মিরপুর থানা পুলিশের এস.আই জহিরের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর:

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের মিরপুর মডেল থানা পুলিশের এস.আই জহিরের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। থানা এলাকাজুড়ে নানা ভাবে তিনি ব্যক্তিগত ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকার চিহ্নিত কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীদের মদদ দেয়া, নিজের পোষ্য সোর্সদের দ্বারা আসামী ধরা ছাড়ার বানিজ্য ও নিরীহ মানুষকে অযথা গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে জেলে পাঠানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়সহ নানা অভিযোগ উঠেছে এই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে ।

পুলিশ দেশের আইনের রক্ষক, জনগনের বন্ধু। এদেশের সর্বস্তরের জনগনের জানমালের রক্ষক হিসেবে নিয়োজিত তারা। ইতিমধ্যে আমাদের দেশের পুলিশ বাহিনী তাদের পরিশ্রম, দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সাথে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে ব্যাপক সুনাম অর্জন করলেও ডিপার্টমেন্টে কর্মরত দুই একজন অসৎ ও দায়িত্ব জ্ঞানহীন পুলিশ সদস্যের অপকর্মের খবরে ম্লান হয়ে যাচ্ছে সেই অর্জিত সামগ্রিক সুনাম। সাধারণ জনগনের মনে পুলিশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারনার সৃষ্টি করছে। পুলিশের কথা শুনলেই আজ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন তারাও। রক্ষকই যদি ভক্ষক হয় তবে সাধারণ জনগণ কার কাছে যাবে?

সম্প্রতি তিনি মিরপুরের শাহ আলী থানায় কর্মরত ছিলেন। থানা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, জুয়ারী ও জুয়ার বোর্ডের মালিক, স্থানীয় ছিনতাইকারী সিন্ডিকেট ও চিহ্নিত সোর্সদের সাথে মাত্রাধিক সখ্যতা ও গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠার ফলে তিনি নানা অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েন। তার নিকট কোনো অভিযোগ আসলেই বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ে কৌশলে তার কোনো জুড়ি নেই! ফলে শাহ্ আলী থানায় বেশিদিন টিকতে না পেরে খুবই সম্প্রতি মিরপুর মডেল থানায় বদলি হয়ে আসতে হয় তাকে।

নতুন কর্মস্থলে এসেও বসে নেই তিনি। পুরোনো চরিত্রে ফিরে আসার চর্চা শুরু করে দিয়েছেন এখানেও। থানা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদেরকে নিজস্ব পোষ্য সোর্সদের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে থানায় না এনে নিজের আয়ত্বে রেখে দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক নির্ধারিত অর্থ প্রদানের চুক্তিতে ছেড়ে দেয়ার পাশাপাশি মাদকের স্পটগুলিকে নিজের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ফলে বিভিন্ন মাদকের স্পটের মালিকদের সাথেও তার গভীর সম্পর্ক তৈরি হওয়ায় তারাও অতিরিক্ত সুবিধা ভোগ করছে পুলিশের নিকট থেকে। এমনকি তাদের কিছু ধনাঢ্য পরিবারের অনিয়মিত মাদকদ্রব্য সেবনের উদ্দেশ্যে আসা ক্রেতাগনের নিকট মাদক দ্রব্য বিক্রি করেই আগে থেকে ওৎ পেঁতে থাকা এসআই জহিরকে খবর দিলে জহির তাদেরকে গ্রেপ্তার করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিলে ওই মাদক ব্যবসায়ীও আদায়কৃত অর্থের নির্ধারিত একভাগ পেয়ে থাকে। এমনকি এসব এলাকায় সামান্য হাতাহাতি, মারামারি, পারিবারিক দ্বন্দ্ব যাই ঘটুক না কেন; এসব সোর্সরা তাকে খবর দিলেই সেখানে হাজির হয়ে নানা ভাবে অসদুপায়ে অর্থ আদায় করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে এরকম অনেক প্রমানই রয়েছে।

ফলে মিরপুর থানা এলাকাজুড়ে জনগোষ্ঠীর সকলের নিকট এসআই জহির এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম।

এ প্রসঙ্গে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অপরাধী যেই হোক না কেনো, কোনো ছাড় দেয়া হবে না। আইনের আওতায় এনে যথাযোগ্য শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।