প্রভাবশালী লম্পট মামার বিকৃত লালসার শিকার হয়ে হাসপাতালে অসহায় এক কিশোরী ভাগ্নির আহাজারি!

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

দেখতে সাদাসিধে ভদ্র সমাজের লোক।
তিনি সচেতন নাগরিক ফোরামের সভাপতি,
সিন্দুর্না ইউনিয়ন আ’লীগের যুগ্ম আহবায়ক, সিন্দুর্না কিন্ডারগার্ডেনের অধ্যক্ষ ও সিন্দুর্না ইউপি নির্বাচনে সাবেক পরাজিত প্রার্থী মোঃ নুরুজ্জামান। তার বিরুদ্ধে রয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থিনী এক দুঃসম্পর্কের ভাগ্নিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে একাধিকবার দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হবার অভিযোগ। এ ঘটনায় অত্র উপজেলায় চলছে ব্যাপক সমালোচনার ঝড়।

ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নে। লম্পট নুরুজ্জামান (৪৮) ঐ ইউনিয়নের পুর্ব সিন্দুর্না ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি দুই ছেলে বাবা। বড় ছেলে ১০ম শ্রেণিতে পড়ে।

এলাকাবাসী ও মেয়েটির পরিবার সুত্রে জানা যায়, উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের কাচারি এলাকার জয়নালের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার পারভিন। দেখতে অপুর্ব সুন্দরী। সে লোকমান হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষা দেবার জন্য ফরম পুরণ করেছে। মেয়েটির বাবা হাতীবান্ধা হাটে নৈশ প্রহরীর চাকরী করে সংসার চালান। ইতি পুর্বে তাদের বাড়ি ঐ ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে ছিলো। বন্যায় বসতভিটা নদীগর্ভে বিলিন হলে নুরুজ্জামানের বাড়ির পাশেই সরকারি জমিতে বাড়ি করেন।

নুরুজ্জামান প্রভাবশালী ব্যক্তি। নুরুজ্জামান মেয়েটির মায়ের আপন ভাই না হলেও আপন ভাইয়ের মতো তাকে দেখেন ও সম্মান করেন। সেই সুবাদে পারভিন নুরুজ্জামানকে মামা বলে সম্মান করেন আর সেও তাকে ভাগ্নির মতো দেখে ও তাদের পরিবারকে আর্থিক ভাবে সাহায্য সহযোগীতা করে থাকেন। মেয়েটির দেখাশোনা, লেখাপড়ার খরচ, কাপর চোপড়সহ তাদের বাড়িতে সরকারি সোলার প্যানেল পর্যন্ত নুরুজ্জামান দেন। এরই এক পর্যায়ে গত এক বছর যাবত মেয়েটির সাথে নুরুজ্জামানের প্রেমের গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠে।

গত ১২ বারদিন ধরে মেয়ে হঠাৎ নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে শুধু নুরুজ্জামানের কথা বলতে থাকে। তাকে ডেকে আনতে বলে। নুরুজ্জামানকে না দেখলে মেয়েটি থাকতে পারেনা।

নুরুজ্জানকে ডেকে মেয়েটির মা আসমা খাতুন বিষয়টি বললে সে ৩৫০০ টাকা দিয়ে মেয়েটিকে রংপুরে চিকিৎসা করতে বলে। অথবা এলাকার বাহিরে কোথাও গিয়ে তাদের বসতবাড়ি করার জন্য চাপ দেন।

রংপুরের ডাক্তারকে মেয়েটিকে দেখালে ডাঃ বলেন, মেয়েটির শরীরে কোন রোগ নাই। সেখানে দুদিন থাকার পরে মিয়েটিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। আজকে মেয়েটি আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেওয়া হয়।

হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর জরুরী বিভাগে দায়িত্বুরত ডাঃ আরেফিন নাহার আশা সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, মেয়ে মানসিক টেনশনে না খেয়ে থাকায় তার শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। চিকিৎসা চলছে তবে ভয়ের কিছুই নেই।

মেয়েটি সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, নুরুজ্জামানের স্ত্রীর ক্যান্সার হয়েছে, আমাকে লেখাপড়া করে চাকরি নিয়ে দিবে। তাকে বিয়ে করলে বাবার সংসারে কোন অভাব থাকবেনা বলে নুরুজ্জামান আমার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। গত বছরের ২১ নভেম্বর সে আমাকে নিয়ে হাতীবান্ধা মহিলা কলেজের পশ্চিমে তার দুঃসম্পর্কের এক বোনের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যায়। ঐ বাড়ির মহিলাটি মহিলাটি দরবারে দরবারে যায়। সেখানে আমার ইচ্ছার বাহিরে জোরপূর্বক আমার সাথে দৈহিক সম্পর্ক করে। এর পর থেকে সে আমাকে প্রায়ই ঐ বাড়িতে নিয়ে আমার সাথে দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। আমাকে বিয়ে করার চাপ দিলে সে এখন আমাকে আর পাত্তা দিচ্ছে না। আমি আমার ইজ্জত নুরুজ্জামানকে ছাড়া আর কাউকেই দেখাতে পারবনা।

এরপরে মেয়েটি চিৎকার করে বলতে থাকেন, আমাকে নুরুজ্জামানকে এনে দাও এনে দাও। তাকে ছাড়া আমি বাঁচবনা। তাকে না পেলে আমি আত্মহত্যা করব বলে মেয়েটি কাঁদতে থাকেন।

মেয়েটির বাবা জয়নাল আবেদিন সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আমি ভাবতেই পারিনি নুরুজ্জামান আমার এমন ক্ষতি করবে। সে আমাকে ডুলাভাই বলে ডাকে। গরীব বলে আমাদের আর্থিক সাহায্য সহযোগীতা করে। আমার মেয়ের লেখাপড়া করার সুবিধার জন্য গত তিন মাস আগে সে একটি সরকারি সোলার প্যানেল এনে দেন। আমরা গরীব বলে কি আমাদের বিচার পাবার যোগ্যতা নাই। মেয়েটিকে এখন কে বিয়ে করবে?

তিনি আরও বলেন, মেয়েটি শারীরিকভাবে অসুস্থ হবার পরে আমরা বিষয়টি টের পাবার এর আগে আমরা ঘুণাক্ষরে জানি নাই।

এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নুরুজ্জামান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, মেয়েটির মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তাই ভুলভাল বকছে। সে আমার ভাগ্নি হয়। তাকে আমি কেন বিয়ে করব। এর বাহিরে কিছুই বলতে পারবোনা বলে সে সাংবাদিকের কাছ থেকে দ্রুত সটকে পড়ে।

সিন্দুর্না ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন এর কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। মেয়েটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর বিষয়টি আমার ইউনিয়ন পরিষদের আইনের এখতিয়ারের বাহিরে হওয়ায় মেয়েটির পরিবারকে আইনের আশ্রয় নিতে বলেছি।