যৌন হয়রানি বন্ধে কেনিয়ার স্কুলগুলোতে বিশেষ উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

রাস্তাঘাটে অথবা যানবাহনে যৌন হয়রানির শিকার হওয়া বিশ্বব্যাপী নারীদের একটি অন্যতম সমস্যা। কেনিয়ার নাইরোবিতে কিছু স্কুলে বিশেষ ক্লাসে শেখানো হচ্ছে কোন ধরনের আচরণ যৌন হয়রানি হিসেবে বিবেচিত, বিশেষ করে গণ পরিবহনে।

এই ক্লাসে আরো শেখানো হচ্ছে যৌন হয়রানির শিকার হলে একজন ভুক্তভোগীর কেমন লাগে এবং কীভাবে তার পাশে দাঁড়াতে হয়। কিন্তু ক্লাসরুমের বাইরে এসব শিক্ষা কতটা ভূমিকা রাখতে পারছে?

এই শিক্ষার জন্য ক্লাসরুমের মধ্যেই নাটকের মতো দৃশ্য সাজানো হয়েছে। এমন পরিবেশ বানানো হয়েছে যেন ঠাসাঠাসি বাসে করে কোথাও যাচ্ছেন মানুষজন। এই ভিড়ের মধ্যে নারী যাত্রী থাকলে কী ধরনের আচরণ যৌন হয়রানি বলে গণ্য হবে ক্লাসে সেটিই শেখানো হচ্ছে।

বাসে নারী যাত্রীদের সাথে কেউ অশোভন আচরণ করলে অন্য যাত্রীরা কী করতে পারেন সেটিও শেখানো হচ্ছে।

‘আমরা প্রশিক্ষণে মূলত যা শিখছি তা হল, কীভাবে মেয়েরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। সেটি যেমন বোঝার চেষ্টা করছি তেমনি কীভাবে তাদের পাশে দাঁড়াতে হয় সেটিও শিখছি,’ বলছিলেন একজন শিক্ষার্থী।

ওই শিক্ষার্থী বলে, নাইরোবিতে যানবাহনে সবসময় খুব ভিড় থাকে। অনেক জায়গাতেই রাস্তাঘাট খানাখন্দে ভর্তি। ভিড়ের মধ্যে হয়ত জায়গা বদল করার দরকার পড়ে বা গাড়ি রাস্তার ভাঙা অংশে পড়ে দুলে ওঠে। যেসব লোকের মনের মধ্যে হয়ত কিছু একটা কাজ করে, এরকম পরিস্থিতিতেই তারা সুযোগটা নেয়।

উযামা নামে একটি প্রতিষ্ঠান নাইরোবির বিভিন্ন স্কুলে এই প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে তারা ৪০ হাজারের বেশি কিশোরকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। উযামা আফ্রিকার কর্মকর্তা ন্যান্সি ওমন্ডি বলছেন তাদের উদ্দেশ্য ছেলেরা যেন সমস্যার কারণ না হয়ে বরং সমস্যা মোকাবেলায় ভূমিকা রাখতে পারে।

ন্যান্সি ওমন্ডি বলেন, আমরা গবেষণা করে পেয়েছি যে ৫২ শতাংশ মেয়ে তাদের বয়ফ্রেন্ডদের দ্বারাই ধর্ষণের শিকার হয়। আমাদের মনে হয়েছে ছেলেদের অবশ্যই এর সমাধানের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তাদের আমরা শেখানোর চেষ্টা করছি যে এখনই সময়। তাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে এবং মেয়েদের জন্য তাদের একটা ভূমিকা রাখতে হবে।