নোয়াখালীতে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে ভাংচুর-তালা

মোঃ ইমাম উদ্দিন সুমন,স্টাফ রিপোর্টার: নোয়াখালীর সদর উপজেলার ৭নং নোয়াখালী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর সমর্থকরা হামলা চালিয়ে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে ভাংচুর করে তালা লাগিয়ে দেওয়া অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহাজাহান মামুন পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা খুলে দিয়েছেন। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মান্নাননগর চৌরাস্তার দক্ষিণ বাজারে অবস্থিত বিএনপি প্রার্থী নির্বাচনী অফিসে এ হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। নোয়াখালী ইউনিয়নের বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী নুর নবী বাবুল জানান, বুধবার সন্ধার পর থেকে তার কর্মী-সমর্থকরা ইউনিয়নের মন্নান নগর চৌরাস্তায় অবস্থিত নির্বাচনী অফিসে বসেছিলেন।

রাত ৮টার দিকে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর ১০-১২ জন সমর্থক নৌকার পক্ষে শ্লোগান দিয়ে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে অফিসের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে এবং পোষ্টার ছিঁড়ে ফেলে। এক পর্যায়ে তারা ভাংচুরের পর আমার নির্বাচনী অফিস তালা মেরে দেয় এবং নির্বাচনের শেষ না হওয়া পর্যন্ত অফিস বন্ধ রাখার হুমকি দিয়ে যায়। এচাড়াও তারা আমাকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। আমি এই মূহুর্তে প্রাণনাশের আশংকায় ভুগছি।

এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামীলীগ প্রার্থী আতাউর রহমান নাছের জানান, বিএনপি প্রার্থীর জনসমর্থন না থাকায় তিনি ও তার কর্মীরা নিজেরাই নিজেদের অফিসে ভাংচুর করে নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ফায়দা লুটার অপচেষ্টা করছেন।

সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহজাহান মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নির্বাচনী অফিস ভাংচুর এবং তালা দেওয়ার ঘটনা শুনে আমি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অফিস খুলে দিয়েছি। একই সাথে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে।

এর আগে, চেয়ারম্যান প্রার্থী নুর নবী বাবুলের নির্বাচনী প্রচারণায় এ হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

হামলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী নুর নবী বাবুলের ৭ জন কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সোমবার রাতে উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের ছনখোলা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। এসময় প্রতিপক্ষের লোকজন বিএনপি প্রার্থীর দুই প্রচারণার গাড়িতে ভাঙচুর করে।

আহতরা হলেন- সদর উপজলো যুবদল নেতা মো. গোলাম হোসনে সারোয়ার, নোয়াখালী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আজগর হোসনে, ইউনয়িন যুবদলের সাংগঠনকি সম্পাদক নুরুল ইসলাম বাবলু সহ ৭ জন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুর নবী বাবুল বলেন, আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নোয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আমার প্রচার-প্রচারণা চলছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আতাউর রহমান নাছেরের কর্মী খালেদ মোশারফ সঞ্জয়, হৃদয় খান, মো. নাঈম, রাসেল ও রাজুসহ ১০-১২ জন দেশি অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে মাইক্রোবাসযোগে এসে ইউনিয়নের ছনখোলা নামক স্থানে ধানের শীষের প্রচারণায় অতির্কিত হামলা চালায়। এতে আমার ৭ জন কর্মী আহত হয়। দু’টি প্রচারণার গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করে।

পরে খবর পেয়ে আমরা আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছি। হামলা পর রাতে আমার কর্মী-সমর্থকরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়নের মান্নান নগর চৌরাস্তায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।