এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে নতুন বয়স নির্ধারণ

সময়ের কণ্ঠস্বর: মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় ন্যূনতম বয়স ১৪ বছর থেকে বাড়িয়ে ১৬ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখন থেকে ন্যূনতম ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারবে বলে জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে ন্যূনতম ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারত। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষা নীতিমালা চূড়ান্তকরণ সংক্রান্ত কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় সরকারি হাইস্কুলে ভর্তি ফরমের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া এনসিটিবির (জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড) বইয়ের বাইরে থেকে কোনো প্রশ্ন নিয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করা যাবে না। শিক্ষার্থী যে শ্রেণীতে ভর্তির জন্য পরীক্ষা দেবে তার আগের শ্রেণীর বই থেকে প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (মাধ্যমিক) সালমা জাহান বলেন, প্রথম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তির ন্যূনতম বয়স ৬ বছর। এটা কড়াকড়িভাবে অনুসৃত হচ্ছে। এ হিসাবে একজন শিক্ষার্থীর দশম শ্রেণীতে বয়স দাঁড়ায় সর্বোচ্চ ১৬ বছর। তাই এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বয়স হবে ষোলোর্ধ্ব।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত খরচ বেড়ে যাওয়ায় ফরমের দামও বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমদ বলেন, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বয়স সমন্বয়ের জন্য এখন শিক্ষা বোর্ডগুলোতে নির্দেশনা পাঠানো হবে।

সভার একটি সূত্র জানায়, মাউশির কর্মকর্তারা বেসরকারি হাইস্কুলের ফরমের দাম ২০০ থেকে আরও ৫০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এরপর উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে একজন যুগ্ম সচিব সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন হাইস্কুল পরিদর্শন করেন। তিনি দেখেন, অনেক স্কুলে ফরমের দাম ২০০ টাকার কম নেয়া হয়। এরপর মন্ত্রণালয় ফরমের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, তথাকথিত নামকরা স্কুল শুধু বেশি অর্থ নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী। ওইসব স্কুলের দোসর হয়ে মাউশির দু-একজন কর্মকর্তা ফরমের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। তবে এ জন্য কোনো ধরনের প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ করা হয়নি। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) সুপারিশে ভর্তি ফরমের দাম ১৫০ টাকার পরিবর্তে ১৭০ টাকা করা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের সরকারি-বেসরকারি উভয় ধরনের হাইস্কুলে প্রথম শ্রেণীতে লটারির মাধ্যমে ভর্তির আয়োজন করা হবে। ৬ষ্ঠ ও ৯ম শ্রেণীতে যথাক্রমে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষার ফল অনুযায়ী ভর্তি করতে হবে। অন্যসব ক্লাসে পরীক্ষা নেয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণীতে তিনটি বিষয়ে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

চতুর্থ, পঞ্চম, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীতে তিন বিষয়ে (বাংলা, ইংরেজি ও গণিত) ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষায় পাঠ্যপুস্তকের বাইরে থেকে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী যে শ্রেণীতে লেখাপড়া করেছে, সেই ক্লাসের বই থেকে পরবর্তী ক্লাসের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন হবে।

এবারও ভর্তি পরীক্ষায় ক্যাসমেন্ট বা এলাকা কোটা থাকবে প্রতিটি স্কুলের ক্ষেত্রে। ঢাকার ৩৭টি সরকারি হাইস্কুল তিন ভাগে ভাগ করে পরীক্ষা নেয়া হবে। একজন শিক্ষার্থী একই ভাগের একাধিক স্কুলে আবেদন করতে পারবে না। তবে অন্য ভাগের স্কুলে আবেদন করতে পারবে। ভর্তিতে আগের মতো মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, এলাকা, শিক্ষা বিভাগের কোটা থাকবে। পাশাপাশি সরকারি হাইস্কুলের ১০ শতাংশ আসন সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিভাবকের বদলির কারণে শিক্ষার্থীদের বদলি-ভর্তি ছয় মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে। যদি কোনো শিক্ষার্থীর অভিভাবক বদলি হয়ে আসার ছয় মাস পর ভর্তির জন্য আবেদন করে তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

এদিকে সরকারি হাইস্কুলে ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত হলেও ফরম বিতরণ ও পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারিত হয়নি। মাউশিকে এটি চূড়ান্ত করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সংস্থাটির উপপরিচালক (মাধ্যমিক) একেএম মোস্তফা কামাল জানান, সভার কার্যবিবরণী পাওয়ার পর ফের বৈঠক করে পরীক্ষা সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।