পাঁচটি অস্ত্রসহ আটক হলেন বনানীতে আলোচিত আড়াই মিনিটে দুর্ধর্ষ হত্যাকান্ডের নেপথ্য নায়ক

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা-
তোর বস কই, যে যেখানে আছিস সেখানেই থাক, ড্রয়ার খোল’, এই কথা বলেই চার মুখোশধারী গুলি করতে থাকে বনানীর জনশক্তি রফতানি প্রতিষ্ঠান এমএস মুন্সি ওভারসিসের ভেতরে। এরপর তারা ড্রয়ার থেকে টাকা নিয়ে বাইরে থেকে গেট আটকে দিয়ে চলে যায় সিনেমা স্টাইলে।

অবশেষে রাজধানীর বনানীতে জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এমএস মুন্সি ওভারসিসের মালিক সিদ্দিক হোসেন (৫৫) হত্যার ঘটনায় পরিকল্পনাকারী হেলালকে পাঁচটি অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর)। মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টার দিকে গুলশানের কালাচাঁদপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিবি উত্তরের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার মো. শাহজাহান সাজু জানান, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম হেলাল। সেই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী। এসময় তার কাছ থেকে পাঁচটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত ১৪ নভেম্বর রাত পৌনে ৮টার দিকে বনানী বি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১১৩ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এমএস মুন্সি ওভারসিসে এজেন্সি মালিক মো. সিদ্দিক হোসেন খুন হন। এ ঘটনায় আহতরা হলেন— মোস্তাক হোসেন, মোখলেছুর রহমান ও মিরাজ পারভেজ। পরে এই ঘটনায় বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। মামলটি বর্তমানে ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।
এছাড়া গুলিবিদ্ধ হন মোস্তাক হোসেন, মোখলেছুর রহমান ও মিরাজ পারভেজ। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রিক্রুটিং এজেন্সির অফিস সহকারী এবং এই ঘটনার প্রত্যখ্যদর্শি মো. জাফর সাংবাদিকদের জানান, ‘জনশক্তি রফতানির অফিসে সারাদিনই মানুষ আসা-যাওয়া করে। বাড়িটির প্রথম ফটকে এবং অফিসের গেটে দু’জন নিরাপত্তাকর্মী থাকে। অনেক মানুষ অফিসে আসে যায়, তাই তেমন বাধা দেওয়া হয় না। অফিসে প্রবেশের মুখে সিসি ক্যামেরাও আছে।’‘সন্ধ্যার পর অফিসে মুখোশ পরা লোক ঢুকেই সবাইকে যেমন আছি তেমন থাকতে বলে একটা গুলি করে। এরপর বসের রুমের দিকে গিয়ে গুলি করে, তখন বিকট শব্দ হয়। স্যার, ওরে মা বলে করে চিৎকার করে। এরপর তারা আমাদের দিকেও গুলি করে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা বাইরের গেট আটকে যায়।’

ঘটনার সময় অফিসের ভেতরে মালিকসহ প্রায় দশজন ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের অফিস সকাল সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮পর্যন্ত খোলা থাকে। ওরা ঢোকার সময় শুধু আমাদের পিয়ন আলীর কাছে জানতে চেয়েছিল, তোদের বস কই? এরপর ভেতরে ঢুকে তারা বলল, যে যেখানে আছো, সেখানেই থাক। টেবিলের ড্রয়ার খোল, এই কথা বলেই ভেতরে ঢুকে বসের রুমের গেল। বস তাদের জিজ্ঞেস করলো, এই কি? এরপরই গুলি, বিকট শব্দ হয় ।

ঘটনার বর্ননায় তিনি আরও জানান, ‘এরপর বসের রুম থেকে বের হয়ে তারা আমাদের আরেক স্টাফ মোশতাক ও আরও একজনকে গুলি করে। গুলি করার পর মোশতাকের ড্রয়ার থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়ে যায়। এছাড়া অন্যান্য ড্রয়ার থেকেও তারা টাকা-পয়সা নিয়েছে। এরপর আমরা বসকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য গেট পর্যন্ত এসে দেখি গেট বাইরে থেকে লাগানো। আমরা চিৎকার করলে পাশের অফিস থেকে এসে গেট খুলে দেয়। তখন আমরা বসকে নিয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে যাই।’

নিহত মুন্সি সিদ্দিকের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতি গ্রামে। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। বড় মেয়ের স্বামী এই অফিসেই প্রধান হিসাব রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। তবে ঘটনার সময় তিনি অফিসে ছিলেন না।

ঘটনার পর থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ কাজ শুরু করে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) শাহজাহান সাজু বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রধান কোনও কারণ জানাতে না পারলেও পুলিশ সিদ্দিক হোসেন মুন্সি হত্যায় তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত করছে ।
তিনি আরও বলেন, ‘পারিবারিক, ব্যবসায়িক বা স্থানীয় কোনও ঝামেলায় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ ঘটনাস্থল ও আশপাশে থাকা সিসি ফুটেজ দেখে হত্যাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি ।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ থেকে পাওয়া ভিডিও দেখুন এখানে: