ফাঁস হওয়া প্রশ্নে ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ!

সময়ের কণ্ঠস্বর: ফাঁস হওয়া প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ১৯ মিনিটে মেইলে একটি প্রশ্নপত্র আসে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত হওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ওই প্রশ্নের মিল পাওয়া গেছে।

তবে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম।

শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলে এ ভর্তি পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় প্রতিটি আসনের বিপরীতে লড়েছে ৬১ জন ভর্তিচ্ছু। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কে এম আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির কারণে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

‘ঘ’ ইউনিটে ১২০ নম্বরের বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানের পরীক্ষা হয়। যারা মাতৃভাষা হিসেবে বাংলা পড়েননি, তাদের জন্য বাংলার পরিবর্তে প্রশ্নপত্রে উচ্চতর ইংরেজি অংশ থাকে। আর সাধারণ জ্ঞানের দুটি অংশে থাকে- বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতেই পরীক্ষার্থীদের ইমেইলে ইংরেজি অংশের ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পাঠানো হয়। আর সকালে পরীক্ষা শুরুর আগে মোবাইলে এসএমএস বার্তার মাধ্যমে পাঠানো হয় ফাঁস হওয়া প্রশ্নের উত্তর।

অভিযোগ উঠেছে, টাকার বিনিময়ে এসব প্রশ্নফাঁস করা হয়েছে।

তবে বিষয়টি মানতে নারাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী।

তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের তো প্রশ্নই ওঠে না।

এদিকে শুক্রবার অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৪ জনকে আটকের খবর জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এম আমজাদ আলী।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে সিআইডির সহযোগিতায় এক ছাত্রলীগ নেতাসহ দুজনকে আটক করা হয়।

এর পর শুক্রবার সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরুর পর বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আরও ১২ জনকে আটক করা হয় বলে উল্লেখ করেন আমজাদ আলী।

উল্লেখ্য, এবার ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের এক হাজার ৬১০টি (বিজ্ঞানে-১১৪৭, বিজনেস স্টাডিজে-৪১০, মানবিকে- ৫৩টি) আসনের বিপরীতে ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৯৮ হাজার ৫৪ জন। অর্থাৎ প্রতি আসনের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ৬১ জন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৫৩ ও ক্যাম্পাসের বাইরে ৩৩টি স্কুল-কলেজসহ ৮৬টি কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।