ভয়াল ১২ নভেম্বর: নদী তীরে মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের স্মরণ

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
ভয়াল ১২ নভেম্বর নিহতদের স্মরণে উপকূলের নদী তীরে মোমবাতি জ্বালিয়ে উপকূল দিবস পালন করেছে উপকূল বাঁচাও আন্দোলন (উবা)। রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি লঞ্চ ঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদী তীর ও খুলনা শহরের ভৈরব নদীর পাঁচ নম্বর লঞ্চ ঘাটে ব্যতিক্রমি এ উদ্যোগটি পালিত হয়।

১৯৭০ সালের এই দিনে প্রলয়ঙ্কারী ঘুর্ণিঝড়ে দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলের অন্তত ১০ লাখ লোক নিহত হয়। দুঃসহ সেই স্মৃতি আজো কাঁদায় উপকূলবাসীকে। ৪৭ বছর আগের এই দিনটিতে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে লন্ডভন্ড হয়ে যায় পুরো উপকূল।

সেই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে দিনটিকে উপকূল দিবস হিসেবে পালন করেছে উপকূল বাঁচাও আন্দোলন (উবা)।

সেদিনের সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সেই তান্ডবে নিহতদের স্মরণে উপকূল বাঁচাও আন্দোলনের (উবা) উদ্যোগে হাতিয়া দ্বীপের তমরদ্দি লঞ্চঘাটে মোমবাতি প্রজ্জলন করে নিহতদের স্মরণ করা হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন উপকূল বাঁচাও আন্দোলনের (উবা) উপদেষ্টা অধ্যাপক নঈম শামীম খান, হাতিয়া জেলা বাস্তবায়নের আহবায়ক অ্যাডভোকেট ফজলে আজিম তুহিন, উপকূল বাঁচাও আন্দোলনের (উবা) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাংবাদিক শাহেদ শফিক, সাধারণ সম্পাদক ছারোয়ার হোসেন হৃদয়, হাতিয়া শাখার আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আজাদ, সদস্য রাসেল উদ্দিন, নুরুল হাসনাত শাওন, প্রান্ত শাদাত, নিশাদ, নোমান প্রমুখ।

এতে স্মৃতিচারণ করে সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যাপক নঈম শামীম খান বলেন, আমি তখন ছোট ছিলাম। সেদিন ছিল রোজার দিন। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিসহ টানা বাতাস বইছিল সারাদিন। উপকূলের উপর দিয়ে প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যায় ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। আমাদেরকে নিয়ে বাবা মা সবাই চিন্তিত। তারা ভয়ে আমাদেরকে ধানের গোলায় ভরে রাখে যাতে করে আমরা না হারিয়ে যাই। আর জোয়ারে ভেসে গেলেও যাতে গোলাসহ যাতে ভাসি।

তিনি আরও বলেন, সারারাত ঝড় তুফান এই গোলায় বসে কাটিয়ে দিলাম সকালের আলোর চারদিক দেখি গাছের সাথে ঝুলে ছিল হাজারো মানুষের মৃতদেহ। দুর্যোগে গৃহহীন পুরো জেলার মানুষ। আমাদের বাড়িতেও ৫ জন মারা যায়।