‘গুড লাক’ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়: বিতর্কিত বিলবোর্ড নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড়!

বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর, কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটে লাগানো বিতর্কিত বিলবোর্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতের অন্ধকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেইটসহ কয়েকটি স্থানে গুড লাক নামে বিজ্ঞাপন উল্লেখ করে নিম্ন মানের বিলবোর্ড বসানো হয়েছে। একটি জনপ্রিয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন বিতর্কিত নাম ফলক দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
তবে কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কিছু জানে না বলে মন্তব্য করেছেন। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিলবোর্ড স্থাপন করা কিভাবে সম্ভব। যা অনেকের বোধগম্য নয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগামাধ্যমে বিতর্কিত বিলবোর্ড নিয়ে ফেসবুকে কয়েকটি ছবি পোস্ট করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে শিক্ষার্থীরা। মেইন গেইটে এমন বিতর্কিত দৃষ্টিকটু বিলবোর্ড স্থাপন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃর্তপক্ষের রুচি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ মিজানুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘ এই বিষয়টি আমার আওতাধীন হলেও আমি এই বিলবোর্ডগুলো লাগানোর ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’ বিলবোর্ড গুলো কখন, কোথায় লাগানো হয়েছে, আমি কিছুই জানি না।

কুবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আলী আশরাফ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কিছু সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ করার কথা, কিন্তু ফটকগুলোতে এ ধরনের বিলবোর্ড লাগানোর ব্যাপারে কোন কথা হয়নি। আমি এই বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।’

এদিকে, ফেসবুকে চলছে সমালোচনার ঝড়। সাদী খান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ফাইজলামির একটা সীমা আছে। প্রশাসনের ভালো গেইট করার মুরোদ নাই সেটা আমাদের জানা আছে। কিন্তু এই ফালতু টাইপের বিজ্ঞাপন মার্কা থার্ডক্লাস গেইটের মানে কি??

কয়দিন পর ভর্তি পরীক্ষা। পরীক্ষা দিতে এসে এই গেইট দেখে ছেলেমেয়েরা হাসাহাসি ছাড়া আর কিছুই করবেনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি বিন্দুমাত্র ভালোবাসা থাকলে প্রশাসন এই কাজ করতে পারতো না।

মেহেদী হাসান নামে একজন শিক্ষার্থী লিখেন, বুঝলাম এটা আপনাদের নিজের ভার্সিটি না, এখানে পড়াশোনা করেন নি। সো দরদ টা একটু কমই থাকবে। তবে ভাই আপনি এখনে জব করেন তো নাকি? নিজের কর্মক্ষেত্রের ভালো মন্দটা নিজেদের মাথায় ঢুকে না আপনাদের? রাতারাতি ভার্সিটির নাম পরিবর্তন করে দিলেন আপনারা ? গুড লাক (ইংরেজীতে লিখে) কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ।

পাবলিক ভার্সিটির মেইন গেট যদি স্পন্সর দিয়ে বানাতে হয় তাহলে কতটা কমার্শিয়াল চিন্তা চেতনা ধারণ করেন আপনারা ভেবে দেখেছেন? ও আচ্ছা আপনাদের তো আবার এসব ভাবাভাবির সময় নেই। আপনারা আছেন কিভাবে রেজাল্ট ভালো করে শিক্ষকনীতি বাদ দিয়ে রাজনিতি করতে, মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে পেলেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনি মিনি খেলতে, আর নিজের থলে ভরাট করতে। সেলুট আপনাদের মত প্রশাসনকে, আপনাদের মত পথ প্রদর্শকে। বিঃ দ্রঃ কিছু আনকাট কথাবার্তা ছিল যেগুলি সবাই বুঝে নিয়েন। আর হ্যা, ভার্সিটির শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে যে আকাশ পাতাল বৈষম্য আপনারা তৈরি করেছেন তাতে কিছু দিন পর আপনাদের সম্মান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা ভেবে এখনই আমি শিউরে উঠি।

মোরর্শেদ আলম কায়ান নামে এক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, একটা কাজ করা যায়। একটা ব্যানারে আমাদের ভিসি স্যারের ছবি দিয়ে ক্যাপশন লিখে দেয়া যায় – “আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। দেখুন কত সুন্দর করে আমি ২টা ডান্ডার উপর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঝুলাই রাখছি!” তারপর এই ব্যানারটা এই বিলবোর্ডের নিচে ঝুলাই রাখা যায়। তাতে যদি এই বেহাইয়াদের একটু লজ্জা হয়!

এস এম সাকিব মন্তব্য করেন, অসাধারণ সারপ্রাইজ..!!!? কথায় আছে, “একটি সমাজ কতটুকু সভ্য সেটা সেই সমাজের টয়লেটের উপর প্রভাবিত” একইভাবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কতটুকু উন্নত সেটা সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইট গেইট দেখলে বোঝা যায়??? শীঘ্রই এই গেইট অপসারণের জন্য আন্দোলন হোক?

আব্দুর রহমান মন্তব্য করেন, আমাদের দেখা সবচেয়ে বিশ্রী গেইট। আগেরটা অনেক ভাল ছিল যখন কিছু ছিলনা।

রাকিব মাহমুদ, একটা ভার্সিটির মেইন গেইটের সাইনবোর্ডও এমন পাড়ার দোকানের মত হয়!

এভাবে আরো অনেক ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকের ফেসবুক পেইজে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) রাতের আধাঁরে বিতর্কিত গুডলাক স্টেশনারীর বিজ্ঞাপন দিয়ে বিলবোর্ডটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক, বিবিএ ফ্যাকাল্টি, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল, কাজী নজরুল ইসলাম হল, নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে লাগানো হয়েছে।