আশুলিয়ায় সোর্সের সাথে বাকবিতন্ডার জের ধরে ব্যবসায়ীকে মাদক মামলায় ফাঁসালো পুলিশ

মোঃ মনির মন্ডর, নিজেস্ব প্রতিবেদক:

আশুলিয়ায় সোর্সের সাথে বাকবিতন্ডার জের ধরে আমিনুল (২৫) নামের এক ব্যাবসায়ীকে গ্রেফতারের পর টাকা না পেয়ে মাদক মামলায় ফাসিয়ে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের হাতে আটক হওয়া ব্যবসায়ীর বাবা সাবেক ইউপি সদস্য সফুরউদ্দিন এ অভিযোগ করেন। এমনকি ওই ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করার সময় আর মামলায় উল্লেখ করা সময়ের সাথেও কোন মিলও খুজে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও ২৪ ঘন্টা পার হয়ে গেলেও তাকে আদালতে না পাঠিয়ে থানা হাজতে রাখা হয়েছে। এঘটনায় ইয়ারপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য সফুরউদ্দিনসহ তার ছোট ছেলে পাপ্পুকে মামলায় পলাতক আসামী করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আশুলিয়া থানার উপ পরিদর্শক (এস আই) আব্দুল আজিজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বৃহস্পতিবার রাত দশটার দিকে ওই ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে বলে স্বীকার করেন। এছাড়াও ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবী করেছেন এমন অভিযোগের কথা অস্বীকার করেন। তবে গ্রেফতারের সময় ও মামলায় উল্লেখ করা সময়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনটি কেটে দেয়। এর পর একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ব্যবসায়ীর বাবা ইয়ারপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য অভিযোগ করে সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, তার ছোট ছেলে পাপু উত্তরার মাইলষ্টোন কলেজের ছাত্র। বুধবার রাতে কলেজ থেকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের বুড়িপাড়া এলাকায় তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। রাত নয়টার দিকে সে বাড়ির সামনে এসে পৌছালে আশুলিয়া থানা পুলিশের সোর্স রাজীবের সাথে তার কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে ব্যাপক বাকবিতন্ডতা শুরু হলে স্থানীয়রা জড়ো হতে থাকে। পের স্থানীয়দের তোপের মুখে ওই সোর্স ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। এর কিছু সময় পরই আশুলিয়া থানার এস আই আজিজকে সাথে নিয়ে তিনি আবারো ঘটনাস্থলে গিয়ে কলেজ ছাত্রের বাবা সাবেক ইউপি সদস্য সফুরউদ্দিনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালায়। এসময় আবারো স্থানীয়রে তোপের মুখে পড়ে এক পর্যায়ে সাবেক ইউপি সদস্যের বড়ো ছেলে আমিনুলকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। এর পরই তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য সোর্স আজিজের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা দাবী করেন। না হলে মাদক মামলায় চালান দেওয়ার হুমকি দেয়।

ব্যবসায়ীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের সোর্স রাজিব তার কাছে ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবী করেন। তবে তার ছেলে কোন অন্যায় করেনি। বিনা কারনে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ কারনে তিনি টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

এদিকে স্থানীয় রাজ্জাক, কিরণসহ একাধিক ব্যাক্তিরা বলেন, বুধবার রাত সাড়ে নয় টার দিকে পুলিশের সোর্স আজিজের সাথে সাবেক ইউপি সদস্যের দুই ছেলে বাকবিতন্ডতা হয়। এর জে¦র ধরে সোর্স আমিনুলকে তাদের বাড়ির সামনে থেকে আটক করে নিয়ে যায়। আমিনুল ব্যবসায়ীক কাজে টাঙ্গাইলে থাকেন। কয়েকদিন আগে বাড়িতে এসেছেন। সোর্স রাজীব তার প্রভাব দেখানোর জন্য এস আই আজিজ কে দিয়ে মিথ্যে মাদক মামলা দায়ের করেছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।

তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য আশুলিয়া থানার উপ পরিদর্শক (এস আই) আব্দুল আজিজ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আমিনুলের দেহ তল্লাশী চালিয়ে বুধবার রাত দশটায় ৫২ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে (২৪)।

এদিকে একজন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের পর আদালতে না পাঠিয়ে ২৪ ঘন্টারও বেশি সময় থানা হাজতে রাখা সম্পর্কে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আওয়ালের কাজে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি সারাদিন থানার বাইরে ছিলেন। এ বিষয়ে খোজ নিয়ে জানানো হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, যদি কোন পুলিশ সদস্য অন্যায় ভাবে এ ধরনের কাজ করে থাকে তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি জানান।