চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনায় ৫ খুনি শনাক্ত, ধরিয়ে দিলেই পুরষ্কার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি- চাঞ্চল্যকর মৌলভীবাজারে ছাত্রলীগের দুই কর্মীর হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকা সন্দেহে প্রাথমিক তদন্তে ৫ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ছবি প্রকাশ করে ওদের ধরিয়ে দিতে ৫০ হাজার টাকা ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যার দিকে এই ঘোষণা দেয়া হয় এবং যারা ওই খুনিদের আশ্রয় দিবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেলা পুলিশ। যে বা যারা ওদের ধরিয়ে দিতে সহায়তা করবে তাদের নাম পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও অভয় দিয়েছে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ। সন্দেহভাজন খুনিরা হল সনি, মাহদী, তুষার, সৌমিক ও প্রতীক।

এদিকে জানা গেছে, মৌলভীবাজারে দুই ছাত্রলীগ কর্মী নিহতের ঘটনায় কোন মামলা হয়নি। পুলিশ সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গতকাল সিলেটের ডিআইজি নিহত দু’জনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছেন। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে নিহত স্কুলছাত্র মাহীর ডায়েরি সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ডায়েরির প্রথমেই লিখা ছিল বড়ভাই সম্বোধন করে নিহত সাবাবের ফোন নম্বর।
মৌলভীবাজার শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের সম্মুখে মাঠের পশ্চিম পাশে ছাত্রলীগ কর্মী মোহাম্মদ আলী সাবাব (২১) এবং নাহিদ আলম মাহী (১৬)কে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। সাবাব মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র। আর মাহী সরকারি স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। নিহত এই দু’জন ছাত্রলীগের কোনো দায়িত্বশীল পদে ছিল না। তবে সাবাব সক্রিয় কর্মী ছিল। আর সাবাবের অনুসারী বা শিষ্য ছিল মাহী। সাবাবকে সে বড়ভাই বলে সম্বোধন করতো। তার নিজ ডায়েরিতেই এমন ইঙ্গিত ছিল। ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখনো কেউ জানে না কি কারণে এবং কারা এই দুই জন কে হত্যা করলো। কি নিয়ে বিরোধ ছিল। হত্যাকারীরা কয়জন ছিল এবং অপারেশন শেষ করে কোন দিকে পালিয়ে গেল তাও স্পষ্ট নয়। ঘটনাস্থলটি এমন নির্জনও নয়, সময় মাঠের পূর্বপাশে শহীদ মিনারের কাছে অনুষ্ঠান চলছিল।

এদিকে নিহতের পরিবার কোনো মামলা করেনি। নিহত মাহীর মামা মো. আলী ইমরান গতকাল মুঠোফোনে জানিয়েছেন ডিআইজি তাদের আশ্বস্ত করেছেন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের। এই সময় পুলিশ মাহীর হাতে লিখা একটি ডায়েরি পুলিশ নিয়ে আসে। ইমরান জানান এই ডায়েরির প্রথমেই বড়ভাই সম্বোধন করে লেখা পাওয়া গেছে নিহত মোহাম্মদ আলী সাবাব এর ফোন নম্বর। দুই নম্বরে আরেক বড়ভাইসহ বিভিন্ন ফোন নম্বর আছে। ইমরান আরো জানিয়েছেন ডিআইজি’র আশ্বাসে তারা এখন মামলা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিবেন শিগগিরই। এখন মাহীর মা জুলেখা বেগম পুত্র শোকে শয্যাশায়ী। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি সুস্থ হলেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ দিকে অস্ট্রেলিয়া থেকে তাঁর বোন আসারপর নিহত মোহাম্মদ আলী সাবাব এর লাশ গতকাল হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (র:) এর মাজার শরীফ সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সাবাবের মামা শাম্মির হাবিব চৌধুরী রবিন জানিয়েছেন সিলেটের ডিআইজি কামরুল আহসান গতকাল পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত করেছেন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে এবং শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তাই পরিবার মামলা করার জন্য চিন্তা-ভাবনা করছে।

এদিকে এই জোড়া খুনের ঘটনা উদঘাটন ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য মৌলভীবাজারে পুলিশের তিনটি এবং ডিবি’র একটি টিম মাঠে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুহেল আহম্মদ । বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদরের কয়েক জায়গায় অভিযান পরিচালনা করেছে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য। এদিকে পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, শিগগিরই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে।