সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান নিখোঁজ

সময়ের কণ্ঠস্বর- কলেজশিক্ষক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকের পর এবার নিখোঁজ হলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মারুফ জামান। সোমবার রাতে ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছোট মেয়েকে আনতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন। ষাটোর্ধ্ব মারুফ জামান কাতার ও ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

মঙ্গলবার দুপুরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানিয়ে রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। রাত পর্যন্ত তার সন্ধান মেলেনি। তবে সন্ধ্যার দিকে খিলক্ষেত এলাকা থেকে পুলিশ তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকার উদ্ধার করে।

তার স্বজনরা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় বেলজিয়াম থেকে আসা ছোট মেয়ে সামিহা জামানকে আনতে গাড়ি চালিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশে ধানমণ্ডির বাসা থেকে বের হন মারুফ জামান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাসার ল্যান্ডফোনে গৃহকর্মীকে বলেন, বাসায় তিনজন লোক যাচ্ছেন। তাদের যেন তার কম্পিউটারটি দিয়ে দেওয়া হয়। ওই তিনজন বাসায় গিয়ে কম্পিউটারের সঙ্গে একটি মোবাইল ফোন ও একটি ক্যামেরাও নিয়ে যান।

মারুফ জামানের ছোট ভাই রিফাত জামান বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি জানতে পারেন তার ভাই বিমানবন্দরে যাননি। এরপর থেকে তার ভাইয়ের মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি দ্রুত বিমানবন্দরে গিয়ে ভাইকে পাননি। ওই রাতে আইন-শৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী ও স্বজনদের বাসায় খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

রিফাত জামান জানান, এর আগেও বাসার বাইরে থাকা অবস্থায় তার ভাই লোক পাঠিয়ে বাসা থেকে নানা জিনিসপত্র নেন।

ধানমণ্ডি থানার ওসি আব্দুল লতিফ জানান, ধানমণ্ডির ৯/এ সড়কের ৮৯ নম্বর বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। বিদেশ ফেরত মেয়েকে আনতে সোমবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে গাড়ি নিয়ে বের হন মারুফ জামান। তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পেয়ে মেয়ে একাই বাসায় চলে আসেন।

একদিনেও বাবার খোঁজ না পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ধানমণ্ডি থানায় জিডি করেছেন মারুফ জামানের মেয়ে সামিহা জামান। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মারুফ জামানের সন্ধান করছে বলেও জানান ওসি।

২০০৯ সাল পর্যন্ত ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন মারুফ জামান। এর আগে তিনি কাতারে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনে কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। মারুফ জামান সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের (ষষ্ঠ শর্ট কোর্স) একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। ২০১৩ সালে অবসরে যাওয়ার পর থেকে তিনি বাসাতেই থাকতেন।

রবি