বিশ্ব জনমত উপেক্ষা করে ট্রাম্পের ঘোষণা: ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষ শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর অধিকৃত ভূখণ্ডে ফিলিস্তিন ও ইহুদিবাদী ইসরাইলিদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়ে গেছে।

ট্রাম্প সারা বিশ্বের বিরোধিতা ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনের জেরুজালেম বা বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার রাতে এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ল। তবে এখনো ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত খবর পাওয়া যায় নি।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগে সারা বিশ্ব থেকে সতর্ক করা হয় যে, এ ধরনের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে দেবে। কিন্তু ট্রাম্প এসব সতর্ক বার্তা মোটেই আমলে নেন নি।

এরইমধ্যে গাজা উপত্যকা ও বেথলহাম শহরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি এবং গাজা উপত্যকায় ট্রাম্পের কুশপুত্তলিক পোড়ানো হয়েছে। এছাড়া, ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিবাদে বেথেলহাম শহরে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজন বড়দিন উপলক্ষে সাজানো ক্রিসমাস ট্রি’র আলোকসজ্জার সুইচ বন্ধ করে দেন। বড়দিনে আলোকসজ্জা চালু করা হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস মার্কিন সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন।

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- মুসলিম বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক মতামত উপেক্ষা করেই অবশেষে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর বিবিসি, সিএনএন ও এএফপির।

বুধবার ওয়াশিংটন সময় দুপুরে এ ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিতেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। তবে স্থানান্তরের দিনক্ষণ বলেননি তিনি।

ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে ইসরায়েল স্বাগত জানালেও ফুঁসে উঠেছে ফিলিস্তিন, জর্ডান, তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তানসহ মুসলিম বিশ্ব। হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওআইসি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস।

ফিলিস্তিনের হামাস বলেছে, ট্রাম্পের এ স্বীকৃতি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য ‘মৃত্যুর চুম্বন’ ছাড়া কিছুই নয়। সব মিলিয়ে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুললেন বলেই অভিমত বিশ্নেষকদের।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বাঁকবদলকারী সিদ্ধান্তটিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ‘ভীষণ উদ্বেগের মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরেজা মে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন না করে বলেছেন, সে অঞ্চলে শান্তি আনয়নের পথে এটি কোনো উপকারী পদক্ষেপ হবে না।

এছাড়া ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান কূটনীতিক ফেদেরিকা মোগেরিনি-ও বিষয়টিকে উদ্বেগের বলে মনে করছেন।

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণার আগে ওয়াশিংটনে কেবিনেট বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই প্রক্রিয়া অনেক আগেই সম্পন্ন করা উচিত ছিল।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রেসিডেন্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন; কিন্তু তারা ঘোষণা দেননি। তারা হয়তো সাহস না পেয়েই মত বদলেছেন। নিজেকে ‘প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটানোর ক্ষেত্রে সাহসী’ দাবি করে ট্রাম্প বলেন, পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টরা যা করতে পারেননি, তাই তিনি করবেন।

ওদিকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে উল্লাস প্রকাশ করে অন্যান্য দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের শিক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেত্তে। “এ পদক্ষেপে ইসরায়েলের শত্রুরা মেনে নিতে বাধ্য হবে যে, জেরুজালেম কখনও বিভক্ত হবে না,” বলেছেন তিনি।