ব্যপক দুর্ভোগে লাখো মানুষ! অব্যাহত আছে দিনাজপুরের অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘর্ট!

মিটছেনা ছাত্র-শ্রমিক দন্দ ! কর্তা ব্যাক্তিদের রুদ্ধদার বৈঠকেও আসছেনা সমঝোতা! ফলাফলে- ‘অসহায় আক্ষেপ’ আর সীমাহীন দুর্ভোগে লাখো যাত্রী!
লাগামহীন এমনি কত ধর্মঘট আসে, ধর্মঘট যায়…
শাহ্ আলম শাহী,স্টাফ রিপোর্টার,দিনাজপুর থেকেঃ

দিনাজপুরে ২য় দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘর্ট অব্যাহত রয়েছে। হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং মোটর পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষের জের ধরে বুধবার রাত থেকে দিনাজপুর জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক আহবানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং দিনাজপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ ও দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দদের নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় এক সমঝোতা বৈঠকে বসে। জেলা প্রশাসক মীর খায়রলি আলমের সভাপতিত্বে প্রশাসকের কাঞ্চন মিলনায়তনে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আড়াই ঘন্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দ্বারা আগুনে জ্বালয়ে দেয়া দু’টি বাসের ক্ষতিপূরণ, শ্রমিকদের মারধরের আইনানুগ বিচারের দাবী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মেনে না নেয়ায় দিনাজপুরে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘর্ট অব্যাহত রেখেছে দিনাজপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ ও দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন।
বৈঠক থেকে বেড়িয়ে দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. রফিক জানান, শ্রমিকদের মারধর এবং গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি বৈঠকে সুস্পষ্টভাবে আলোচনা না করায় তারা বৈঠক থেকে বেড়িয়ে এসেছেন।

এ সময় তিনি বলেন, দুই শ্রমিককে মারধরের বিষয়টি এবং বাসে হামলা ও অগ্নি সংযোগের ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
দিনাজপুর সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সেলু জানান, জ্বালিয়ে দেয়া দু’টি গাড়ির ক্ষতিপূরণ এবং সড়কে যান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম জানান, বৈঠকে জেলা প্রশাসক যে প্রস্তাব দিয়েছে, তার সাথে তিনি একমত পোষণ করেন।

তিনি জানান, তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত দোষীকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। জেলা প্রশাসকের প্রস্তাব অনুযায়ী ছাত্রদের মহসড়কে অবরোধ তুলে নিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৈঠক শেষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম সাংবাদিকদের জানান, ছাত্র-শ্রমিক দ্বন্দ ও বাসে অগ্নিসংযোগের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে ৩ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
তিনি জানান, মোটর পরিবহন শ্রমিক ও সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপকে তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাদের অবরোধ কর্মসূচি প্র্যাহার করে নেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলমের সভাপতিত্বে ওই সমঝোতা বৈঠকে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম এবং সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সভাপতি জাহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সেলু ও শ্রমিকদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. রফিক ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী। এছাড়াও দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু ছাত্র বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং মোটর প্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে বুধবার রাত থেকেই দিনাজপুর জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু করে মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। এই পরিবহন ধর্মঘটে সমর্থন দেয় দিনাজপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ। ফলে দূরপাল্লার বাসসহ দিনাজপুর জেলার সবকটি রুটে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে আগাম কোনো ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ পরিবহন ধর্মঘটে দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা।
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বহন করা একটি বাসের সাথে তৃপ্তি পরিবহন নামে একটি বাসের সাইড দেয়াকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ছাত্ররা এসে মোটর পরিবহন শ্রমিকদের মারধর করে ও বাস ভাঙচুর করে। এ সময় শ্রমিকরাও পাল্টা আক্রমণ করে, এতে ৫ শিক্ষার্থী ও ৩ শ্রমিক আহত হয়। এদেও মধ্যে আহত ছাত্র নিবিড় ও সৌরভ এবং মোটর পরিবহন শ্রমিক ভোলা, তুহিন ও আফজালকে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর দিনাজপুর হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সামনে রাস্তায় বাঁশ ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুরসহ দু’টি বাসে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা।
এই ঘটনার পর থেকেই দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ও দিনাজপুর সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট আহ্বান করে এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ক্যাম্পাসের সামনে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।