ডগ স্কোয়াড নিয়ে শাহজালাল পাহারা দেবে ‘কে নাইন’

সময়ের কণ্ঠস্বর: জানুয়ারি থেকে ‘কে নাইন’র তত্ত্বাবধানে শাহজালালে যুক্ত হতে যাচ্ছে ডগ স্কোয়াড। ইতোমধ্যে ৮টি ডগ স্কোয়াড আনা হয়েছে। দেশের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো ও তাদের প্রশিক্ষণ চলছে। শাহজালালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটি ইউনিট ‘কে নাইন’এর প্রশিক্ষণে নিয়োজিত। আগামি জানুয়ারির শেষ দিকে ‘কে নাইন’ শাহজালালে কাজ শুরু করবে।

৮টি ডগ স্কোয়াডের পৃথক নামও দেয়া হয়েছে এগুলো শেম, করি, ডিজেল, ডাই, বেক্স, বো, ফিন ও রক। এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার তারিক আহমেদ বলেন, ডগ স্কোয়াডদের প্রশিক্ষণ চলছে। বিভিন্ন স্থানে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বর্তমানে উত্তরা এপিবিএন সদরদপ্তরে প্রশিক্ষণ চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এক সময়ের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছিল সারাবিশ্বের বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে বিপজ্জনক। রেটিং ও ছিল থার্ড ক্যাটাগরিতে। নিরাপদ অবতরণ ও উড্ডয়ন ছিল হুমকির মুখে। নিরাপত্তার কোনো বালাই ছিল না। চোরাকারবারীদের ছিল স্বর্গরাজ্য। যাত্রী হয়রানী ছিল নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা। পার্কিংয়ের ছিল না কোনো শৃঙ্খলা। পরিবহণ শ্রমিকদের দৌরাত্ম ছিল চরমে। বিমানবন্দর ছিল যেন গাবতলি, সায়েদাবাদ ও সদরঘাটের মত বাস টার্মিনাল। সিভিল এভিয়েশনের কোনো রকম নিয়ন্ত্রণ ছিল না। বিমানবন্দরের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তারা আঙ্গুল ফুলে হয়েছেন কলা গাছ। দেশি বিদেশি যাত্রীদের ঢাকা বিমানবন্দর ছিল আতঙ্কেও জায়গা। সামগ্রিক অর্থেই বিমানবন্দরটি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ।

এমনই এক উদ্বেগজনক সময়ে ২০১০ সালের ২৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বসে ১০ম গোয়েন্দা সম্মেলন। ওই গোয়েন্দা সম্মেলনে দেশের বিমানবন্দরগুলোর নাজুক পরিস্থিতি উঠে আসে। তারই প্রেক্ষিতে বিমানবন্দরগুলোর কি পয়েন্ট ইনসটলেশন (কেপিআই) নিরাপত্তার জন্য বিশেষায়িত পুলিশের প্রয়োজনীতা অনুধাবিত হয়। তারই প্রেক্ষিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ গঠনের প্রস্তাব করা হয়। এরপর ওই বছরের ১ জুন বিমাবন্দরে কার্যক্রম শুরু করে আর্মড পুলিশ।

এদিকে দ্বায়িত্বগ্রহণের পরপরই বিমানবন্দরের শৃঙ্খলা ফিরে আসে। যাত্রী হয়রানীসহ চোরাচালান রোধে বিশেষ ভূমিকা পালনে বিভিন্ন স্তর থেকে ভূয়সী প্রশসংসা অর্জন করতে থাকে। পাশাপাশি যাত্রীদের আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। বর্তমানে এয়ারপোর্টে যাত্রী সেবার মান বাড়ার পাশাপাশি নিরাপত্তার নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ।

সূত্র জানায়, এরই মধ্যে পুলিশের এ ইউনিটটির কলেবরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গঠন করা হয়েছে ক্রাইসিস রেসপঞ্জ টিম যেটি সিআরটি নামে পরিচিত। বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সিআরটি টিম ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে বিমানবন্দরকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে কাজ করে চলেছে। এরই মধ্যে প্রয়োজনীতা অনুভব করে আরও একটি ইউনিট বৃদ্ধি করা হয়েছে। যার নাম দেয়া হয়েছে ‘কে নাইন’। আর ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করতে ডগ স্কোয়াড দেয়া হচ্ছে।

বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক রাশেদুল হাসান বলেন, আগামী জানুয়ারি থেকে কে-নাইন ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে। আমদানি করা কুকুরগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ২৪ সদস্যের একটি চৌকস দলকেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কে-নাইন গঠন করায় শাহজালালের নিরাপত্তা আরও নিশ্ছিদ্র করা সম্ভব হবে।

সহকারী পুলিশ সুপার তারিক আহমেদ জানান, বিমানবন্দর ব্যবহার করে অনেক সময় চোরাচালানের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে থাকে মাদক ও স্বর্ণ। বিমানবন্দরে ঘোষণা ছাড়া বিস্ম্ফোরক বা আঘ্নেয়াস্ত্র বহনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গোপনে এসব বহন করা হয়। অনেক সময় গাড়িতে করে অবৈধ মালপত্র নেওয়া হয়। ডগ স্কোয়াড না থাকায় এসব অবৈধ পণ্য শনাক্ত করতে বেগ পেতে হয়। তা ছাড়া অতিজরুরি সময়ে র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড ও ঢাকা মহানগর পুলিশের ডগ স্কোয়াড দিয়ে বিমানবন্দরে তল্লাশি করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হতো। এখন এপিবিএনের আলাদা ডগ স্কোয়াড গঠন হওয়ায় নিজেরাই পুরো নিরাপত্তা দিতে সক্ষমতা অর্জন করল।

তিনি আরও বলেন, এপিবিএন কে-নাইন যাত্রা শুরু করলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও প্রয়োজনে দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরে সহজেই নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হবে।