‘বিট কয়েন চুরি করে নিজেদের সংকট কাটাতে চাইছে উ. কোরিয়া’!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- গেল কয়েক মাসে বিট কয়েনের দাম বৃদ্ধিতে উত্তর কোরিয়া ব্যাপকভাবে লাভবান হতে পারে বলে মন্তব্য করছেন বিশেষজ্ঞরা। উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা বিনিময়ের এক্সচেঞ্জগুলোকে টার্গেট করেছে। গত কয়েক মাস ধরে তারা ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির জন্য এক্সচেঞ্জের কর্মীদের ইমেইল পাঠিয়ে বোকা বানাচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ইন্টারনেট অ্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্সির পরিচালক লি ডং গিউন সিএনএন-কে বলেন, ‘এটা নিশ্চিত যে উত্তর কোরিয়া ভার্চুয়াল কারেন্সি এক্সচেঞ্জগুলোকে আক্রমণ করছে। আমরা ঠিক জানি না এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া কী পরিমাণে চুরি করেছে। তবে, পুলিশ নিশ্চিত করেছে তারা হ্যাক করার জন্য আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে বিট কয়েনের মূল্য অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। বছরের শুরুতে বিট কয়েনের দাম ৮০০ ডলারের কম থাকলেও বছরের শেষে এসে এই ডিজিটাল মুদ্রার বিনিময় মূল্য ১৭ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

উত্তর কোরিয়া গত মে মাস থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার কমপক্ষে ৩টি ক্রিপ্টোকারেন্সি এজেন্সি থেকে বিট কয়েন চুরির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে ইন্টারনেট নিরাপত্তা প্রদানকারী ফার্ম ফায়ার আই বিষয়টি নিশ্চিত করে।

হ্যাকাররা বিট কয়েন ও অন্যান্য ডিজিটাল মুদ্রায় বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত আক্রমণ করে থাকে। এর কারণ হচ্ছে, একবার ডিজিটাল মুদ্রা কোনও একাউন্ট থেকে বেরিয়ে গেলে সেটি আর ফিরিয়ে আনার কোনও উপায় নেই।

ডিসেম্বর মাসের শুরুতে হ্যাকাররা স্লোভেনিয়া ভিত্তিক একটি বিট কয়েন মাইনিং প্রতিষ্ঠান নাইসহ্যাশ-এর ৬০ মিলিয়ন ডলার চুরি করতে সক্ষম হয়।

ফায়ার আই মনে করছে, উত্তর কোরিয়ার উপর অর্থনৈতিক অবরোধ চালু থাকায় দেশটির অভিজাত শ্রেণির সম্ভবত বিট কয়েন দিয়ে আর্থিক সংকটের মোকাবেলা করার পরিকল্পনা করছে।

অপর দিকে, বিট কয়েনের দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি দেখে অসংখ্য অর্থ ও বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ এটিকে শেয়ার মার্কেট বাব্‌ল বা উল্লম্ফন বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সামনে বিট কয়েনের দাম আরও অস্থিতিশীল হতে পারে, কারণ পুঁজি বাজারে ৪০% বিট কয়েনের মালিক মাত্র ১ হাজার মানুষ বা প্রতিষ্ঠান।