‘খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে আপনারা ঘরে ফসল তুলবেন, সেটা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না’

সময়ের কণ্ঠস্বর: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে আপনারা ঘরে ফসল তুলবেন সেটা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। বরং এজন্য উচ্চমূল্য দিয়ে আপনাদের পালাতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

একজন আইনমন্ত্রীর মুখে এ ধরনের কথা শোভা পায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ যে তারা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তারই প্রতিফলন ঘটেছে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

৭ মার্চের ভাষণ উপলক্ষে আজ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সমাবেশ প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের সমাবেশকে স্বাগত জানাই। একটা গনতান্ত্রীক দল হিসেবে প্রতিটি দলেরই সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে। তবে কয়েকদিন আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই আরেকটি সমাবেশের আয়োজন করেছিল বিএনপি। সেই সমাবেশ করার জন্য ২৩টি শর্ত দেওয়া হয়েছিল, সমাবেশে যেন লোকজন না আসতে পারে সেজন্য গাড়ি বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এটাকি লেভেল প্লেইং ফিল্ড হলো। একদল সরকারি সকল সুবিধায় নির্বাচনী প্রচারণা করবে অন্যদল সাধারণ সুযোগ-সুবিধা পাবে না এটা তো গণতন্ত্র নয়। আজ লেভেল প্লেইং ফিল্ড নাই, নির্বাচনকালীন সময়ে থাকবে এরতো কোনো আশা দেখছি না।

নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র নেতা বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ যদি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মত চিন্তা করে তাহলে তারা ভুল করছে। আগামী নির্বাচনের জন্য দেশের মানুষ প্রস্তুত। তারা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণকে ধোকা দেওয়ার জন্যেই এই চুক্তি করা হয়েছে। এটা একটা ওপেন চুক্তি। কবে থেকে তাদের ফেরত পাঠানো হবে এবং কতদিনের মধ্যে পাঠানো হবে নির্দিষ্ট কোনো কিছুই নাই এই চুক্তির মধ্যে এটা শুধুমাত্র জনগণকে ধোকা দেওয়ার জন্যেই করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৈঠকে প্রধান আলোচকের আলোচনায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বিএনপির চেয়াপারসন খালেদা জিয়াসহ এমন কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ নেই যাদের বিরুদ্ধে মামলা ছাড়া আর কিছু আছে।

পরামর্শ বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন,খালেদা জিয়ার তো শাস্তি হয়ে গেছে গতকাল আইনমন্ত্রী বলেছেন তার নাকি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।আইনমন্ত্রী যদি এ কথা বলেন এই সিগনাল টা কী? নিচের বিচারকদের কাছে সিগনাল না কি? এখানে কী হাইকোর্টের করণীয় নেই? অন্তত হাইকোর্ট একটি সুয়োমোটো রুল জারি করে বলতে পারে একটি বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে বক্তব্য রাখার অধিকার আইনমন্ত্রীর নেই। আইনমন্ত্রীকে মানহানির মামলায় অভিযুক্ত করা উচিৎ।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে জাতীয় পরামর্শ বৈঠকে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক দিলারা চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, আব্দুল মান্নান তালুকদার,সুকোমল বড়ূয়া, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন,তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সহ সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, জিনাপের সভাপতি মিয়া মো. আনোয়ার প্রমুখ।