ফিলিস্তিনকে যেভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কারাগারে পরিণত করেছে ইসরাইল!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ১৯৬৭ সালের ইসরাইল ও আরব বাহিনীর মধ্যেকার ছয় দিনের যুদ্ধের ফলাফল ছিল পশ্চিম তীর ও গাজা স্ট্রিপের দখলদারিত্ব। এই যুদ্ধের কাহিনীকে ইসরাইল একটি ‘দৈব ঘটনা’ হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে। কিন্তু নতুন ঐতিহাসিক দলিলপত্র এবং আর্কাইভ থেকে কয়েক মিনিটের ভিডিও প্রমাণ করেছে যে এই যুদ্ধের জন্য ইসরাইলের প্রস্তুত ছিল।

এই অঞ্চলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ও দখলের ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে ১৯৬৩ সালে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী, আইন ও সিভিল প্রশাসনের কর্তা-ব্যক্তিরা জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের পরিকল্পনায় ছিল চার বছরের মধ্যে এই অঞ্চল দখল করা এবং তৎকালীন সময়ের দেড় মিলিয়ন ফিলিস্তিনিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।

গাজার ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে ইসরাইল কিভাবে দমনপীড়ন চালাবে- ইসরাইলের সেই অভিপ্রায় ব্যর্থ হয়ে যায় ১৯৫৬ সালে সুয়েজ সঙ্কটের সময় তাদের স্বল্পকালীন দখলদারিত্বের জন্য।

১৯৬৭ সালের মে মাসে যুদ্ধের ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগে ইসরাইলি সামরিক গভর্নরদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। এতে কিভাবে ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সেই বিষয়ে আইনি ও সামরিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল; যাতে সামরিক শাসন ও নজরদারির আওতায় পশ্চিম তীর ও গাজা স্ট্রিপকে বৃহৎ কারাগারে পরিণত করে ইসরাইল নির্বিঘ্নে এগিয়ে যেতে পারে।

বসতি স্থাপন, চেকপয়েন্ট এবং যৌথ শাস্তি এর সব কিছুই ইসরাইলের এই পরিকল্পনার অংশ ছিল। ইসরাইলি ইতিহাসবিদ ইলান প্যাপে তার ‘দ্য বিগেস্ট প্রিজন অন আর্থ: এ হিস্ট্রি অব দ্য অকুপাইড টেরিটরিস’ গ্রন্থে এটি দেখিয়েছেন।

গ্রন্থটি ইসরাইলি দখলদারিত্বের একটি গভীর সাক্ষ্য বহন করছে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়। বইটি ২০১৭ সালের ‘প্যালেস্টাইন বুক অ্যাওয়ার্ডস’ এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বইটির বিষয়বস্তু ও প্যালেস্টাইন-ফিলিস্তিন সম্পর্ক নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’কে ইলান প্যাপে সাক্ষাতকার দেন।

মিডল ইস্ট আই: আপনার পূর্ববর্তী বই ‘দ্য ইথনিক ক্লিনজিং অব প্যালেস্টাইন’ থেকে এটিকে কীভাবে দেখছেন?

ইলান প্যাপে: এটি নিশ্চতভাবেই আমার পূর্ববর্তী লেখা ‘দ্য ইথনিক ক্লিনজিং’ বইয়ের একটি ধারাবাহিকতা; যেটিতে ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের ঘটনাকে বর্ণনা করা হয়েছে।

আমি ইহুদি মতবাদের পুরো প্রকল্পটিকে কেবল একটি ঘটনা নয় বরং একটি কাঠামো হিসেবে দেখি। ‘দখলদারিত্ব উপনিবেশবাদ কাঠামো’ যেটি দখলদারিত্ব উপনিবেশবাদ আন্দোলনের একটি সূতিকাগার। যতক্ষণ পর্যন্ত না উপনিবেশ সম্পূর্ণ হয় এবং একটি জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের মাধ্যমে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর রুখে দেয়া, এরুপ প্রতিটি পর্যায়কে আমি একই কাঠামোর মধ্যেই একটি ধাপ দেখি।

যদিও ‘দ্য বিগেস্ট প্রিজন’ একটি ঐতিহাসিক গ্রন্থ। আমরা এখনো একই ঐতিহাসিক অধ্যায়েই রয়েছি। এটি এখনো পর্যন্ত শেষ হয়নি। তাই এ ক্ষেত্রে সম্ভবত ২১ শতকের ঘটনাবলী দেখার পর পরবর্তীতে একটি তৃতীয় বই হওয়া উচিত এবং এটি হবে জাতিগত নিধন ও শোষণের একই মতাদর্শ নতুন যুগে কিভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং ফিলিস্তিনিরা কিভাবে তা প্রতিরোধ করে।

মিডল ইস্ট আই: ১৯৬৭ সালের জুনে জাতিগত নিধন সংঘঠিত হয়েছিল সে সম্পর্কে আপনি কথা বলছেন। ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর এবং গাজা স্ট্রিপে কী ঘটেছে ছিল? ১৯৪৮ যুদ্ধে জাতিগত নিধন থেকে এটির ভিন্নতা কী ছিল?

আইপি: যতটা সম্ভব সম্ভাব্য ফিলিস্তিনীদের তাড়িয়ে দেয়ার একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা ছিল ১৯৪৮ সালে। দখলদারিত্ব উপনিবেশবাদ প্রকল্পের কর্তাদের বিশ্বাস ছিল যে প্যালেস্টাইনে একটি ইহুদি বসতি স্থাপনের ক্ষমতা তাদের রয়েছে। যেখানে কোনো ফিলিস্তিনি থাকবে না। পরিকল্পনাটি আসলেই ভাল কাজ করেনি, যদিও মানুষ জানে এটি বেশ সফল ছিল। এখানে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের শতকরা ৮০ শতাংশই শরণার্থী হয়ে যায়।

বইটিতে আমি দেখিয়েছি যে, কয়েকজন ইসরাইলি নীতিনির্ধারক ছিলেন যারা ভেবেছিলেন যে ‘১৯৪৮ সালে আমরা যা করেছিলাম ১৯৬৭ সালেও আমরা তা করতে পারি’। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বুঝতে পেরেছিল যে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধটি ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত একটি যুদ্ধ, যেটি ছিল মাত্র ছয় দিনের।

তাই, আমি মনে করি কৌশলটি একইভাবে জাতিগত নিধন ছিল না, যেটি ১৯৪৮ সালে বাস্তবায়িত হয়েছিল। এটি ছিল একটি ‘ক্রমবর্ধমান জাতিগত নিধন’। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা নির্দিষ্ট কিছু এলাকা- যেমন জেরুজালেমের পুরাতন শহর জেরিকো এবং কুয়ালকুয়িলার আশেপাশের লোকজনকে তাড়িয়ে দিয়েছিল।

কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে সামরিক শাসন এবং ফিলিস্তিনীদের তাদের নিজেদের এলাকায় অবরুদ্ধ করে রাখা- তাদের তাড়িয়ে দেয়ার মতোই সুবিধাজনক হবে।

১৯৬৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত খুবই ধীর গতিতে জাতিগত নিধন চলেছে; যা সম্ভবত ৫০ বছর ধরে বিস্তৃত হয়েছে এবং এটি এতই ধীর যে কখনো কখনো এটি একদিনে এক ব্যক্তির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

কিন্তু আপনি যদি ১৯৬৭ থেকে আজ পর্যন্ত পুরো চিত্রটি দেখেন, তাহলে দেখতে পাবেন যে, আমরা হাজার হাজার ফিলিস্তিনিদের কথা বলছি, যাদের পশ্চিম তীর বা গাজা স্ট্রিপে ফিরে যাওয়ার অনুমতি নেই।

মিডল ইস্ট আই: আমরা জানি ইসরাইল পশ্চিম তীরের জন্য উন্মুক্ত কারাগার মডেল এবং গাজা স্ট্রিপের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কারা মডেল ব্যবহার করে থাকে। ইসরাইলের ব্যবহার করা এই দুই ধরনের সামরিক মডেলের মধ্যে পার্থক্য কী? আপনি এই দুটি মডেলের সামরিক শর্তাবলীকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন?

আইপি: আমি এই দুটি মডেলকে ব্যাখ্যা করার জন্য রূপক শব্দ ব্যবহার করি; যেটি ইসরাইল দখলকৃত অঞ্চলে ফিলিস্তিনীদের প্রস্তাব করে। আমি রূপক শব্দ ব্যবহার করার উপর জোর দিচ্ছি কারণ আমি মনে করি দুই রাষ্ট্র সমাধান প্রকৃতপক্ষে একটি উন্মুক্ত কারাগার মডেল।

অধিকৃত অঞ্চলসমূহে ইসরাইলিরা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এবং তারা ঘনবসতিপূর্ণ জনবহুল ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামে প্রবেশ করার চেষ্টা করে না। তারা ২০০৫ সালে গাজা স্ট্রিপকে ভাগ করে এবং তারা এখনো পশ্চিম তীরকে ভাগ করছেন। সেখানে এখন দুইটি পশ্চিম তীর। একটি হচ্ছে ইহুদি পশ্চিম তীর এবং অন্যটি হচ্ছে ফিলিস্তিনি পশ্চিম তীর। এটি এখন আর একটি সুসঙ্গত আঞ্চলিক এলাকা নয়।

গাজায় ইসরাইলিরা হল রক্ষক; যেটিকে বাইরের জগত থেকে ফিলিস্তিনিদের আবদ্ধ করে রেখেছে কিন্তু তারা ভিতরে যা করছে তাতে তারা হস্তক্ষেপ করে না।

আর পশ্চিম তীর হচ্ছে একটি উন্মুক্ত কারাগারের মতো। এখানে আপনি ছোট ছোট অপরাধীদের পাঠাচ্ছেন; যাদের অধিক সময় বাইরে থাকতে এবং বাইরে কাজ করার অনুমতি দেয় এবং সেখানে কোনো কঠোর শাসন নেই কিন্তু এটি এখনো একটি কারাগার।

এমনকি ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস যদি এলাকা ‘খ’ থেকে ‘সি’তে যেতে চান, তবে তার জন্য গেট খুলতে ইসরাইলিদের প্রয়োজন হবে এবং তা আমার জন্যও প্রতীকী। সত্য হচ্ছে, ইসরাইলি কারা-রক্ষক গেট খুলে না দেয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট চলতেই পারবেন না।

এর জন্য অবশ্যই ফিলিস্তিনিদের প্রতিক্রিয়া সব সময়েই আছে। ফিলিস্তিনিরা নিষ্ক্রিয় নয় এবং তারা তা মেনে নেয় না। আমরা প্রথম ও দ্বিতীয় ইন্তিফাদা দেখেছি এবং সম্ভবত আমাদেরকে একটি তৃতীয় ইন্তিফাদাও দেখতে হবে।

কারাগার পরিচালনার মানসিকতা নিয়ে ইসরাইলিরা ফিলিস্তিনিদের বলছেন, ‘যদি তোমরা প্রতিহত কর, তবে আমরা তোমাদের সমস্ত অধিকার কেড়ে নেব; যেমনটা আমরা কারাগারে করি। তোমরা বাইরে কাজ করতে পারবে না। তোমরা অবাধে চলতে পরবে না এবং এজন্য তোমাদেরকে সমষ্টিগত শাস্তি দেয়া হবে’। প্রতিশোধ হিসাবে সমষ্টিগত শাস্তি হচ্ছে তাদের শাস্তিমূলক দিকের একটি ধরন।

মিডল ইস্ট আই: অধিকৃত অঞ্চলে ইসরাইলি বসতি নির্মাণ বা সম্প্রসারণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিন্দা জানাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটিকে ইসরাইলের ঔপনিবেশিক কাঠামোর একটি প্রধান অংশ হিসাবে বিবেচনা করে না- যেটি আপনি আপনার বইটিতে বর্ণনা করেছেন। ইসরাইলি বসতিগুলো কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং এর যুক্তিসঙ্গত বা ধর্মীয় ভিত্তি কী ছিল?

আইপি: ১৯৬৭ সালের পরে বসতি নির্মাণ বা উপনিবেশকরণের দুটি মানচিত্র ছিল। তাদের একটি ছিল ‘কৌশলগত’ মানচিত্র যেটি ইসরাইলের বামদিকের জন্য পরিকল্পিত করা হয়েছিল এবং এই মানচিত্রটির রূপকার ছিলেন প্রয়াত ইগাল অ্যালেন।

প্রধান কৌশলবিদ হিসেবে তিনি ১৯৬৭ সালে মোশে দাইয়ানের সঙ্গে পশ্চিম তীর ও গাজা স্ট্রিপ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছিলেন। তাদের নীতি ছিল কৌশলগত, সেখানে খুব বেশি আদর্শিক নীতি ছিল না। যদিও তারা বিশ্বাস করেন যে পশ্চিম তীর ইসরাইলের ছিল।

ইহুদিরা ঘনবসতিপূর্ণ আরব অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেনি, তা নিশ্চিত করার জন্য তারা অধিক আগ্রহী ছিল। তারা সব জায়গায় বলে বেড়াত- ফিলিস্তিনিরা যেখানে কেন্দ্রীভূতভাবে বাস করতে পারে না, সেখানে আমরা বসতি স্থাপন করতে পারি। তাই তারা জর্ডান উপত্যকা দিয়ে শুরু করেছিল কারণ জর্ডানের উপত্যকায় ছোট ছোট গ্রাম রয়েছে কিন্তু এটি অন্য অংশগুলোর মত ঘনবসতিপূর্ণ নয়।

তাদের জন্য সমস্যা ছিল যে, একই সময়ে তারা তাদের কৌশলগত মানচিত্রটিও তুলে ধরেছিল। গিউশ এমুনিম ইহুদিদের জন্য ধর্মীয় জাতীয় আন্দোলন হিসেবে একটি নতুন ‘মেসিয়ানিক ধর্মীয় আন্দোলন’ শুরু করলে ইহুদিরা কৌশলগত মানচিত্র অনুযায়ী বসতি স্থাপনে রাজী ছিল না।

তারা বাইবেলে উল্লেখিত মানচিত্র অনুযায়ী বসতি স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। তাদের বিশ্বাস ছিল যে, প্রাচীন ইহুদি শহরগুলোর অবস্থান কোথায় ছিল, তা বাইবেলে বলে দেয়া হয়েছে। এই মানচিত্রের অর্থ হচ্ছে ইহুদিদের জন্য বসতি স্থাপন করতে হবে নিবুলাস, হিব্রোন এবং বেথলেহেমে; যে স্থানগুলোর অবস্থান ফিলিস্তিনি এলাকার অভ্যন্তরে।

শুরুতেই ইসরাইলি সরকার এই বাইবেল কেন্দ্রিক এই আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে যাতে তারা আরো কৌশলগতভাবে বসতি নির্মাণ করতে পারে। কিন্তু ৭০ এর দশকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শিমন পেরেজ বাইবেল কেন্দ্রিক বসতি নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন; যার প্রমাণ বেশ কয়েকজন ইসরাইলি সাংবাদিক দেখিয়েছেন।

পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলি ঔপনিবেশিকতার ‘কৌশলগত এবং বাইবেলগত’ দুটি মানচিত্রের সামনে দৃশ্যমান ছিল।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বুঝতে পারে যে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কৌশলগত কিংবা বাইবেল কেন্দ্রিক বসতি স্থাপন দুটোই অবৈধ।

তবে দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে যে ১৯৬৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরাইলি ফর্মুলাকে গ্রহণ করেছে আর তা হচ্ছে ‘বসতি নির্মাণ অবৈধ, কিন্তু তা অস্থায়ী। একবার শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে আমরা নিশ্চিত করব যা সবকিছুকেই বৈধ করবে। কিন্তু যতক্ষণ না সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়, ততক্ষণ আমাদের ( ইসরাইলি) বসতি নির্মাণ করা প্রয়োজন কারণ আমরা এখনো ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুদ্ধ করছি’।

মিডল ইস্ট আই: আপনি বলছেন যে ইসরাইল কর্তৃক দখল করা পশ্চিম তীর এবং গাজা স্ট্রিপের বাস্তবতা বর্ণনা করার জন্য ‘দখলদারিত্ব’ শব্দ ব্যবহার যথাযথ নয় এবং প্যালেস্টাইনে নোয়াম চমস্কির সঙ্গে সংলাপের ‘শান্তি প্রক্রিয়া’ শব্দটির আপনি সমালোচনা করেছেন। এটিতো তাহলে বিতর্কিত হয়ে গেল। কেন এই শব্দগুলোর ব্যবহার সঠিক নয়?

আইপি: আমি মনে করি শব্দের ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যেভাবে পরিস্থিতি তৈরি করেন তা পরিবর্তন করার জন্য আপনার সম্ভাবনাকে এটি প্রভাবিত করতে পারে।

আমরা ভুল অভিধান এবং ভুল শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে পশ্চিম তীরের গাজা স্ট্রিপ এবং ইসরাইলের অভ্যন্তরের পরিস্থিতি তৈরি করছি। সবসময়ই দখলদারিত্বের মানে হচ্ছে একটি অস্থায়ী পরিস্থিতি।

দখলদারিত্বের সমাধান হল দখলদারিত্বের অবসান। সাধারণত আক্রমণকারী সৈন্যরা তাদের নিজ দেশে ফিরে যায়, কিন্তু পশ্চিম তীর বা গাজা স্ট্রিপে এই অবস্থা নেই।

আমি মনে করছি, এটা উপনিবেশকরণ, যদিও এটি ২১ শতকের একটি কাল্পনিক শব্দের মত শোনাচ্ছে। আমি মনে করি আমাদের বুঝতে হবে যে, ইসরাইল ফিলিস্তিনে উপনিবেশ স্থাপন করছে।

এই উপনিবেশিকরণ শুরু হয়েছে ১৯ শতকের শেষের দিকে এবং তা আজো চলমান রয়েছে।

একটি ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা; যা সমগ্র প্যালেস্টাইনকে বিভিন্ন ভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। গাজা স্ট্রিপে এটি বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পশ্চিম তীরে এটি কয়েকটি এলাকা থেকে ভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

এটি শরণার্থী শিবিরে ফিলিস্তিনিদের ওপর বিভিন্ন নীতিমালা প্রয়োগ করছে; যেখানে শরণার্থীদের নিজ গৃহে ফিরে যাবার অনুমতি দেয় না। শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুমতি না দেয়া উপনিবেশিকতা বজায় রাখার আরেকটি উপায়। এটি একই মতাদর্শের সব অংশ।