বাবার বয়সী এক লম্পটের বিকৃত লালসার শিকার হয়ে তিন বছরের শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার: আশুলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাবার বয়সী সাইম (৩৫) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

গতকাল সোমবার দুপুরে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার রুপায়ন হাউজিং ১নং গেট এলাকার জনক ফিরাজের ভাড়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই রাতেই আশুলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (নং-২৩) দায়ের করা হয়েছে।

নিহত শিশু হলেন, মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি থানাধীন আমতলী এলাকার ইমরান মল্লিকের তিন বছরের শিশু কন্যা আখি আক্তার ইমু। সে তার বাবা-মায়ের সাথে আশুলিয়ার জামগড়া পূর্বপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত।

আটককৃত সাইম ময়মনসিংহের নাদাইল উপজেলার চরসিরামপুর এলাকার মৃত. হাসেন আলীর ছেলে। সে একই বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকত।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, তিন বছরের মেয়ে আখি ও তার স্ত্রী সাথী আক্তার এবং মা তাসলিমা বেগমকে নিয়ে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় ভাড়া থেকে রিকশা চালায় ইমরান মল্লিক। স্ত্রী স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকুরী করে।

সোমবার দুপুরের খাবার খেয়ে মেয়েকে তার দাদীর কাছে রেখে স্বামী-স্ত্রী দু’জনই চলে যায় কর্মস্থলে। পাশের কক্ষে থাকেন সাইম ও তার পরিবার। বাসায় দাদীর কাছেই ছিল আখি। হঠাৎ বিকালের দিকে সাইমের মেয়ে আখির দাদীকে ডেকে বলে আখি তাদের কক্ষের সামনে পড়ে আছে।

পরে দাদী তাকে উদ্ধার করে নিজ কক্ষ নিয়ে এসে মাথায় পানি ঢালতে থাকে। খবর পেয়ে আখির বাবা-মা দু’জনই বাসায় আসে। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আখিকে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতাল কেদ্রে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আখিকে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ওই কেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

নারী ও শিশু কেদ্রের ডেপুটি ম্যানজার মা. হারুন অর রশিদ জানান, মেয়েটিকে মৃত অবস্তায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান খাদেকার জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা হয়েছে এবং মামলায় অভিযুক্তকে এরই মধ্য আটক করা হয়েছে।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি