ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার জনপদ ঠাকুরগাঁও ব্র্যান্ডিং করতে প্রশাসনের উদ্যোগ

কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি- জেলা ব্র্যান্ডিং নিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলার সাংবাদিকগণের সাথে মতবিনিময় ও সাংস্কৃতিক সন্দ্ধ্যা। ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার জনপদ ঠাকুরগাঁও। নতুন প্রজন্মের কাছে এ জেলার ঐতিহ্য তুলে ধরতে কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এ নিয়ে গতকাল সোমবার রাতে ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউজে জেলা ব্র্যান্ডিং বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল।

তিনি বলেন, হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িকতার ঐতিহ্য নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে দেশে বিদেশে নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে। এই জেলা খুবই সম্ভাবনাময় জেলা। সেই লক্ষ্য ঠাকুরগাঁও শহর ও বিভিন্ন উপজেলা ব্র্যান্ডিং শুরু হয়েছে। অন্য জেলার মানুষ ঠাকুরগাঁওয়ে আসলে যেন সহজেই চিনতে পারে।

তিনি আরও বলেন, নদী মেখলা প্রকৃতি দুলালী এই বাংলাদেশে সংস্কৃতি ও জীবনধারার সঙ্গে লোক সংস্কৃতি অবিচ্ছেদ্য। আজ অত্যাধুনিক বিজ্ঞানের যুগে সভ্যতার চরম বিকাশ হওয়ার সাথে সাথে বাংলার পল্লী জীবনের জীবনযাত্রা পদ্ধতিতে, আচার-অনুষ্ঠানেও পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। কিন্তু এতদসত্বেও তা একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। এই দেশ কৃষির-এই দেশ কৃষকের। তারই প্রতিফলন রয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের পরতে পরতে। এখানে দিনান্তে শ্রান্ত ক্লান্ত কৃষকের ঘরের দাওয়ায় মাদুর পেতে বসে কেরোসিনের বাতি জ্বালিয়ে সোনাভানের পুঁথি কিংবা দেওয়ান ভাবনার পালাপাঠের আসর বসে। লোকসাহিত্য, লোকনৃত্য, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, বাউল মুর্শিদি, মারফতী, কবিগান, যাত্রা, জারী, কীর্তন, পালাগান ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে ঠাকুরগাঁওয়ের লোকসংস্কৃতির অবদান রয়েছে।

সমগ্র দেশের লোকসংস্কৃতির মধ্যে একটা সামঞ্জস্য থাকলেও ভৌগোলিক পরিবেশের কারণে অঞ্চল ভেদে এখানে এর ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। তাই সকলে মিলে কাজ করলে ঠাকুরগাঁওয়ে সম্ভাবনাময় ঐতিহ্য ব্র্যান্ডিং করতে বেশি দিন সময় লাগবে না বলেও তিনি জানান।

মতবিনিময় সভায় সরকারি কর্মকর্তা ও জেলার কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।