বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি: সাবেক চেয়ারম্যান বাচ্চুকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ

সময়ের কণ্ঠস্বর- বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুকে দ্বিতীয়দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার সকাল ১০টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে যান আবদুল হাই বাচ্চু। এর পরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়।

এর আগে সোমবার শেখ আবদুল হাই বাচ্চুকে প্রথম দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির দায় অস্বীকার করে জালিয়াতিপূর্ণ ঋণপ্রস্তাব তৈরি ও অর্থ লোপাটের সব দোষ চাপিয়েছেন সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলামের ওপর। তিনি বলেছেন, ‘এমডির উপস্থাপনা অনুযায়ী ওই সময়ে ঋণপ্রস্তাবগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তার কোনো দায় নেই।’

দুদক সূত্র জানায়, দুদক পরিচালক জায়েদ হোসেন খান ও সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে বিশেষ টিমের সদস্যরা বাচ্চুকে ২০০৯-১৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ব্যাংকটিতে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।

গত কয়েকদিনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বেসিক ব্যাংকের পাঁচ পরিচালককে। ২০০৯-১৪ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর মেয়াদে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের মামলায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৫৩ শতাংশ (৭ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা), যা যেকোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হারের চেয়ে বেশি। আবদুল হাই বাচ্চুর নেতৃত্বাধীন বেসিক ব্যাংকের পর্ষদ ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত ১১ মাসে বিভিন্ন ‘অনিয়ম’-এর মাধ্যমে ৩ হাজার ৪৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বিভিন্নজনকে ঋণ দেয়া হয়।

ওই ঘটনায় ২০১৫ সালের শেষ দিকে রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় ১৫৬ জনকে আসামি করে ৫৬টি মামলা করে দুদক। এসব মামলায় বেসিক ব্যাংকের ২৭ কর্মকর্তা, ১১ জরিপকারী ও ৮১ ঋণ গ্রহণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে কোনো মামলাতেই আবদুল হাই বাচ্চুকে আসামি করা হয়নি।

রবি