পরিচয় মেলেনি ধর্ষণের পর হত্যার শিকার তরুনীর! গ্রেফতারের পর বহিস্কার হলো ছাত্রলীগের ৪ নেতা

বরগুনা প্রতিনিধি-বরগুনার পাথরঘাটায় কলেজস্টাফ পুকুরে অজ্ঞাত পরিচয় মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায়। এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পাথরঘাটা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুহি আনাল দানিয়াল (২২), সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ছোট্ট (২১), সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম রায়হান (১৯) উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মোঃ মাহমুদ (১৮) ও কলেজের নৈশ প্রহরী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৪)।

ইতমধ্যে বরগুনার পাথরঘাটায় তরুণীকে গণধর্ষণ ও হত্যার পর মরদেহ লুকানোর ঘটনায় জড়িত অভিযোগে গ্রেফতার চার ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সুপারিশে সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তাদের বহিষ্কার করে।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুবায়ের আদনান অনিক জানান, গ্রেফতারের পর ওই চার নেতাকে নিয়ে রোববার রাতে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে জেলা ছাত্রলীগের। পরে রাতেই তাদের দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তাদের দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে।

বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক জানান, চলতি বছরের ১০ আগস্ট দুপুরে পাথরঘাটা কলেজের পশ্চিম পাশের পুকুর থেকে অজ্ঞাত নামা এক তরুণীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে দীর্ঘ সময় ধরে লেগে থাকে বরগুনা থানার পুলিশ। পরে তথ্য পেয়ে গেলো শুক্রবার পাথরঘাটা কলেজের নৈশ প্রহরীকে গভীর রাতে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি পুলিশ। জাহাঙ্গীরের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গত শনিবার রাতে ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদ ও রায়হানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। সর্বশেষ রোববার বিকেলে পাথরঘাটার আদালতে মাহমুদ ও রায়হানের ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হয় কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রুহি আনাল দানিয়েল ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ছোট্টকে।

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া পাথরঘাটা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুহি আনাল দানিয়াল, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ছোট্ট, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম রায়হান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মো. মাহমুদ (বাঁ থেকে)। ছবি : সংগৃহীত

পুলিশ সুপার বিজয় বসাক আরো বলেন, এখনো নিহত তরুণীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে গ্রেপ্তারকৃত দানিয়েল এবং সাদ্দামকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে তরুণীর পরিচয় পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাহমুদ এবং রায়হান এ হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ পুকুরে লুকানোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে পুলিশ সুপার বিজয় বসাক জানান।

সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ঘটনার আদ্যোপান্ত সব কিছু এখনও প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান পুলিশ সুপার বিজয় বসাক।