বাঞ্ছারামপুরে শীর্ষ সন্ত্রাসী ১৭ মামলার আসামী কামরুল বাহিনীর প্রধান কামরুল গ্রেফতার

বাঞ্ছারামপুর(ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ১৭ মামলার আসামী কামরুল বাহিনীর প্রধান সন্ত্রাসী কামরুল অবশেষে গ্রেফতার হয়েছে। গতকাল সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। গত রোববার রাত সাড়ে ১০টায় রূপসদী গ্রাম থেকে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি তদন্ত মোঃ সাব্বির রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ কামরুলকে গ্রেফতার করে। এলাকায় এই খবর ছড়িয়ে পড়লে সংখ্যালঘু পল্লীসহ আশপাশের এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এলাকাবাসী ও বাঞ্ছারামপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুরের রূপসদী গ্রামের স্বপন মিয়ার ছেলে শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত কামরুল ইসলাম ওরফে চুয়া কামরুল সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে গত কয়েক বছর ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, দাঙ্গাবাজি, মাদক-বাণিজ্য, জবর-দখলসহ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলছিল। শুধু তাই নয়, এলাকায় স্কুল কলেজ পড়–য়া সুন্দরী ছাত্রীকে তুলে নিয়ে বিয়ে এবং বেশ কয়েকজনকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে কামরুলের বিরুদ্ধে। তার কথার অমিল হলেই চলতো নির্যাতন। রূপসদী গ্রামের সংখ্যালঘু পাড়া ও বাজারের ব্যবসায়ীরা নিয়মিত চাঁদা না দেওয়ায় কয়েক দফায় হামলার ঘটনাও ঘটিয়েছে।
এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রূপসদী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবুল বাসার বলেন, “কামরুলকে চাঁদা দেইনি বলে আমাকেও হামলা করেছিল, তাই আমি কামরুল সহ ৮জনকে আসামী করে থানায় মামলা করেছি। কামরুলের চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের কারনে রূপসদী গ্রামের হিন্দু পাড়ার লোকজন চরম অতিষ্ট হয়েছে এবং আমার আওয়ামীলীগের ভাবমুর্তিও নষ্ট হয়েছে।”
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি তদন্ত সাব্বির রহমান বলেন, “বাঞ্ছারামপুরের কুখ্যাত সন্ত্রাসী কামরুল এলাকার বখাটে ছেলেদেরকে নিয়ে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে। তাকে গ্রেফতার করতে আমি কয়েক মাস ধরে খুজছিলাম। তার বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, পুলিশের উপর হামলা, নারী নির্যাতনসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। গত রোববার রাতে তাকে রূপসদী গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে চালান করেছি।”