লক্ষ্মীপুরে তালাক দেয়ায় স্ত্রীকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও বর্বর নির্যাতন

মো: ইমাম উদ্দিন সুমন, স্টাফ রিপোর্টারঃ

ক্ষ্মীপুরের কমলনগরে তালাকদেয়ায় স্ত্রীকে অপহরণের পর গণধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় ঘটেছে।  এতে ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে কমলনগর থানা পুলিশ। রোববার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।  এরআগে অপহরণ, গণধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় শনিবার ভিকটিমের মা বাদী হয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকা থেকে ভিকটিমকে অপহরণ করে অভিযুক্ত ও তার দুই বন্ধু। পরে অভিযুক্তের বাড়িতে নিয়ে ভুক্তভোগিকে গণধর্ষণ ও অমানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময়, কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে থেমে থেমে মারধর করা হয় বলে উল্লেখ রয়েছে। একপর্যায়ে ভিকটিম জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরপর ভোরে অপহরণকারী ও ধর্ষকরা তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিবারের লোকজন ওই নারীকে উদ্ধার করে।

শনিবার সন্ধ্যায় ওই নির্যাতিত নারীকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জানা গেছে, নির্যাতিত নারীর বাবা একজন কৃষক। ওই নারীর ছয় ও আট বছর বয়সী দু’টি সন্তান রয়েছে। অভিযুক্ত তোরাবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ও ভিকটিমের তালাকপ্রাপ্ত স্বামী বলে জানা গেছে।

ভিকটিমের মা জানান, ১০ বছর আগে তার মেয়ে বিয়ে হয়। এরপর থেকে একাধিকবার নানা অজুহাতে যৌতুক নেয় মেয়ের স্বামী। গত বছর ৫০ হাজার টাকার যৌতুকের জন্য চাপ দেয়। টাকা দিতে না পারায় প্রায় সময়ই তাকে শারিরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। উপায় না পেয়ে আদালতের মাধ্যমে গত পাঁচ মাস আগে মেয়ের জামাইকে তালাকনামা পাঠানো হয়। এ ঘটনার জের ধরে সাবেক স্বামী তার আরও দুই বন্ধুকে নিয়ে মেয়েকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও বর্বর নির্যাতন করে।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, ওই নারীকে মারধর ও মাথার চুল কেটে দেওয়ার আলামত স্পষ্ট। তবে ধর্ষণের বিষয়টি ডাক্তারি পরীক্ষার পরে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকুল চন্দ্র বিশ্বাস “সময়ের কণ্ঠস্বর”কে জানান, এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর অভিযুক্ত বাবলু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। আসামী আবু কালামসহ অন্যান্যরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।