মাদারীপুরে ৪৬ বছর পরও গণকবরগুলো অরক্ষিত

মেহেদী হাসান সোহাগ, স্টাফ রিপোর্টার, মাদারীপুর- স্বাধীনতার প্রায় ৪ দশকেও মাদারীপুরে বধ্যভূমিতে নির্মিত হয়নি কোন স্মৃতিস্তম্ভ।

এ.আর হাওলাদার জুট মিল, মিঠাপুর, সেনদিয়া, কদমবাড়ি, মাইজপাড়া, ভুরঘাটা, ফাসিয়াতলার গণকবরগুলো শুধু কালের স্বাক্ষী হয়েই স্মৃতি বহন করছে। অরক্ষিত এসব গণকবরগুলো রক্ষানা-বেক্ষণসহ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানের দাবী স্থানীয়দের। যদিও জেলা প্রশাসন বলছে, শীঘ্রই হবে নির্মাণ কাজ।

১৯৭১ সালে যখন বাংলার মানুষ স্বাধীনতার দাবিতে উত্তাল তখন এদেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের সহযোগিতায় পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী সারা দেশে ব্যাপক নারকীয় গণহত্যা চালায়। ২২ এপ্রিল পাকবাহিনী বিমান থেকে প্রথম গোলা বর্ষন ও ২৪ এপ্রিল স্থল পথে মাদারীপুরে প্রবেশ করে। মাদারীপুরের বিভিন্ন স্থানে ঘটাতে থাকে একের পর এক ধ্বংশযজ্ঞ।

এ.আর হাওলাদার জুট মিলের ডি-টাইপ বিল্ডিংয়ের পশ্চিম দিকের খোলা জায়গায় দেয়া হয় গণকবর। এআর হাওলাদার জুটমিল এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মুক্তিকামী অগনিত বাঙালী নারী-পুরুষের মৃতদেহ। এছাড়া পাখুল¬্যা, সেনদিয়া, কলাগাছিয়া, কদমবাড়ি, মিঠাপুর, ফাসিয়াতলা মাইজপাড়া, ভুরঘাটার বদ্ধভুমির একই চিত্র।

এই বদ্ধভূমিগুলোতে এখনও নির্মিত হয়নি কোন স্মৃতিস্তম্ভ। এইসব গণকবর কালের অতল গহবরে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম, শুধু স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানের অভাবে। এসব বদ্ধভূমি চিহ্নিত করে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবী মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.জলিল সহ একাধিক মুক্তিযোদ্ধা সহ সাধারণ মানুষ জানায়, গণকবর চিহ্নিত করে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানের দাবী স্থানীয়দের। দ্রুত স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত না হলে হয়তো একদিন স্থানগুলো বেহাত হয়ে যাবে।

মাদারীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কমান্ডার, শাহজাহান হাওলাদার , দীর্ঘ দিনের দাবী সত্বেও কেন অরক্ষিত এসব গনকবর, তার কূরকিনারা পায় না জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদও। সংসদের এই কমান্ডার দাবী দাবী করেন, অচিরেই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের।

মাদারীপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সৈয়দ ফারুক আহমেদ জানান, আমরা ৫টি স্থানকে গনকবর হিসাবে সনাক্ত করা করেছি, অল্পদিনের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি