ঘুরে আসুন শাপলা ফুলের বাহারী রঙ্গের মেলায়

মশিউর দিপু, সময়ের কণ্ঠস্বর,  বরিশাল প্রতিনিধি

সোনাঝরা রোদে ঝিকিমিকি করা বাহারী রঙ্গের শাপলার নৈসর্গিক সৌন্দর্যে যে কারো চোখ জুড়িয়ে যাবে। দিগন্ত বিস্তৃত এই রঙ্গের মেলা প্রকৃতিকে সাজিয়েছে অপরূপ সাজে।

শাপলার বাহারী এই রুপে মুগ্ধ হতে আপনাকে যেতে হবে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা, হারতা ও আগৈলঝাড়ার বাঘদা গ্রামে।

প্রাকৃতিক ভাবেই বছরের পর বছর ধরে এই তিন গ্রামের বিলে প্রায় ১৬,শ হেক্টর জমিতে রঙ্গিন শাপলা ফুটছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি এ জনপদের মানুষের ভাগ্যের চাকাও ঘুরছে এই শাপলা বিলকে কেন্দ্র করে।

শাপলা বিল সংলগ্ন এলাকার শতাধিক পরিবার বছরের ছ’মাসই জীবিকা নির্বাহ করছেন এই শাপলা বিক্রি করে। এদের কেউ শাপলা তুলে, কেউবা বিল থেকে মাছ শিকার করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে।

সাধারনত সেপ্টেম্বর অক্টোবর মাসে এই বিলে শাপলা ফুল ফুটে। ডিসেম্বর মাসে শুরুর দিকে শীতের মৌসুমে যখন পানি কমে যায় তখন সব শাপলা মরে যায়। ওই সময় কৃষকরা এখানে ধান চাষ করেন।

ছবি- মশিউর দিপু, সময়ের কণ্ঠস্বর, বরিশাল প্রতিনিধি

আগষ্টের পর থেকেই শাপলা বিলের মনমুগ্ধকর ফুটন্ত লাল শাপলা দেখতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করেন । প্রতিদিনই এই শাপলার রাজ্য দেখতে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণ পিপাসুর দল।

বছরের অধিকাংশ সময় জলমগ্ন থাকা এ বিলে লাল, সাদা ও বেগুনি রংয়ের তিন ধরণের শাপলা জন্মালেও লাল শাপলার আধিক্য বেশি লক্ষনীয়। বিলের ভেতরে প্রবেশ করলে এক পর্যায়ে মনে হবে শাপলার রাজ্যে বন্দি হয়ে আছেন আপনি।

ঠিক কতো বছর ধরে বিলে এভাবে শাপলা জন্মাতে শুরু করেছে সঠিকভাবে সে তথ্য কেউ দিতে না পারলেও স্থানীয় ষাটোর্ধ্ব কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, তাদের জন্মের পর থেকেই এ বিলে এভাবে শাপলা ফুটতে দেখছেন তারা।

ছবি- মশিউর দিপু, সময়ের কণ্ঠস্বর, বরিশাল প্রতিনিধি

যেভাবে যাবেনঃ দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে বিমান, লঞ্চ অথবা বাস যোগে চলে আসবেন বরিশাল। বরিশালের নথুল্লাবাদ বাস স্ট্রান্ড থেকে প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর উজিরপুরের সাতলার উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। ভাড়া ৮০ টাকা। সাতলা গিয়ে স্থানীয় যে কাউকে বললেই আপনাকে দেখিয়ে দিবে শাপলা বিল। অতঃপর বিলে থাকা স্থানীয়দের ছোট ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে হাড়িয়ে যেতে পারেন শাপলার রাজ্যে।