ত্রিমুখি প্রেমের টানাপোড়েনে সাবেক স্ত্রী, শ্যালিকা ও তার প্রেমিকের হাতে নৃশংস হত্যার শিকার যুবক

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বর –

প্রায় বছর তিনেক আগেই প্রথম স্ত্রীর সাথে আলাদা হবার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলো যুবক । কিন্তু ঘটনাক্রমে দ্বিতীয় স্ত্রীর চোখ ফাকি দিয়ে ফের জড়িয়ে পড়েন প্রথম স্ত্রীর সাথে সম্পর্কে । বিবাহ বিচ্ছেদের পর এরই মধ্যে সাবেক স্ত্রীও জড়িয়েছিলেন আরও এক যুবকের সাথে। সাবেক স্ত্রীও সেই যুবকের চোখ ফাকি দিয়ে নুতন করে সম্পর্কে জড়ান সাবেক স্বামীর সাথে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানের সুত্র বলছে, ঘটনার শেষ এখানেই নয়, যুবকের চোখ পড়ে সাবেক শ্যলিকার দিকেও ! অতঃপর নানা  টানাপোড়েন আর সম্পর্কের চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যদিয়ে ত্রিমুখি প্রেমের টানপোড়েনে নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার হলেন যুবক।

সাবেক স্ত্রী, শ্যালিকা ও স্ত্রীর প্রেমিকের হাতে নৃশংস কায়দায় খুন হয়েছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক যুবক। আজ শুক্রবার শুক্রবার সকালে জোরারগঞ্জ থানার সোনাপাহাড় এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ থেকে ঐ যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত ওমর ফারুক (৩০) মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার মেহেদীনগর এলাকার সুজাউল হকের ছেলে। তিনি উপজেলার বারৈয়াহাট এলাকায় কাপড়ের ব্যবসা করতেন।

নিহত যুবকের লাশ উদ্ধারের পর প্রথমিক অভিযোগ ও তদন্তের পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ফারুকের সাবেক স্ত্রী জেসমিন সুলতানা (২৫), শ্যালিকা আবিদা সুলতানা ও জেসমিনের প্রেমিক নুরুল আবছার ওরফে রুবেল (২২) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।

জোরারগঞ্জ থানার ওসি জাহিদুল কবির  সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন,”সকালে লাশ উদ্ধারের পর আমরা স্থানীয়দের কাছ থেকে লাশটি ফারুকের বলে জানতে পারি। পরে তদন্ত করে হত্যার কারণ অনুসন্ধান করি।”

ওসি জানান, পাঁচ বছর আগে ফারুকের সাথে জেসমিনের বিয়ে হয়। বছর খানেক আগে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তাদের ঘরে সাড়ে তিন বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার নাঙ্গলমুরায় জেসমিনদের বাড়ি হলেও তারা জোরারগঞ্জে ভাড়া বাসায় থাকতেন। যেখান থেকে ফারুকের লাশ উদ্ধার করা হয় তার থেকে কয়েকশ গজ দূরে তাদের বাসা।

হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে ওসি জাহিদুল বলেন, ছাড়াছাড়ির পর জেসমিনের সঙ্গে রুবেলের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তবে তা ওমর ফারুক মেনে নিতে পারেনি। বিভিন্ন সময়ে ফারুক জেসমিনকে আবার নিজের কাছে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও সে ফিরে আসেনি।

এছাড়া ফারুক তার শ্যালিকা আবিদাকেও বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছিল বলে জেসমিন পুলিশকে জানায়।

পুলিশ বলছে, জেসমিন ফিরে না আসায় ফারুক বিভিন্নভাবে তাকে ভয়ভীতি দেখাত। এর জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ওসি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ওমর ফারুককে ডেকে নিয়ে জেসমিন, রুবেল ও আবিদা শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ মহাসড়কের পাশে ফেলে যায়। লাশ উদ্ধারের পর ফারুকের সাবেক শ্বশুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফারুকের ছোট ভাই মো. ইব্রাহীম বাদী হয়ে এ ঘটনায় জোরাগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন।