বরগুনায় ধর্ষণের পর তরুণী হত্যা! শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

এম এ সাইদ খোকন, বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার পাথরঘাটায় ধর্ষণের পর তরুণী হত্যার প্রতিবাদে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানব বন্ধন করেছে স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ। সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে সোমবার দুপুরে বরগুনা প্রেসক্লাব চত্ত¦রে এ প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিৎ করতে হবে।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি সোহেলী পারভিন ছবি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব আব্দুর রশীদ, বরগুনা প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন মিরাজ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি নাজমা বেগম, নারী নেত্রী মাহফুজা বেগম, খালেদা আক্তার সুইটি, হোসনে আরা হাসি, সাংবাদিক সোহেল হাফিজ, মুশফিক আরিফ প্রমূখ।
প্রসঙ্গত, বরগুনার পাথরঘাটায় এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গত দু’দিনে পাথরঘাটা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুহি আনাল দানিয়াল (২২), সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ছোট্ট (২১), সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম রায়হান (১৯) উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মোঃ মাহমুদ (১৮)সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে চলতি বছরের ১০ আগস্ট দুপুরে পাথরঘাটা কলেজের পশ্চিম পাশের পুকুর থেকে অজ্ঞাত নামা এক তরুণীর গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গত ১২ আগস্ট পাথরঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ। সেই থেকে এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে দীর্ঘ সময় ধরে লেগে থেকে এ মামলার রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয় বরগুনা জেলা পুলিশ। সর্বশেষ রবিবার বিকেলে পাথরঘাটার আদালতে ছাত্রলীগ নেতা মোঃ মাহমুদ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়।

 
পাগলামী স্বামীর, অথচ পাগল স্ত্রী ! একজন সন্ধ্যারানী ও তার প্রধান শিক্ষক স্বামীর উপাখ্যান

বরগুনা প্রতিনিধি ।।  সন্ধ্যারাণী এখন পাগল। গ্রামবাসী তা না মানলেও মানেন সন্ধ্যা নিজেই। তার স্বামী ফণীভূষণ যে সমাজে পাগল সাজিয়ে রেখেছেন তাকে। আর দ্বিতীয় আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র ঘর করছেন ফণীভূষণ। তাই নিজেকে পাগল হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আপত্তি নেই সন্ধ্যার। তবে নিজেকে স্বামীর বিরহে পাগল দাবী সন্ধ্যার।

ঘটনার শুরু ২০১৩ সালে। বরগুনার বেতাগী উপজেলার কুমড়াখালী শশীভূষণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফণীভুষণ সিংয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে একই স্কুলের শিক্ষিকা শিখারাণীর সাথে। আর তখন থেকেই সর্বনাশের শুরু সন্ধ্যারাণীর জীবনে। সম্পর্কের  অবনতি ঘটতে থাকে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে। প্রতিবাদ করলে নামে নির্যাতনের খড়গ। হাতপায়ের ভাঙা আঙুলগুলো যার প্রমাণ হিসেবে নিষ্ঠুরভাবে উপহাস করছে। পরকীয়ার এই লীলাখেলায় কম যাননি ফণীভূষণের নতুন সঙ্গী শিখারাণীও। নিজের দুই সন্তানকে রেখে এসেছেন পৈত্রিক নিবাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুরে, ভাইদের বাড়িতে। ছেড়েছেন স্বামী শ্যামল চন্দ্রের ঘরও। দুই শিক্ষকের পরকীয়ায় ঘর ভেঙ্গেছে সন্ধ্যার। আর এই পরকীয়াকে বৈধতা দিতে ফণীভূষণের নানা ছলাকলায় পথে বসেছেন স্থানীয় অনেক লোকজন। অপরদিকে হিন্দু শ্বাস্ত্রের সকল রীতিনীতিকে উপেক্ষা করে শিখারানীকে বিয়ে করে (গোপনে) একত্রে বসবাস করছেন ফণীভূষণ।

শুরু  দিকে কিন্তু এমন ছিলনা পরিস্থিতি। সন্ধ্যার বাধা উপেক্ষা করে যখন শিখা-ফণীর পরকীয়া গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে, তখন নিরুপায় সন্ধ্যারাণী সাহায্যের আবেদন করেন স্কুল কমিটির কাছে। প্রধান শিক্ষকের অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীর আবেদনের ইস্যুতে জরুরী মিটিং ডাকেন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি। একইসাথে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের (০৪ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা) অভিযোগ আনেন স্কুলের ১৭ জন শিক্ষক কর্মচারীর মধ্যে ১৪ জন একযোগে। উভয় অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ০৩ সদস্যের নিরীক্ষা কমিটি গঠন করেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদ। কমিটির তদন্তে দুটি অভিযোগই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায়, বহিষ্কার করা হয় অভিযুক্ত দুই শিক্ষক শিখা ও ফণীভুষণকে।

এদিকে বরখাস্ত  হলেও থেমে থাকেননি ফণীভূষণ সিং। শিখারাণীকে অভিযোগকারী হিসেবে ব্যবহার করে, পাল্টা মামলা দিয়ে বসেন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের বিরুদ্ধে। আর তখন থেকেই ঘটনা মোড় নেয় ভিন্ন দিকে। সূত্রপাত ঘটে ডজন খানেকেরও বেশী মামলা পাল্টা মামলার এক দীর্ঘসূত্রিতার জালের। ফণীভূষণের ভুয়া মামলার হয়রানির শিকার হয়ে পথে বসে এলাকার বেশ কয়েকটি পরিবার। চরম ভাবে বিঘ্ন ঘটে কুমড়াখালী শশিভূষণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার পরিবেশের। আজ অবধি বহাল হয়নি ভেঙে যাওয়া কমিটি। হয়নি নতুন কোনো কমিটিও।

তবে এত অভিযোগ ও মামলার পরও পদ থেকে সরে দাড়াননি প্রধান শিক্ষক ফণীভূষণ। সরে দাড়াননি শিখারাণীও। মামলা নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালতে পৌছায়। রায় বহাল থাকে সন্ধ্যারাণীর অধিকার আদায়ে লড়াইরত স্কুল কমিটির পক্ষেই। দোষী সাব্যস্ত হন ফণীভূষণ। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্কুল কমিটির বহিষ্কারাদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন মহামান্য হাইকোর্টও। (রিট পিটিশন নং- ৫০৬০/১৭ইং, আদেশ- ২৫-০৫-২০১৭ইং)

তবুও অনড় ফণীভূষণ। কোনো এক অদৃশ্য কারনে, এখনও স্বপদে বহাল আছেন কুমড়াখালী শশীভুষণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক ফণীভূষণ সিং এবং তার সহযোগী শিক্ষিকা শিখারাণী। শুধু স্বপদে বহালই নয়। শুরু থেকেই একের পর এক ভুয়া মামলা সাজিয়ে হেনস্তা করতে থাকেন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সহ তার অপকর্মের  বিরোধীতা করা লোকজনকে। আর তাতে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন তার পরকীয়ার সাথী শিখারাণীকে। এরপর একপর্যায়ে ফেঁদে বসেন এক কুটিল ষড়যন্ত্রের জাল।

২০১৫ সালের ০১ জুন শিক্ষিকা শিখারাণীকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ ফেঁদে বসেন স্কুলেরই অন্য তিনজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। যে ঘটনাটি আলোড়ন তোলে দেশের সকল মিডিয়ায়। নির্যাতিতা শিখারাণীর প্রতি করুণা জন্মে দেশব্যাপি জনতার মাঝে। প্রতিবাদে রাজপথে মানববন্ধনে নামেন সুশীল সমাজ। সাধারনের করুনাকে পুজি করে শিখা ও ফণীভূষণ সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেন নিজেদের অবস্থান। আর শিখার মায়াকান্নায় এভাবেই চাপা পরে যায় ফণীভূষণের বিবাহিতা স্ত্রী সন্ধ্যারানীর আর্তনাদ।

ভিলেন যখন নায়কের স্থানে, তখন পথ খুঁজে পাবার উপায় থাকেনা প্রতিবাদকারীদের। ফণীভূষণের এই মোক্ষম চালে, ধরা খেয়ে যান স্কুল কমিটির সদস্যরা। পালিয়ে বেড়াতে থাকেন দিনের পর দিন। মিথ্যার মায়াজালে চাপা পরে যায় সত্য। অন্যদিকে সুযোগের ফায়দা পুরোপুরি তুলে নেন বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক ফণীভূষণ। নানাভাবে হেনস্তা করতে থাকেন তাদেরে পরকীয়ার প্রতিবাদকারীদের। ফেঁদে বসেন ডজনখানেক ভুয়া মামলার ফাঁদ। যার প্রধান শিকার তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি স্বদেশ কুমার রায় সুব্রত। সবগুলো পাতানো মামলারই অন্যতম আসামী করা হয় সুব্রত রায়কে। সমাজে ভিলেন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বদেশ কুমার।

এভাবেই পাশার দান উল্টে প্রতিপক্ষকে চরমভাবে ঘায়েল করে, সমাজে নিজেকে শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন কুমড়াখালী শশীভূষণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফণীভুষণ সিং। বাড়তে থাকে প্রভাব প্রতিপত্তি। ধীরেধীরে মুখ বন্ধ হতে থাকে প্রতিবাদকারীদের। একপর্যায়ে এসব মেনে নিতে বাধ্য হন স্থানীয়রা। সবকিছু মুখবুজে সহ্য করে যেতে থাকেন তারা। সুযোগে হিন্দু শ্বাস্ত্রের সকল রীতিনীতি উপেক্ষা করে, শিখারানীকে নিয়ে একত্রে বসবাস করতে থাকেন ফণীভূষণ। ভাড়া নিয়েছেন স্কুলের পাশেই একটি ভবন। আর তার স্ত্রী সন্ধ্যারাণী, একাকী পরে থাকেন বাড়িতে। নিজের স্ত্রী সন্ধ্যারাণী পাগল হয়ে গেছে, বলে সমাজে প্রচার করে দেন ফণীভূষণ। পেরিয়ে যায় চারটি বছর।

একজন স্থানীয় উন্নয়নকর্মীর মাধ্যমে সন্ধ্যারাণীর সাথে পরিচয় হয় প্রতিবেদকের। “কোন একদিন ভুল ভাঙবে, স্বামী তার কাছে ফিরে আসবে” পাগল সন্ধ্যার এমন আকুতি দেখে তার স্বামী ফণীভূষণের সাথে কথা বলতে গিয়েই বেড়িয়ে যায় থলের বিড়াল। ফণীভূষণ ও শিখা, উভয়ই অপরিচিত কেউ নন। তবে খটকা লাগলো দুজনকে একসাথে দেখে। কারন, ২০১৩ সালে অর্থ আত্মসাৎ ও অনৈতিক কার্যকলাপের দায়ে, এই দুজনকেই বহিষ্কার করেছিলো স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি। তখন তো তারা নিজেদের নির্দোষ দাবী করেছিলো। তবে কি সেটি ছিলো মায়াকান্না? আর তাদের মায়াকান্নায় ভুলেই কি স্কুল কমিটির লোকজনকে অপরাধী হিসেবে জাহির করা? যদিও নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিলেন শিখা ও ফণী। তবে হিন্দু শ্বা¯্ররে র কোন রীতিতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা যায়, তাও আবার আরেকজনের বিবাহিতা স্ত্রীকে (যিনি এখনও জীবিত) তার কোনো উত্তর দিতে পারেননি প্রেমিক যুগল। তবে পুর্বের অনৈতিক কার্যকলাপকে বৈধতা দিতে শিখাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছেন বলে দায়সারা জবাব দিয়ে এড়িয়ে যেতে চাইলেন তারা।

এভাবেই কুটকৌশলে অনৈতিক কর্মকান্ডকে বৈধতা দেয়ার পাশাপাশি, ফণীভূষণ চালিয়ে যেতে থাকেন অর্থ আত্মসাতের প্রক্রিয়াও। রেজিস্ট্রেশন, ফর্ম ফিলাপ, উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন খাতে বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নিতে থাকেন, কুমড়াখালী শশিভূষণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফণীভূষণ সিং। জিম্মি করে রাখেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। স্কুলের ক্লাশরুমে বসে, উপবৃত্তির তালিকায় নাম দিতে প্রধান শিক্ষককে ঘুষ দিতে হয়েছে, বলে প্রকাশ্যেই অভিযোগ করে বেশ কয়েকজন ছাত্র। (নাঈম – ৯ম শ্রেণী, রাহাত -৭ম শ্রেণী, সুজন -৭ম শ্রেণী)। তবে, শিখারাণীর মত এমন মোক্ষম অস্ত্র হাতে থাকায় কোনো প্রতিবাদও করতে ভয় পান ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। মুখ খুললেই শিখারাণীকে লাঞ্চিত করার ভুয়া অভিযোগে ফেঁসে যাবার ভয় তো রয়েছেই। তাই বুক ফাটলেও, মুখ ফোটেনা স্থানীয়দের।

ফণীভূষণের আক্রমণের প্রধান শিকার তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি (স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সুখরঞ্জণ রায়ের কনিষ্ঠ পুত্র এবং স্কুলের স্থায়ী দাতা, বর্তমান ইউপি সদস্য) স্বদেশ কুমার রায় সুব্রত। সবগুলো পাতানো মামলারই অন্যতম আসামী করা হয় সুব্রত রায়কে। সমাজে ভিলেন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বদেশ কুমার।

প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে গিয়ে, নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে অসমর্থ হন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির তৎকালীন সভপতি, স্বদেশ কুমার রায় সুব্রত। জানান, ফণীভূষণের স্ত্রী সন্ধ্যারাণীর মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে তার প্রতিবাদের শুরু। যেকারনে ডজনখানেক মামলার শিকার হয়ে পাঁচ একর জমি বিক্রি করতে হয়েছে তাকে। যার বর্তমান বাজার মুল্য কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। দিনের পর দিন পালিয়ে থেকে এবং কারাভোগ করে এখন তিনি নিঃস্ব। তবু থামেনি তার প্রচেষ্টা। আইনকে প্রতিষ্ঠিত করতে দৌড়ে বেড়ান আদালতের বারান্দায়। যে লড়াই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার। যে লড়াই হতভাগী সন্ধ্যারাণীর অধিকার আদায়ের। তবে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও, তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় কিছুটা হতাশা ভর করছে স্বদেশ কুমারের মনে। জানালেন, নিজের স্বার্থে নয়, একজন স্বামীহারা স্ত্রীর পক্ষে, স্কুলের পক্ষে, স্কুলের শিক্ষার্থীদের পক্ষে, সর্বপরি এলাকাবাসীর পক্ষে লড়াই চালিয়ে নিজেকে উজার করে দেয়ার পরও কোনো ক্ষোভ ছিলোনা। ক্ষোভ ছিলোনা প্রতারক ফণীভূষণকে নায়কের স্থানে বসিয়ে, সমাজ যখন তাকে ভিলেনের স্থানে বসিয়েছিলো তখনও। সমাজের স্বার্থে ক্ষোভ নিবারণ করেছেন যখন ফণীভূষণের সহযোগীরা তার (স্বদেশ কুমার) কন্যাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়েছে তখনও। আর তাই চার বছর কেটে গেলেও, ক্ষোভ ও ঘৃণায় আজঅবধি একবারও স্কুলের বারান্দায় পা রাখেননি স্বদেশ কুমার। কিন্তু উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও যখন তা বাস্তবায়ন করতে গড়িমসি করছেন স্থানীয় প্রশাসন, তখন আইনের প্রতি তার এতদিনের বিশ্বাসে চিড় ধরেছে কিছুটা। আর তাই এখন অদৃষ্টের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন নিজের পরিবার ও স্থানীয়দের ভাগ্যকে।

ঘটনাটি নিয়ে নানা পক্ষ নানাভাবে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে দেয়ায়, পদক্ষেপ নেয়া কষ্টকর বলে স্বীকারও করে নিলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তবে, শিখা ও ফণীর বিরুদ্ধে আদালতের বহিষ্কারাদেশের আদেশ দ্রুত কার্যকর করার আস্বাস দিলেন তিনি।
আর স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির অবর্তমানে পদাধিকার বলে সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানালেন, যেহেতু তিনি মামলার বাদী, সেহেতু তিনিই আদালতের আদেশ দ্রত বাস্তবায়ন করবেন।

তবে এভাবে হয়তো বাস্তবায়ন হবে শিখা ও ফণীভূষণের বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশের পক্ষে আদালতের রায়। হয়তো অবসান হবে, স্কুলকেন্দ্রিক চারবছরের মামলা হামলার। স্কুলটিতে আবারও হয়তো ফিরবে লেখাপড়ার পরিবেশ। ক্লাস রুমগুলো মুখরিত হবে ছাত্রছাত্রীদের পদচারনায়। তবে, তাতে কি ফিরবে সন্ধ্যারাণীর ভাগ্য? ঘুচবে কি সন্ধ্যারাণীর পাগল অপবাদ? আর তাই সন্ধারানী এখনও পথ চেয়ে থাকেন। বলেন, “লোকটিকে না খুব ভালোবাসি আমি। আর তাইতো আমি পাগল। হ্যাঁ, আমি স্বামীর বিরহে পাগল। অবশ্যই ওর ভুল ভাঙবে কোনো একদিন। ওকে ফিরে আসতেই হবে আমার কাছে। তবে তখন, ও কিন্তু আমার বুকে স্থান পাবেনা। ওর স্থান হবে আমার পায়ে… একজন পাগলের স্বামীর স্থান আর কোথায়ই বা হতে পারে……….?