দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে তোফাজ্জুরের রাম রাজত্ব একাধারে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, সচিব ও চেয়ারম্যান

শাহ্ আলম শাহী, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকেঃ একাধারে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, সচিব, চেয়ারম্যান তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ৩টি পদে থেকে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে রামরাজত্ব করে যাচ্ছেন তোফাজ্জুর রহমান।

দিনাজপুরে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে বোর্ডে সচিব নেই। এই দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি। ৩ মাস ধরে বোর্ডে চেয়ারম্যান নেই। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও হয়েছেন তোফাজ্জুর রহমান। নিজের দায়িত্বের বাইরে আরো দু;টি পদের দায়িত্বও সামলাতে তাকে হিমসিম খেতে হলেও তিনি মনের দিক দিয়ে বেশ খুশি।

বোর্ডে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে একাই রাম রাজত্ব করছেন তিনি। তার ইচ্ছে মতোই এখন চলছে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে কার্যক্রম। এতে শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনামূলক কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। অন্যদিকে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যেও দায়বদ্ধতা হারিয়ে গেছে। নিজেদের মধ্যে কাজ ও ভখাগাভাগি নিয়ে প্রায়ঃশ হাতা-হাতি থেকে শুরু করে মারামারিও পর্যন্ত হচ্ছে।

অধিকাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারী অনুযোগ করেছেন,অনেকটা অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়েছে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। সময় মতো সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে আগামীতে এই বোর্ডের শিক্ষার মান কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে স্থাপিত এ বোর্ডের সচিবের পদটি শূন্য হয় ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর। ওই সময়ে শিক্ষা বোর্ডের সচিব আমিনুল হক সরকার পদোন্নতি পেয়ে অধ্যাপক হওয়ায় পাঁচবিবি সরকারি কলেজে উপাধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। এছাড়া চলতি বছরের ৫ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান পদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় প্রফেসর আহমেদ হোসেনকে মন্ত্রণালয়ে ওএসডি করে বদলি করা হয়। ফলে গত তিন মাস ধরে শূন্য হয়ে আছে বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদ।

তোফাজ্জুর রহমান বলেন, জেএসসি পরীক্ষা চলায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে তার মূল দায়িত্ব অর্থাৎ পরীক্ষার কাজে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। এ কারণে শিক্ষাবোর্ডের আাওতাধীন বিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে শিক্ষার মান বাড়াতে অন্যান্য কার্যক্রমে সময়মত সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সূত্র জানায়, এ বোর্ডে সচিবের পদটি শূন্য থাকায় সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে গত আগস্ট মাসের বন্যায় শিক্ষা বোর্ডের বড় বন্দরের গুদাম ঘরে রাখা জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার খাতা ও ওএমআর শিট নষ্ট হয়ে যায়। এগুলো পরবর্তী সময়ে নতুন করে তৈরি করতে চার কোটি ১৬ লাখ টাকা গচ্ছা দিতে হয় শিক্ষা বোর্ডকে। শুধু তাই নয়,তদারকির অভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গঠন করা হয়নি কোনও তদন্ত কমিটি। অন্যদিকে স্যাফটওয়ার কাজ করতে না পারায় আগামী এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপও বন্ধ রয়েছে।

বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকরা জানান, গুরুত্বপূর্ণ দুই পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে তারা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দাফতরিক কাজ করতে গিয়ে তাদের নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মাসুদ আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদ দু’টি পূরণ করা জরুরি। তিনি জানান, আর্থিক বিষয়টি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দেখাশোনা করছেন। এতে কিছু সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।

তিনি জানান, কিছুদিন আগে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অসুস্থ হয়ে পড়ায় সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। শিগগির চেয়ারম্যান ও সচিবের পদ পূরণ করা হলে শিক্ষা বোর্ডের গতি বৃদ্ধি পাবে।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, জোড়াতালি দিয়েই শিক্ষাবোর্ডের কার্যক্রম চলছে।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়া পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমান বলেন, একা তিন পদের দায়িত্ব পালন করা খুবই কষ্টকর। চেয়ারম্যান ও সচিবের দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকায় আমাকে বিভিন্ন কাগজপত্র দেখতে হচ্ছে ও সই করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, পরীক্ষা গ্রহণের দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি