৬২ তলার ছাদে সেলফি তুলতে গিয়ে প্রাণ হারালো সুপারম্যান (ভিডিও)

চিত্র বিচিত্র ডেস্ক- চিনের অধিবাসী ২৬ বছরের ইয়ুংনিং ইউ। দেশের সবার কাছে তিনি সুপারম্যান হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। কারণ উঁচু উঁচু বিল্ডিংয়ে তিনি অনায়াসে ওঠানামা করতেন। কোন ধরনের সুরক্ষা ছাড়াই উচুঁ বিল্ডিংয়ের ছাদে ওঠে যেতেন। বিল্ডিংয়ে ঝুলতে ঝুলতে বিভিন্ন ধরনের খেলা দেখাতেন।

বিল্ডিংয়ের একেবারে মাথায় উঠে ইউ সেলফি তুলতেন এবং স্যোসাল মিডিয়ায় পোস্ট দিতেন। এটা তার পেশা হলেও এর সঙ্গে নেশাও মিশে ছিল। সোস্যাল মিডিয়ায় তার দেওয়া পোস্টগুলোতে প্রচুর পরিমানে লাইফ পড়ত। কমেন্টসও লিখতেন তার স্যোসাল মিডিয়ার বন্ধুরা। দুঃসাহসী সব পোস্টের জন্য তার ফলোয়ারও ছিল ৬০ হাজারের মতো। তবে এই দুঃসাহসী কার্যক্রমই শেষ পযর্ন্ত কাল হল তার। উচুঁ বিল্ডিংয়ে ওঠে খেলা দেখাতে গিয়েই এই তরুণ প্রাণ হারালেন কিছুদিন আগে।

ঘটনাটি ঘটেছিল নভেম্বরের ৮ তারিখে। চিনের হুনান প্রদেশের চাংশায় একটি ৬২ তলা বাড়ির ছাদে ঝুলে খেলা দেখাতে গিয়ে পড়ে মারা যান চিনের সুপারম্যান বলে পরিচত ইউ। তবে ই খবর এতদিন জানতেন না তার ভক্তরা। সম্প্রতি সব জল্পনা থামিয়ে ইয়ুংনিংয়ের প্রেমিকা সামাজিক মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর দেন।

সেই সূত্রেই প্রকাশ্যে আসে ইউয়ের তোলা শেষ ভিডিও ক্লিপটি। দেখা যাচ্ছে, বহুতলের ছাদের কিনারে ঝুলছেন ইউ। সেলফি স্টিকে উঠছে ছবি। কসরত দেখিয়ে ফের ছাদে উঠতে গিয়েই বিপত্তি। স্বল্প দৈর্ঘ্যের ওই ভিডিওতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে আলগা হচ্ছে ইয়ুংনিংয়ের হাতের মুঠো। নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন তিনি।

কিছুক্ষণ ওভাবে ঝুলে থাকার পরেই পড়ে যান তিনি। মাস দু’য়েক আগে শিকাগোর এক হোটেলে এমনই কসরত দেখাতে গিয়ে মারা যান বছর চুয়াল্লিশের এক ব্যক্তি। ইয়ুংনিংয়ের মৃত্যুর পর প্রশ্ন উঠছে, কীসের টানে এই ঝুঁকির খেলায় মাতছে নতুন প্রজন্ম? পুলিশের ভূমিকাই বা কী?

জানা গিয়েছে, প্রায় ২০ হাজার ডলারের বিনিময়ে প্রাণ বাজি রেখে ওই বহুতলের ছাদে উঠেছিলেন ইউ। মায়ের চিকিৎসা আর নিজের বিয়ের টাকা জোগাড় করতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। তবে কে বা কারা ইয়ুংনিংকে ওই বিপুল টাকার চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন তা অবশ্য জানা যায়নি।

পুলিশ বলছে, কোনও রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া এই ধরনের কসরত দেখানো বেআইনি। বহু ক্ষেত্রেই জখম হন খেলোয়াড়রা। তাই ইয়ুংনিংয়ের মতো তরুণদের সতর্ক করতে সম্প্রতি কয়েকজনকে আটক করেছে চীনের পুলিশ। দ্যব্লাজ, ওয়াশিংটনপোস্ট

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি