সর্বশেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগও দখলে নিয়েছে সরকার : শামসুজ্জামান

সময়ের কণ্ঠস্বর- নিম্ন আদালতের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির গেজেট প্রকাশের মাধমে বিচার বিভাগ সরকার ‘দখলে নিয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু। আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে দলটির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই দেশের মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল ছিল বিচার বিভাগ, সেটিরও নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত সরকারের দখলে পরিণত হয়েছে।’

শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়ার বিরুদ্ধে হওয়া মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এর আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিত’ (বাকশিস)।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে শুধু এখন আওয়ামী ফ্যাসিবাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ যদি অন্যায়কারীদের দখলে থাকে, গণতন্ত্র এবং ন্যূনতম ভোটাধিকার না থাকে; তাহলে স্বাধীনতার ৪৬ বছর আগে আমরা যে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, সেটি মিথ্যা হিসাবে পরিলক্ষিত হয়ে যাবে।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘এই খাতে চরম বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গনে বিরোধীমতের ছাত্র সংগঠন, শিক্ষক সংগঠন অবস্থান করতে পারে না। পেশাজীবীরা যে যেখানে আছেন তারা যখনই সরকারের অন্যায় ফ্যাসিবাদী কার্যকালাপের বিরোধিতা করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। যেমন আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নামে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে।’

খালেদা জিয়াকে হেনস্তা করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে বলেও এ সময় অভিযোগ করেন বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান।

‘এই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার বিরুদ্ধে শুধু মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়নি, তাকে হেনস্তা করার জন্য এমন কোনো কাজ নাই যা করা হচ্ছে না। সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুধু সাজাই দেওয়া হয় নাই, এখনও তাকে একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে এবং বিচার করা হচ্ছে।’

বিএনপি নেতা ও শিক্ষক সেলিম ভূইয়া এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েলকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে তাদের মুক্তি দাবি করেন শামসুজ্জামান দুদু।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো বক্তব্য দেন শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের অতিরিক্ত মহাসচিব জাকির হোসেন, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা মাইনুল ইসলাম, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, শিক্ষক নেতা সেলিম মিয়া, বংশাল থানা কৃষকদলের সভাপতি আব্দুর রাজি প্রমুখ।