একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নওগাঁ-২ আসনটি পুনরুদ্ধারে বিএনপি ও আ’লীগ মরিয়া

আর আই সবুজ,পত্নীতলা(নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-২ আসনটি পুনরুদ্ধারে বিএনপি ও আ’লীগ উভয়ই মরিয়া হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক কারণে নওগাঁ জেলার ৬ টি আসনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর অন্যতম সীমান্তবর্তী পতœীতলা ও ধামইরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-২ আসনটি।

নওগাঁ জেলার ধামইরহাট পত্নীতলা দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-২ আসনে আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমান ক্ষমতাশীল দল আওয়ামীলীগ ও রাজপথ থেকে বঞ্চিত ঘরে বসে থাকা রাজনৈতিক দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হতে তোড়জোড় ও প্রচারণা শুরু করেছে বেশ কয়েক আশাবাদী মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা।

এই আসনটি জাতীয় সংসদের ৪৭ নম্বর নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত। পত্নীতলা -ধামইরহাট দুই উপজেলায় ভোটারের সংখ্যা মোট ৩ লাখ ১৭ হাজার ৭২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৮ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯৮ জন।

পতœীতলা উপজেলায় পুরুষ ভোটার ৮৮ হাজার ৭০০ জন এবং নারী ভোটার ৮৮ হাজার ৫০৫ জন। ধামইরহাট উপজেলায় পুরুষ ভোটার ৭০ হাজার ৩২৮ জন এবং নারী ভোটার ৭০ হাজার ১৯৩ জন ভোটার রয়েছেন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এরা হলেন বর্তমান জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব শহীদুজ্জামান সরকার এমপি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে শহীদুজ্জামান সরকার প্রথমবার এ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির দলীয় প্রার্থী শামসুজ্জোহা খানের কাছে পরাজিত হন। আবার নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির দলীয় প্রার্থী শামসুজ্জোহা খানকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বদ্ধিতায় নির্বাচিত হয়ে তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আবারো আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের অন্য প্রার্থীরা হলেন নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, পত্নীতলা উপজেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, নজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক। এর আগেও তিনি সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে পতœীতলা-ধামইরহাট এলাকাবাসীর পাশে থেকে কাজ করে আসছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক প্রকৌশলী ড. আখতারুল আলম মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে।

এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য বর্তমান সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার বাবলু এলাকার উন্নয়নে বেশ অবদান রয়েছে। নওগাঁয় সাহিত্য ও সংস্কৃতিমনা মানুষ হিসেবে তার খ্যাতি আছে। তিনি বিভিন্ন সময় ইতিহাসসমৃদ্ধ স্থানগুলো সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন বলে অনেকে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। দেশে এমন ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ আসনে একজন মননশীল মানুষের প্রয়োজন বলে তার সমর্থনে অনেকেই জানিয়েছেন। যাহার জনপ্রিয়তা সকলের শীর্ষে বলেই তিনি আবারো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং তিনি বলেন দল মনোনয়ন দিলে আগামীতে আবারো আসনটিতে তিনি আবারও বিপুল ভোটে হবেন।

অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়ন পেতে সাবেক এমপি সামসুজ্জোহা খান ছাড়াও মাঠে রয়েছেন খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী। সামসুজ্জোহা খান এ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসেবে ১৯৯৬ এর ১৫ই ফেব্রুয়ারী সহ ১৯৯৬ এর ১২ই জুন ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগ প্রার্থী শহীদুজ্জামান সরকারের নিকট বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

বর্তমানে তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি। তবে বিগত দিনের দলীয় অনেক নেতা কর্মীর বিভিন্ন অপকর্মের দায়ভার তাকে বহন করতে হলেও বর্তমানে তিনি সেইসব দায়ভার কাটিয়ে উঠে আবারো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। দলের মনোনয়ন পেলে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে তিনি বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদী।

তবে আসনটিতে বিএনপির অপর প্রার্থী রয়েছেন নওগাঁ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কৃষকদল নেতা খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মনোনয়ন পাওয়ার আশায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। কর্মী সমর্থকরা জানান, আসনটি পুনরুদ্ধার করতে হলে স্থানীয় বিএনপিতে ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। পতœীতলা ও ধামইরহাট উপজেলার যুবকদের মাঝে নাজিবুল্লাহ চৌধুরীর একটা জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি থেকে নতুন প্রজন্ম সহ পুরাতন প্রার্থী প্রত্যাশীরাও বিভিন্ন ভাবে দোয়া চেয়ে এলাকায় বিল বোর্ড, পোষ্টারিং সহ তোরণ নির্মান করেছেন। এছাড়া অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের এখনো মাঠে নামতে দেখা যায় নি।