হেমন্তের রাতে মৃদু কুয়াশা

এস আই মুকুল, ভোলা প্রতিনিধি- বাতাসে এখন হিমের ছোঁয়া। রহস্যময় কুয়াশায় প্রকৃতিতে ছাতিম আর শিউলি ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ। চিরচেনা সেই গন্ধই প্রকৃতিকে জানিয়ে দিচ্ছে শীতের বারতা।

কবি বলেন- শিউলির প্রলোভনেই হেমন্তের হাত ধরে আসে শীত। ছাতিম আর শিউলি ফুলের ঘ্রাণ ছাড়া শীতের আগমন যেন নিষ্প্রাণ, ছন্দ-গন্ধহীন। হেমন্তকেই বলা হয় শীতের পূর্বাভাস। হেমন্তের রাতে এখন মৃদু কুয়াশা; বাতাসে শীতের হিম হিম স্পর্শ।

কবির ভাষা আর প্রকৃতি যেন একই কথা বলে। অপরূপ এই হেমন্তের সকালে রোদ এসে পড়ছে গাছের সবুজ পাতায় পাতায়, শিশিরবিন্দু ঝিকমিকিয়ে উঠছে। অথচ কার্তিক শেষে অগ্রাহায়ণ শরু হতেই গুটি পায়ে এগিয়ে এসেছে আগাম শীত। সেই সঙ্গে মৃদু কুয়াশার সঙ্গে ভোরবেলায় শিশিরও ঝরেছে কোথাও কোথাও। দিন ও রাতের তাপমাত্রা রয়েছে প্রায় স্বাভাবিক। বিভিন্ন স্থানে হালকা কুয়াশার সঙ্গে শিশির বিন্দু পাতায় পাতায় বাঁধছে জমাট।

গ্রাম বাংলার নদ-নদী অববাহিকায় ও গ্রামীণ জনপদে রাত থেকে সকাল অবধি হালকা কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী। প্রকৃতিতে শুরু হয়েছে শীতের আবহ। কুয়াশার চাদরে ঢাকা অগ্রাহয়ণের এ সকাল জানান দিচ্ছে শীতের শিশির ভেজা হিমেল বার্তা।

সম্প্রতি দক্ষিণাঞ্চলে চলে এসেছে শীতের আবহ। দিন গড়িয়ে রাত পেরানোর পর ক্রমেই বাড়ছে কুয়াশা। মধ্যরাত থেকেই বাতাসে বিরাজ করছে শীত শীত ভাব। হিমেল বাতাসে অনেক সময় শিউরে উঠছে গা। ঘাসের ডগায় জমছে শিশিরবিন্দু। লতাপাতা, ধান, নানা জাতের সবজির ডগার পাতায় শিরায় শিশিরবিন্দু জমছে একইভাবে। এসবই জানান দিচ্ছে শীত আসন্ন।

যাঁরা ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন কুয়াশার বুকচিরে ভোরের সূর্যোদয়। বিকেলের নীল আকাশের ক্যানভাসে খেলা করছে থোকা থোকা সাদা মেঘের ভেলা। মিষ্টি রোদের খেলা চলছে সকালটায়। সন্ধ্যা গড়িয়ে মধ্যরাত নামার আগেই কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে চারপাশটা।

তাই তো এখন প্রকৃতিতে ঠান্ডা হাওয়ায় শীতের পরশ। চলছে অগ্রাহায়ণ মাস। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, নগরায়ণের চাপে শহুরে জীবনে তার রূপ-রস-গন্ধ সেভাবে ইন্দ্রিয়ে ধরা না দিলেও গ্রামে গেলেই ময়ূরের পেখমের মতো হেমন্ত মেলে ধরবে তার ঐশ্বর্যের ডালি।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি