্রান্ত একটি মামলা বিচারাধীন থাকায় পদোন্নতি আটকে আছে। অতি দ্রুত শিক্ষক সঙ্কট কেটে যাবে বলে জানান তিনি।