গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর! ভিসি অবরুদ্ধ

মুন্নি আক্তার, গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডাঃ লায়লা পারভিন বানুকে (চলতি দায়িত্ব) অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর একটার সময় বিবিএ বিভাগের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

গত ২৬ এপ্রিল গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত কিন্তু শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া বিবিএ সহ ৭ টি কোর্সে শিক্ষার্থীদের ভর্তি না হবার অনুরোধ জানিয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এরপর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিভাগটির অনুমোদন জটিলতা ও তাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশংকার সুরহার দাবী জানিয়ে আসছেন। এর প্ররিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়ের করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৯ মে ইউজিসির বিজ্ঞাপনের ওপর তিন মাসের স্থগিতাদেশ জারি করে হাইকোর্ট।

আদালতের জারি করা স্থগিতাদেশের পর প্রায় সাত মাস পেরিয়ে গেলেও বিভাগটির অনুমোদন জটিলতার কোন অগ্রগতি না হওয়ায় মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার সময় বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডাঃ লায়লা পারভিন বানুর সাথে দেখা করতে যান। শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে নিজেদের ক্ষোভ এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশংকার কথা প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, উপাচার্য এর আগে বেশ কয়েকবার আশ্বাস দিয়ে আসলেও আদালতের কোন সরাসরি আদেশ বা ইউজিসির ওয়েবসাইট এ বিবিএ’র অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

উপাচার্য ডাঃ লায়লা পারভিন বানু বলেন, ‘ইউজিসির সাথে ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সরাসরি সাক্ষাত করতে চাইলে ইউজিসির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সাড়া না পাওয়ায় কোন অগ্রগতি সম্ভব হয়নি’। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের সাথে বাকবিতণ্ডা করে উপাচার্যের কক্ষ থেকে বেড়িয়ে যায় এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দেয়। এরপর আবারো ভেতরে ঢুকে উপাচার্যের দরজা লাথি দিয়ে ভেঙ্গে উপাচার্যের ব্যবহৃত চেয়ার বাইরে এনে ভাঙচুর চালায়। প্রশাসনিক ভবনের নিচতালার সিসি ক্যামেরা ও বেশকিছু গ্লাস ভেঙে দেয় এবং প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে অবস্থান নেয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্য দাবি করেছেন এর আগে ইউজিসি’র পক্ষ থেকে অনুমোদনের জন্য ঘুষ চেয়েছে। কে ঘুষ চেয়েছে তার প্রমাণ চেয়েছে শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য ঘুষ চাওয়ার প্রমাণ দিতে চেয়েছেন বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।